বৃক্ষমেলায় রেকর্ডসংখ্যক গাছের চারা বিক্রি

এবছর জাতীয় বৃক্ষমেলায় ৭ লাখ ৯৪ হাজার ১২৪টি চারা বিক্রি হয়েছে। যার বাজার মূল্য ৪ কোটি ৮৭ লাখ ৩৬ হাজার ৫৪৯ টাকা। গত বছর চারা বিক্রি হয়েছিল ৮ লাখ ২৪ হাজার ৪৭১টি। যার মূল্য ছিল ৪ কোটি ৭৬ লাখ ১৯ হাজার ২৯ টাকা। আয় ব্যয়ের এই হিসাব করেছেন মেলায় অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে আজ বিকাল ৪টায় বন ভবনে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে জাতীয় বৃক্ষমেলা। অনুুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। ‘অধিক বৃক্ষ, অধিক সমৃদ্ধি’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে গত ৫ জুন রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শুরু হয় এই বৃক্ষমেলা। মাসব্যাপী চলা এ মেলায় গাছের চারা বেচা কেনার পাশাপাশি দর্শনার্থী ও ক্রেতারা মাসব্যাপী উপভোগ করেছেন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মেলা প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক মঞ্চ ছিল এবারের মেলায় নতুন সংযোজন। মেলায় আগত ক্রেতা, দর্শনার্থী ও বিক্রেতারা বৃক্ষ রোপণে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে লোকজ সাংস্কৃতিক পালা গান, জারি গান, নাটিকা ইত্যাদির আয়োজন করা হয়েছিল। এছাড়া পরিবেশ ও কৃষির উপর নানা তথ্য চিত্র প্রদর্শনী করা হয়। এদিকে বেচা কেনা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে মেলা চলাকালীন সময় ছিল অতিবৃষ্টি। অনেক ক্রেতারাই মেলা প্রাঙ্গণে আসতে আগ্রহ দেখাননি। নিয়ম অনুযায়ী মেলার শেষের দিকে বেচা বিক্রি বেড়ে যায়। কিন্তু রমজান শুরু হওয়ার কারণে শেষের দিকে বেচা বিক্রি আশানুরূপ ছিল না বলে মনে করেছেন তারা। বিএডিসি স্টলের বিক্রেতা শেখ ওয়াহিদুর রহমান জানান, গত বছরের চেয়ে এবার বেশি বিক্রি হয়েছে। নতুন জাত, সুলভমূল্য, সঠিক জাত নিশ্চিত করাই ছিল বেশি বিক্রির প্রধান কারণ। গাছের চারার পাশাপাশি ভালো বিক্রি হয়েছে সার, কীটনাশক, বীজ ও অন্যান্য কৃষি সরঞ্জাম। এ সি আই ফার্টিলাইজার স্টলের বিক্রেতা স্বপন রায় জানান, বেচা বিক্রি দেড় লাখ ছাড়িয়ে গেছে। যা গত বছর ছিল এক লাখের মত। এদিকে শেষ সময়ে বেচা-বিক্রিতে অসম প্রতিযোগিতায় নেমেছেন বিক্রেতারা। গতকাল সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকায় মেলা প্রাঙ্গণে বৃক্ষপ্রেমীদের সমাগম সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। বিক্রিও হয়েছে ভালো। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন নার্সারিতে দেয়া হয়েছিল বিভিন্ন ধরনের ছাড়। একটি চারা কিনলে একটি ফ্রি, সাথে ফল, ফুল, ফলের গাছের সাথে ফুলের গাছ ফ্রি। আবার অনেক বিক্রেতা শেষ সময়ে দামেও ছাড় দিয়েছেন।