মহেশখালীতে পাহাড়
ধসের আশঙ্কা
আবুল বশর পারভেজ, মহেশখালী (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০১৪, ২২:০০
আষাঢ়ের ভারি বর্ষণে মহেশখালী উপজেলায় ধসের আশংকায় রয়েছে পাহাড়ে বসবাসকারীরা। চলিত মাসের শুরু থেকে মহেশখালীতে টানা বৃষ্টি হওয়ার ফলে যে কোন মুহূর্তে পাহাড় ধসে প্রাণহানির আশংকা করছে স্থানীয়রা। সাপ্তাহ ধরে টানা বর্ষণের কারণে উপজেলার কালারমারছড়া ঝাপুয়া এলাকায় পাহাড় ধসে ২ বসতবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। স্থানীয়দের সাবধানতার কারণে কোন প্রাণহানি হয়নি বলে জানান এলাকার জনপ্রতিনিধিরা।
মহেশখালী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় হাজার হাজার পরিবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। সমপ্রতি পাহাড় ধসের পরও থেমে নেই সরকারি জায়গা দখলের কাজ। মহেশখালীর জনপদে এক চতুর্থাংশ পাহাড়ী এলাকা, এর আশেপাশে বসবাস। জনগণ প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পাহাড় কেটে বাড়ি ভিটা,পানের বরজ, ধানচাষের জমি বানিয়ে ধ্বংস করে দিচ্ছে দীপাঞ্চলীয় মহেশখালীর পাহাড়ী এলাকা।
মহেশখালীর ৫টি ইউনিয়নের ভূ-সীমানায় রয়েছে বিশেষ পাহাড়ী অঞ্চল, কালারমার ছড়া, শাপলাপুর, হোয়ানক, ছোট মহেশখালীও বড় মহেশখালীর ভৌগোলিক অংশেই মূলত মহেশখালীর পাহাড় অবস্থিত। যেখানে রয়েছে ছড়া ও ছোট ছোট খাল। ছড়াগুলি পাহাড়ের চুড়া হতে সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। যার ফলে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ের পানি ছড়া ্ও খাল বেয়ে নদীতে চলে আসে। কিন্তু পাহাড়খেকো ভূমি দস্যুরা বিশাল বনভূমিকে গ্রাস করার ফলে বৃষ্টির পানির স্রোতে পাহাড়ের খালগুলোতে মাটি ভরাট হচ্ছে। যার কারণে বালি-দোআঁঁশ মাটিতে গড়া পাহাড় অতিরিক্ত পানি শোষণের কারণে নরম হয়ে পড়ে। পাহাড়ের মাটি কাটার কারণে একদিকে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে অন্যদিকে পাহাড়ের মাটি সরে গিয়ে ছড়া,খাল,নদী ও সাগরের গভীরতা হ্রাস হচ্ছে। ফলে পাহাড়ের পানি পড়ছে বসতভিটার উপর। পাহাড় কাটা, বন কাটা, প্যারাবন নিধন বিষয়ে প্রশাসন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অচিরেই পাহাড় ধবংস হয়ে যাবে।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রবল বৃষ্টির সময় পাহাড়ী এলাকায় বসবাসরত পরিবারে পুরুষের সাথে পাল্লা দিয়ে মহিলারা কোমর বেঁধে পাহাড় কাটার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। হোয়ানক, কালারমার, ঝাপুয়া, ছড়া, শাপলাপুর ছোট মহেশখালী, বড় মহেশখালীর এ জায়গায় মূলত মহেশখালীর শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ও ধনাঢ্যব্যক্তিরা এসব সরকারি পাহাড়কে নিজেদের দখলে নিয়ে কিছু অসহায় মানুষকে রায়তী হিসাবে বসবাস করার সুযোগ দিয়েছে। কিছু কিছু পাহাড়ী জায়গায় রোহিঙ্গা জনবসতি গড়ে তুলেছে এই প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। ১২নং খতিয়ানের পাহাড়ী জমি বেচাবিক্রির মাধ্যমে জবরদখলের রাজত্ব চলে আসছে বহুদিন থেকে। বর্তমান পরিস্থতিত্বে মহেশখালীতে বড় মহেশখালীর শুকুরিয়া পাড়া, হোয়ানকের জৈয়ের কাটা, পানিরছড়া, মহুরাকাটা, কেরুনতলী, রাজুয়ার ঘোনা ও বড়ছড়া পাহাড়ী এলাকায়, কালারমারছড়ার বড়ুয়া পাড়া, উত্তর নলবিলা, ঝাপুয়া, চিকনিপাড়া, নয়াপাড়া, ফকির জোমপাড়া, অফিস পাড়া, আধারঘোনা ও মিজ্জিরপাড়া, শাপলাপুরের, কায়দাবাদ
চালিয়াতলী, মুকবেকী, জেমঘাট, বদোরপাড়া, লইল্যরছড়া, বারিয়া পাড়া, ছোট মহেশখালীর বছিরাখোলা, বড়খোলা, লম্বাঘোনা, উম্বিনিয়াপাড়া, ঠাকুরতলা, আহমদিয়াকাটা, মুদিরছড়া ইত্যাদি এলাকায় বনবিভাগের অসাধু কর্মচারীদের টাকার মাধ্যমে ম্যানেজ করে পাহাড় নিধনের মহোত্সব চলছে।