ঈদকে ঘিরে চট্টগ্রামে সক্রিয় জাল টাকার ব্যবসায়ীরা

ঈদ সামনে রেখে বন্দরনগরীতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে জাল টাকার ব্যবসায়ীরা। ঈদ উপলক্ষে জমজমাট বিভিন্ন মার্কেটে কেনাবেচার সময় সবার অজান্তেই হাতবদল হচ্ছে জাল টাকা। মার্কেটের ভিড় যত বাড়বে জাল টাকা হাতবদলের ঘটনাও তত বাড়বে। মার্কেট ছাড়াও বিভিন্ন কল কারখানায় শ্রমিকদের বেতন ও ঈদের বোনাস প্রদান, যানবাহনের ভাড়া, কাঁচাবাজারে কেনাকাটা এমনকি সন্ধ্যায় ইফতার সামগ্রী কেনাবেচার সময়ও বিস্তর জাল টাকা হাতবদল হচ্ছে। কী পরিমাণ জাল টাকা বাজারে রয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে নেই। ব্যাংক ছাড়া অন্যান্য স্থানে জাল টাকা ধরা পড়ার সুযোগ থাকে কম। এছাড়া দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় জাল টাকা ব্যবহারের বিপদ সম্পর্কে সাধারণ মানুষও তেমন একটা সচেতন নয়। তাই জাল টাকা ছড়িয়ে পড়ছে শহরের আনাচে কানাচে। নগর গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লেনদেনের যে সব পয়েন্টে ভিড় থাকে জাল টাকা হাতবদল হয় সেই স্থানগুলোতেই। নগরীর ঈদ মার্কেটগুলোতে জাল টাকা সরবরাহ করছে বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেট। বিভিন্ন সময়ে পুলিশের অভিযানে এসব সিন্ডিকেটের সদস্যরা ধরা পড়লেও আইনের ফাঁক দিয়ে অতি অল্প সময়ে ছাড়া পেয়ে যায় তারা। ফলে এসব সিন্ডিকেটকে সমূলে ধ্বংস করা যাচ্ছে না। মার্কেট কেন্দি ক এসব চক্র সারা বছর সক্রিয় থাকলেও ঈদ, পূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উত্সবকে কেন্দ করে তারা চাঙ্গা হয়ে ওঠে। জানা গেছে, জাল টাকা ছাপানোর পর তা বিশ্বস্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরীসহ আশেপাশের জেলাগুলোতে পাঠানো হয়। প্রতি ১০০ টাকার বিনিময়ে প্রতিনিধির কাছ থেকে পাওয়া যায় ৫০ টাকা। এরপর প্রতিনিধিরা তাদের সুবিধাজনক স্থানে স্বল্প আয়ের লোকদের টার্গেট করে এসব জাল টাকা বাজারে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। তাদের কাছে শতকরা ২০ থেকে ৩০ টাকা মুনাফায় জাল টাকা বিক্রি করা হয়। ঘনবসতিপূর্ণ ও ঘিঞ্জি এলাকায় জাল টাকা ছড়ানো সহজ হওয়ায় চক্রের তত্পরতা সেসব স্থানে বেশি পরিলক্ষিত হয়। মাছওয়ালা, শাকসবজি বিক্রেতা, ট্যাক্সিচালক, রিকশাচালকদের হাতে জাল টাকা গছিয়ে দেয়া কঠিন কোন কাজ নয়। ভাংতির কথা বলে জাল টাকা হাতবদল করা হয়। ভিড়ের মধ্যে বাসের হেলপারকে ভাড়া দিতে গিয়ে এ ধরনের টাকা ধরিয়ে দেয়া হয়। মার্কেটেও জাল টাকা ছড়ানো সহজ। বিশেষ করে রাতের বেলায় মার্কেটগুলোতে জাল টাকা ছড়ানো হয় সবচেয়ে বেশি। কারণ দিনের বেলায় আসল টাকার জলছাপ যতটা স্পষ্ট দেখা যায় রাতের বেলা সেভাবে দেখা যায় না। অনেক সময় ব্যস্ততা ও তাড়াহুড়োর কারণেও জাল টাকা সনাক্ত করা যায় না। কখনো কখনো মার্কেটে জাল টাকা ধরা পড়ে। তবে সংশ্লিষ্ট দোকানদার খদ্দেরকে বিব্রত করতে চান না। তাই জাল টাকা পেলেও আইনি পথে না গিয়ে দোকানদার খদ্দেরকে নোটটি ফিরিয়ে দিয়ে আসল টাকা দিতে বলেন। এ প্রসঙ্গে সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. বাবুল আক্তার ইত্তেফাককে বলেন, জাল টাকার ব্যবসার পেছনে শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। এই সিন্ডিকেট ঈদ, রোজাসহ বিভিন্ন উত্সবের সময় সক্রিয় হয়ে ওঠে। মফস্বলভিত্তিক প্রতিনিধির মাধ্যমে নির্ধারিত কমিশনের ভিত্তিতে জাল টাকা হাতবদল হয়। তিনি বলেন, জাল টাকা সঙ্গে রাখার শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। তাই মানুষকে টাকা লেনদেনের সময় তাড়াহুড়া না করে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।