সালাম মুর্শেদির কলাম

নিজেদের ফিরে পাবার চ্যালেঞ্জ আর্জেন্টিনার

সময় যত গড়াবে, কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠবে চ্যালেঞ্জ এটা সহজ ব্যাপার। তবে, বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে আজ রাতের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে সমীকরণটা একটু ভিন্নভাবে দেখছি আমি। আমার মনে হয়, বেলজিয়াম নয়, মাঠে আর্জেন্টিনার মূল লড়াইটা হবে তাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই। চ্যালেঞ্জটা থাকবে নিজেদের সেরা রূপে ফেরার, লিওনেল মেসির উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমানোর। জয়ের জন্য একক কোন ব্যক্তির মুখাপেক্ষী না থেকে, দলগত খেলার মান বাড়ানোর। সেক্ষেত্রে খুব সহজ হয়ে যাচ্ছেসমীকরণটা। আলবাসিলেস্তারা যদি সেটা করতে পারে, কোন সন্দেহ নেই বেলজিয়ামকে হারাতে যাচ্ছে তারা। আর যদি সেটা না হয়, বড় মাসুল গুনতেও হতে পারে তাদের। পাঠক বুঝতেই পারছেন, নক আউট রাউন্ডে বড় মাসুল বলতে আমি কি বোঝাতে চাচ্ছি! এদিকে রাতের অন্য ম্যাচে শক্তিশালী নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হচ্ছে উঠতি শক্তি কোস্টারিকার। মধ্য আমেরিকার এই দেশটির প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, যদি কোন অঘটন না ঘটে তাহলে নেদারল্যান্ডসই সেমিফাইনাল খেলতে যাচ্ছে। কারণ, সেরা ফর্মের আরিয়েন রোবেন-ওয়েসলি স্নাইডারদের থামানোর মতো খেলোয়াড় তাদের নেই। ইউরোপিয়ান অঞ্চল থেকে সবার আগে বাছাইপর্বের বাঁধা উত্রানো, এক ঝাঁক তারকা খেলোয়াড়ের উপস্থিতি এবং দলীয় সমন্বয়। এই বিশ্বকাপে বেলজিয়ামকে ‘ডার্ক হর্স’ করার পেছনে সবচেয়ে বড় যুক্তি ছিল এটাই। তবে টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে রেড ডেভিলদের খেলা আশার তুলনায় কমই মন ভরাতে পেরেছে। আমি বলেছিলাম, নিজেদের খেলার মান বাড়াতে না পারলে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শেষ ষোলোর ম্যাচে হারতে হতে পারে তাদের। সত্যি সত্যিই ঐ ম্যাচে ঘুরে দাড়ায় বেলজিয়াম। জয়ের ব্যবধানটা বড় না হলেও, ম্যাচের প্রচুর সুযোগ সৃষ্টি করে তারা। যদিও টিম হাওয়ার্ডের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সে শেষ পর্যন্ত সেগুলোর মাত্র দুটিকে গোলে পরিণত করতে সক্ষম হয় তারা। আমার কাছে যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে, সেটা আত্মবিশ্বাস। এ ধরনের একটা ম্যাচ যে কোন দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে। রোমেলো লুকাকু, ইডেন হ্যাজার্ড, ভার্টেনগ্যানরা অনেক বেশী উজ্জীবিত থাকবেন আজ। বেলজিয়ামের এই দলটাকে শক্তিশালী বলার পেছনে আরেকটি যুক্তি হচ্ছে তাদের রিজার্ভ বেঞ্চ। দলটির রিজার্ভ বেঞ্চ এতটাই শক্তিশালী যে, আর্সেনাল অধিনায়ক টমাস ভারমালেনকে বসে থাকতে হচ্ছে সেখানে! আমার মনে হয় তাদের দলের শক্তিমত্তা বোঝাতে এই একটি তথ্যই যথেষ্ট। রিজার্ভ বেঞ্চকে এতটা গুরুত্ব দেয়ার কারণ হচ্ছে, ম্যাচটি শুরু হবে দিনের বেলায়। খেলোয়াড়রা অতি দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যাবেন। অতিরিক্ত কিছু খেলোয়াড় থাকলে, কোচ অতিরিক্ত সময়ে হাতে কার্যকর কিছু অস্ত্র পাবেন। তবে বেলজিয়াম যতই শক্তিশালী হোক, আর্জেন্টিনা নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারলে বেলজিয়ামকে অনায়াসে হারানোর ক্ষমতা তাদের আছে। দুই বারের বিশ্বকাপজয়ী একটা দল তারা। ফুটবল ঐতিহ্য কিংবা অভিজ্ঞতায় বেলজিয়ামের সাথে তুলনাই চলে না তাদের। কিন্তু, বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দলটির পারফরম্যান্সই সমর্থকদের মনে নেতিবাচক ভাবনার উদয় ঘটাচ্ছে। আর্জেন্টিনা সমর্থকদের চিন্তা দূর করার দায়িত্ব মেসিদের হাতেই। এখন পর্যন্ত যে আর্জেন্টিনাকে আমরা দেখেছি, সেটা ছিল খুব বেশী মেসি নির্ভর। দলের সাতটি গোলের চারটিই এসেছে মেসির পা থেকে। বাকি তিনটি গোলেই মেসির প্রভাব ছিল স্পষ্ট। একক কোন খেলোয়াড়ের উপর এতটা নির্ভরতা নিয়ে আর্জেন্টিনা কত দূর যেতে পারবে আমি সত্যিই সন্দিহান। তবে মেসির বিষয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। তিনি এ যুগের তো বটেই, সর্বকালের অন্যতম সেরা। একক নৈপুণ্যে ম্যাচ বের করে নেয়ার ক্ষমতা তার আছে। তবে, ভিনসেন্ট কোম্পানির জমাট রক্ষণের ফাঁক গলে সেটা হয়তো কঠিন হবে। অন্যদিকে, কোস্টারিকাকে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে নির্ভর করতে হবে তাদের দলীয় সমঝোতার উপর। সল ক্যাম্পবেল বাদে অন্য কোন বড় তারকা না থাকায় তাদের ভাল খেলাটা নির্ভর করবে সমন্বয়ের উপর। যদি তারা সমন্বিত ভাবে ভাল খেলতে পারে, সেক্ষেত্রে ডাচদের বিরুদ্ধে তাদের কিছুটা সুযোগ থাকছে। তবে দুরন্ত ফর্মে থাকা কমলা জার্সিধারীদের বিরুদ্ধে কতটা কাজে আসবে আমার সন্দেহ আছে। গোলরক্ষক, রক্ষণ, মাঝমাঠ, আক্রমণ প্রতিটি বিভাগে অসাধারণ কিছু খেলোয়াড় আছে নেদারল্যান্ডসে। যারা কিনা একক কৃতিত্বে ম্যাচে ব্যবধান করে দেয়ার ক্ষমতা রাখেন। এমনকি সাইডলাইনে যিনি থাকছেন, সেই কোচ লুইস ফন গলেরও আছে সুদীর্ঘ এবং বর্ণাঢ্য এক কোচিং ক্যারিয়ার। গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্তে ম্যাচে ভূমিকা রাখতে পারেন তিনিও। সবদিক মিলে আমি বলবো ডাচরাই ফেভারিট আজ।