টিকিট কালোবাজারি চক্রে জড়িত ফিফা কর্মকর্তা!

বিশ্বকাপের হাজার হাজার টিকিট কালোবাজারে বিক্রির সঙ্গে একজন ফিফা কর্মকর্তা জড়িত বলে দাবি করেছে ব্রাজিল পুলিশ। দেশটির পুলিশ প্রধান বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছেন। পুলিশ কমিশনার ফ্যাবিও ব্যারুকে বলেছেন, ‘ফিফার কেউ এ কাজে জড়িত।’ এ প্রসঙ্গে ব্যারুকে এই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ না করলেও জানিয়েছেন ফিফা কর্মকর্তাটি কোপাকাবানা বিচের এই বিলাসবহুল হোটেলে অবস্থান করছেন। পুলিশ জানায়, তারা গেল সপ্তাহে এ চক্রটিকে ভেঙ্গে দিয়েছে। এ চক্র বিশ্বকাপ প্রতি নয় কোটি ডলার আয় করেছে। শুধু তাই নয় তারা চারটি বিশ্বকাপে এ কাজ করেছে। বিশ্বকাপ ফুটবলের নিয়ামক সংস্থাটির এক সদস্যের মাধ্যমে আসা সন্দেহে এসব টিকিট কালোবাজারে বিক্রির কারণে বুধবার ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ফিফাকে না জানিয়েই সংস্থাটির সাবেক প্রধানের নামে ‘অপারেশন জুলে রিমে’ হিসেবে অভিহিত এ অভিযান চালানো হয় বলে জানান পুলিশ প্রধান ব্যারুকে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ফিফার এই ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে আমরা এখন ফিফার সহযোগিতা চাচ্ছি। বিদেশি ওই ফিফা কর্তা কোপাকাবানা প্যালেস হোটেলে অবস্থান করছেন।’ ব্যারুকে জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে দুবাইভিত্তিক ফরাসি-আলজেরিয়ান মোহামাদু লামিনে ফোফানা জাল টিকিট পাচারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। ব্যারুকে বলেন, ‘তাকে গ্রেফতার করার পর আমরা বুঝতে পারলাম তার ওপর ফিফার কেউ আছে। যে কি-না মধ্যস্থকারী হিসেবে কাজ করছে। আমরা এই চক্রের শেষ ব্যক্তিটিকে পর্যন্ত শনাক্ত করতে চাই’। এদিকে ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা পুলিশের আটক করা পুনরায় বিক্রিত টিকেটগুলোর বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এ ব্যাপারে তারা পুলিশকে সহযোগিতা করবেন বলেও জানান ফিফার এক মুখপাত্র। এদিকে সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে ফিফার নিষিদ্ধের ঝুঁকিতে পড়ে গেছে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন নাইজেরিয়া। দেশটির একটি আদালত ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটিকে বরখাস্ত করার পর এমন ঝুঁকিতে পড়ে যায় নাইজেরিয়া ফুটবল। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী টামি ডানাগোগো গতকাল নাইজেরিয়া ফুটবল ফেডারেশনের (এনএফএফ) প্রশাসক হিসেবে লরেঞ্চ কাটিকেনকে নিয়োগ দিয়েছেন। গত সোমবার শেষ ষোলতে ফ্রান্সের কাছে পরাজিত হয়ে নাইজেরিয়ার বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয়ে যাওয়ার পরপরই এমন ঘটনা ঘটলো। অতীতে এমন ঘটনায় বিশ্বে বহু দেশকে ফিফা নিষিদ্ধ করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় ২০১০ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়ার পরই সে বছরও ফিফার নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়েছিল নাইজেরিয়া। সে সময় দেশটির সরকার কর্তৃক এনএফএফকের কার্যক্রম বন্ধ ও আন্তর্জাতিক সকল প্রকার প্রতিযোগিতা থেকে নাইজেরিয়া দলকে প্রত্যাহার করায় ফিফার নিষিদ্ধের ঝুঁকিতে পড়েছিলো সুপার ঈগলরা।