পুরুষের একটি চিকিত্সাযোগ্য সমস্যা
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০১৪, ১৯:৪৬
পুরুষের একটি বিশেষ সমস্যা নিয়ে আলোচনা করব। পুরুষদের বয়স বাড়ার সাথে সাথে বিশেষ করে ৪০ বত্সরের পরে অনেকের এই সমস্যাটি প্রকাশ পেতে থাকে এই সমস্যাটি। তবে অনেকের ক্ষেত্রে আরও অল্প বয়সে এই রোগের প্রকাশ ঘটে। তবে সমস্যা দীর্ঘ মেয়াদী হলে চিকিত্সার প্রয়োজন রয়েছে। দীর্ঘ দিন এই সমস্যায় ভূগলে নীজের উপর আস্থাহীনতা স্বামী স্ত্রীর পারস্পরিক সম্পর্কেও অবনতি ঘটে। আপনার এই সমস্যা শরীরের অন্যান্য রোগ যেমন হূদরোগ, ডায়াবেটিক সহ অন্যান্য রোগের লক্ষ্যণ হিসেবে দেখা দিতে পারে তাই আপনার চিকিত্সকের পরামর্শ নেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। এই সমস্যাটির নাম হলো পুরুষের অক্ষমতা। এই রোগের নানা অসুবিধা রয়েছে। এর কোন একটিতে অসুবিধা হলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রচন্ড মানষিক চাপ ও মানসিক সমস্যা এই রোগের জন্ম দিতে পারে। অনেক সময় শারিরিক ও মানসিক সমস্যা এই রোগকে আরও জটিল করে তোলে। শারিরিক সমস্যার মধ্যে রয়েছে হূদরোগ, আথ্রোঙ্কেলোরসিস বা রক্ত নালীর সমস্যা, রক্তে উচ্চ কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্ত চাপ, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি, মেটাবেলিক সিন্ড্রোম বা উচ্চ ইনসুলিনের মাত্রা সহ উচ্চ
রক্তচাপ ও উচ্চ কোলেস্টেরল, পারকিনসন রোগ, মাল্টিপল স্কেলোরেসিস, রক্তে নিম্ন টেষ্টেরন বা লোটি সিন্ড্রোম, পেরোনিস রোগ, বেশী পরিমাণ ধুমপান, মাত্রারিক্ত মদ্যপান বা অন্য নেশায় আক্রান্ত হওয়া, প্রষ্টেট ক্যান্সারের চিকিত্সা বা বড় হয়ে যাওয়া প্রষ্টেটের চিকিত্সা সহ তলপেট বা মেরুদন্ডে অস্ত্র পাচারের পাশ্ব প্রতিক্রিয়া এই রোগে দেখা দিতে পারে। মস্তিষ্ক শারীরিক সামর্থ তৈরীর ব্যাপারে উল্লেখ্যযোগ্য ভূমিকা রাখে। মস্তিষ্কের যে সব কারণে এই রোগ দেখা দিতে পারে তার মধ্যে রয়েছে মেন্ট্রাল ট্রেস, এনজাইটি, ড্রিপ্রেশন ও পারস্পরিক রিলেসন। অন্য কোন রোগ আছে কিনা তা নির্ণয়ের জন্য রক্তের বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা ও ডুপ্লেক্স ড্রপলার আল্ট্রা সনোগ্রাম প্রয়োজন হতে পারে। চিকিত্সার মধ্যে রয়েছে এর পেছনে কোন রোগ থাকলে তার চিকিত্সা এবং ইরেক্টাইল ডিজফাংশনের জন্য রয়েছে সিলডেনাফিল, টাডানাফিল ও ভারডানাফিল জাতীয় ওষুধ। এই ৩টি ওষুধ একই রকম ভাবে কাজ করে এরা শরীরের নাইট্রিক অক্সাইডের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দিয়ে রক্তের প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়, যা আপনার অসুখ নিরাময়ে সহায়তা করে। তবে যাদের হূদরোগের জন্য নাইট্রেট গ্রুপের ওষুধ, রক্ত তরল কারি ওষুধ খান বা যাদের হাটফেইলিয়র, ষ্ট্রোক বা নিম্ন রক্ত চাপ রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এই ওষুধ ক্ষতিকর হতে পারে। এ ছাড়াও এই রোগের চিকিত্সার জন্য বিভিন্ন ধরনের ওষুধ রয়েছে। যাদের ক্ষেত্রে ওষুধ কাজ করে না তাদের জন্য শল্য চিকিত্সার প্রয়োজন হয়। এই ক্ষেত্রে অপারেশন করে পুরুষাঙ্গ পেনাইল প্রসথেসিস বা ইমপ্লান্ট লাগিয়ে দেয়া হয় যা পুরুষাঙ্গের স্বাভাবিক উথ্মানের মত কাজ করে।
ডাঃ মুহাম্মদ হোসেন
সহযোগী অধ্যাপক, ইউরোলজি বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
চেম্বার:ল্যাব এইড স্পেসালাইজড হাসপাতাল, ধানমন্ডি, ঢাকা