সুবীর চৌধুরীকে শিল্পী সমাজের শেষ শ্রদ্ধা

চোখের জলে, গভীর বিষাদের সঙ্গে সুবীর চৌধুরীকে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন দেশের শিল্পী সমাজ। বাংলাদেশের শিল্পচর্চাকে সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়া, শিল্পের বাজার সম্প্রসারণ এবং দেশের শিল্পকে বহির্বিশ্বে তুলে ধরতে সুবীর চৌধুরী আজীবন নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। শিল্পের প্রতি নিবেদিত প্রাণ এই ব্যক্তির মৃত্যুতে তাই শিল্পী সমাজের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সবাই ফুলেল শ্রদ্ধায় শেষ বিদায় জানালেন এই কৃতী ব্যক্তিত্বকে। উল্লেখ্য, গত ৩০ জুন অস্ট্রেলিয়ায় চিকিত্সাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তিনি মস্তিষ্কের শিরায় ক্যান্সারজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন। শুক্রবার দুপুরে সুবীর চৌধুরীর মরদেহ ঢাকায় পৌঁছালে বিকাল ৩টায় তার কর্মস্থল ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে নিয়ে আসা হয়। সেখানের শিল্পী, লেখক, বন্ধু, সুহূদ ও সংস্কৃতিজনসহ সর্বস্তরের মানুষ তাঁকে অন্তিম শ্রদ্ধা জানান। আজ শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর পৌনে ১ টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ এবং দুপুর সোয়া দুইটা থেকে পৌনে ৩টা পর্যন্ত শিল্পকলা একাডেমিতে তাঁর মরদেহ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। এরপর সবুজবাগ শ্মশানঘাটে সুবীর চৌধুরীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তাঁর মৃত্যুতে দেশের শিল্পীদের মাঝে গভীরশোক বিরাজ করছে। শোকে মুহ্যমান বরেণ্য শিল্পী কাইয়ূম চৌধুরী তাই সুবীর চৌধুরী সম্পর্কে কোন কথাই বলতে পারলেন না। শিল্পী রফিকুন নবী বললেন, সুবীর শিল্পকলার জগতে এক ভিন্নমাত্রার ব্যক্তিত্ব ছিলেন। অতুলনীয়ও বটে। তার সাংগঠনিক ক্ষমতা ছিল অসাধারণ। শিল্পকলার আজ যে ব্যাপ্তি ও প্রসারতা — বেঙ্গলকে অবলম্বন করে সে একের পর এক কাজ করে গেছেন। দেশের শিল্পের বাজার প্রসারে এবং বিশ্বজুড়ে দেশের শিল্পকলাকে তিনি দ্রুততার সঙ্গে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বললেন, সুবীরের শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। বাংলাদেশের শিল্পকলার প্রসারে তার অবদান অনস্বীকার্য। এছাড়া গতকাল সুবীর চৌধুরীকে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, জাহানারা আবেদিন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী, শিল্পী রেজাউল করিম, শিল্পী মাহমুদুল হক, এনাম আহমেদ চৌধুরী, কূটনীতিক ফারুক চৌধুরী, আয়শা খানম, শিল্পী আজাদ রহমান, সমরজিত্ রায় চৌধুরী, স্থপতি রবিউল হুসাইন, শিল্পী শবনম মুস্তারী, ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, মানবাধিকার কর্মী মালেকা খানম, গ্যালারি কায়ার পরিচালক শিল্পী গৌতম চক্রবর্তী, শহীদ কবির, ফরিদা জামান, দৃক এর পরিচালক শহিদুল আলম, বীরেন সোম, হামিদুজ্জামান খান, আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুন, সৈয়দ জাহাঙ্গীর, কনক চাঁপা চাকমা, খালিদ মাহমুদ মিঠু, সুবীর চৌধুরীর সবসময়ের সাথী সায়মন রবার্ট পেরেরা, শেখ আফজাল, অভিনেত্রী বিপাশা হায়াত, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মনজুরুর রহমান, শিল্পী সুমনা হক, চিত্র সমালোচক সৈয়দ আজিজুল হক প্রমুখ।