চট্টগ্রামে উত্পাদক ও ভোক্তার সেতু বন্ধন ‘কৃষক বাজার’
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০১৪, ২১:৩০
কৃষি পণ্য উত্পাদনকারী এবং ভোক্তাদের মাঝে সরাসরি সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০০৭ সালের দিকে চট্টগ্রামের বেশ কয়েকজন উত্সাহী ব্যক্তি ‘কৃষক বাজার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। প্রাথমিক অবস্থায় এর কার্যক্রম সীমিত পর্যায়ে ছিল। পরবর্তীতে এর কার্যক্রম ব্যপ্তি লাভ করে। বর্তমানে বৃহত্তর চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের কৃষিজাত পণ্য উত্পাদনকারীদের পণ্য সামগ্রী সরাসরি ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে ‘কৃষক বাজার’।
‘কৃষক বাজার’ নামের প্রতিষ্ঠানটির সৃষ্টির পেছনে মেজর (অব.) মোহাম্মদ সোলাইমান, মোহাম্মদ কামাল উদ্দীন, ড. সাবজাল উদ্দীন, কাজী শাহাদাত হোসেন, রোকেয়া রহমান রিপু, জাহানারা আরজুসহ আরো অনেকের বিশেষ অবদান রয়েছে। উদ্যোক্তারা বলেন, বর্তমানে বাজারে সব ধরনের ফলমূল, তরিতরকারি, মাছ, মাংস, দুধে বিষাক্ত ফরমালিন অবাধে ব্যবহূত হচ্ছে। বিষাক্ত ফরমালিন মানবদেহে নানা রোগের সৃষ্টি করছে। ভোক্তারা বাধ্য হচ্ছেন বাজার থেকে ফরমালিন যুক্ত পণ্য সামগ্রী ক্রয় করতে। তাছাড়া কৃষিজাত পণ্য উত্পাদন, ক্ষেত থেকে ভোক্তাদের কাছে আসতে কয়েক দফা বেচা-কেনা হয়। ভোক্তারা তাদের চাহিদা অনুযায়ী যেসব পণ্য সামগ্রী পায় সেগুলোর গুণগত মান বজায় থাকে না। অনেক দিনের পচাবাসি সামগ্রী ক্রয় করতে হয়। শুধু তাই নয়, এসব পণ্য সামগ্রী ক্রেতাদের বেশি দাম দিয়ে ক্রয় করতে হয়। আমরা ভোক্তা বা ক্রেতা সাধারণের কথা বিবেচনা করে সরাসরি সরবরাহের উত্পাদনস্থল থেকে সংগ্রহ করে ‘কৃষক বাজারের’ মাধ্যমে সুলভ মূল্যে তরতাজা বিষমুক্ত কৃষিজাত পণ্য সামগ্রী সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছি। তাদের এই উদ্যোগ বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বার্থ বিবেচনা করে নেয়া হয়েছে। এই কার্যক্রম পুরো চট্টগ্রাম শহরে প্রতিষ্ঠিত করে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে চান বলে জানান উদ্যোক্তারা।
বর্তমানে বৃহত্তর চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে উত্পাদিত কৃষিজাত পণ্যসামগ্রী ফলমূল, শাকসবজি, মাছ, মাংস, দুধ, ডিমসহ বিভিন্ন সামগ্রী কৃষি বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিষমুক্ত প্রমাণিত করে সাধারণ ভোক্তাদের কাছে ন্যায্য মূল্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
কৃষক বাজারের অন্যতম উদ্যোক্তা মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, আগে বৃহত্তর চট্টগ্রাম এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে কৃষিজাত পণ্য উত্পাদনকারীরা তাদের পণ্য সামগ্রী সহজে বাজারজাত করতে পারতো না। তাদেরকে বাধ্য হয়ে পাইকারি ব্যবসায়ী বা আড়তদারদের কাছে তাদের উত্পাদিত কৃষিপণ্য বিক্রি করতে হতো। এতে পণ্যের দাম বহুগুণ বেড়ে যেত। তাছাড়া পণ্য সামগ্রীর মান তেমন বজায় থাকতো না। কৃষকরাও তাদের পণ্য সামগ্রীর ন্যায্যমূল্য পেতেন না। বর্তমানে কৃষিপণ্য উত্পাদনকারীরা ‘কৃষক বাজারের’ মাধ্যমে ভোক্তাদের কাছে পণ্য সামগ্রী বিক্রি করাতে তারা লাভবান হচ্ছেন। পণ্য সামগ্রীর ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন।
‘কৃষক বাজারের’ ভবিষ্যত্ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে-কৃষিজাত পণ্য সংরক্ষণের জন্য অত্যাধুনিক হিমাগার নির্মাণ, উত্পাদনকারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ভোক্তাদের নিয়ে সেমিনার করা।