মেডিকেল শিক্ষার্থী হবার প্রস্তুতিমূলক পরামর্শ
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০১৪, ১৯:৫৯
ডা. মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন
চেয়ারম্যান, ঈস্টওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটাল, আপডেট ডেন্টাল কলেজ, ঈস্টওয়েস্ট নার্িসং ইনস্টিটিউট ও আইচি জেনারেল হসপিটাল, ঢাকা
তোমার আগ্রহ কি মেডিকেলেই ?
শেষ হল এইচএসসি পরীক্ষা। এবার অপেক্ষা ফলাফল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির। ফলাফলের ভিত্তিতে কেউ ডাক্তারি, কেউ ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা কেউ বিজনেস স্ট্যাডিজ বা অন্য কোন বিষয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছ। সময়ের সাথেসাথে ঘনিয়ে আসছে পরীক্ষার দিন ক্ষণ, সেই সাথে বাড়ছে উত্তেজনা ও স্নায়ুবিক চাপ। যদিও সময় ধরে পরিকল্পিত ভাবে অগ্রসর হলে এত চাপ বা নিদ্রা ভগ্ন হওয়ার কিছু নেই। তবে আগে জানা দরকার, তুমি আসলেই কি ডাক্তারি পড়তে চাও, নাকি এটি তোমার বাবা মায়ের ইচ্ছা পুরনের সিদ্ধান্ত ? বিশেষ করে অভিভাবকদের বলবো, দয়া করে আপনারা বাচ্চাদের মতো এমন অবাস্তব বায়না ধরা থেকে বিরত থাকুন এবং আবেগতাড়িত হয়ে অন্তত এসব বিষয় ছেলে মেয়েদের উপর চাপিয়ে দিবেন না। জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন এসব সিদ্ধান্ত ওদেরকেই নিতে দিন। এ জাতীয় সিদ্ধান্তও প্রস্তুতি নিতে হবে সংশ্লিষ্ট সাবজেক্ট এর প্রতি আগ্রহ ও ফলাফলের ভিত্তিতে। ভেতর থেকে আগ্রহ না থাকলে ডাক্তারি পড়তে অত্যাবশ্যকিয় বিষয়ে যেমন কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আসবেনা, তেমনি আসবেনা ভর্তি পরীক্ষায়ও। তোমার আগ্রহ যদি অন্য বিষয়ে থাকে, তবে সেটা বাবা-মার সঙ্গে আলোচনা করে সে বিষয়েই পূর্ণ মনোযোগের সঙ্গে লেখাপড়া ও উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নেয়া ভালো। সুতরাং মেডিকেলে বা অন্য কোন বিষয়ে পড়তে চাওয়ার ইচ্ছেটা ভেতর থেকে আসতে হবে। আর ভর্তি পরীক্ষার নিয়ম কানুন, বিশেষকরে কোন প্রশ্নোত্তর কিভাবে লিখলে ভালো নাম্বার উঠবে, কোন পাঠ্য কিভাবে পড়বে, এমনকি দৈনিক ন্যুনতম কতটা সময় পড়বে, এসব তথ্যাদি, হিসেব-নিকেশ বা কৌশল জেনে নিয়ে একটু শ্রম দিলে দেখবে শেষমুহূর্তের এই শ্রম সাধনা তথা ধৈর্য্যই তোমার সারা জীবনের হিসেব নিকেশ পাল্টে দিবে। পাশাপাশি আর একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখবে. প্রত্যাশিত কোথাও ভর্তি হতে পারনি বলে যে, তোমার ভবিষ্যত্ অন্ধকার হয়ে গেল’ এমনটি মোটেই ঠিক নয়। বরং সামনে তোমার জন্য হয়তো উত্তম কিছুই অপেক্ষমান। এটা অভিভাবকদেরও মনে রাখতে হবে।
যারা চিকিত্সক হওয়ার স্বপ্ন দেখছো, তারা যাতে স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পার তাদের উদ্দেশ্যে মেডিকেলে ভর্তি সংক্রান্ত সর্বশেষ নিয়ম কানুন সহ বিভিন্ন পরামর্শ এখানে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করি কাজে আসবে তোমাদের।
সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির যোগ্যতা:
কেবল ২০১৩ ও ১৪ সালের এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা এবারের ২০১৪ এর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় অবশ্যই বিজ্ঞান বিভাগ থেকে কৃতকার্য হতে হবে।
এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষা মিলিয়ে জিপিএ ৮.০০ পেতে হবে।
এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় জীববিজ্ঞান বিষয়সহ অবশ্যই ৩.৫০ (জি.পি.এ) থাকতে হবে।
ভর্তি পরীক্ষার সময় খুবই সীমিত, বিশেষকরে মেডিকেল বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে। পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞানের মোট ৬ টি বইয়ের খুঁটিনাটি মাথায় রাখাটা অত্যাবশ্যক।
বিষয়ভিত্তিক পড়ার টেকনিক:
সাধারণ জ্ঞান: সাধারণ জ্ঞান বই থেকে বাংলাদেশ বিষয়াবলি এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি দেখে নাও। এই বইটির শেষে বিসিএস, পুলিশে ভর্তি, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ইত্যাদি যত প্রশ্ন আছে, সব মুখস্ত করে ফেলো।
ইংরেজি: ইংরেজির গ্রামারে নজর দিতে হবে। বিশেষকরে বিগত বছরগুলোর মেডিকেল ও ডেন্টাল প্রশ্নপত্র থেকে ইংরেজী প্রশ্নগুলো (যেমন Voice, Narration, Synonym ইত্যাদি), সমাধান করার পাশাপাশি ভালো কোন গ্রামার বই থেকে ওই বিষয়গুলো আরও বিস্তারিত পড়তে হবে।
পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও গাণিতিক সমস্যা: পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও গাণিতিক সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য বিগত দশ বছরের মেডিকেল এবং ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নোত্তর মুখস্ত করতে হবে। প্রতিদিন ২০০ প্রশ্নের উত্তর গাইড বই দেখে দাগিয়ে সোজা মুখস্ত করে ফেলতে হবে এবং বিগত দশ বছরের এই প্রশ্ন সম্ভার বার বার রিভিশন দিতে হবে।
গাণিতিক সমাধান:
পদার্থ ও রসায়নের গাণিতিক সমস্যাগুলোর সমাধানে আন্তরিক হতে হবে। বারবার অনুশীলনের মাধ্যমেই সম্ভব এই সমস্যার সমাধান করা। ফলে সমাধানকৃত সমস্যাগুলোর উপর চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। সেটা ধৈর্য্য ধরে যতবার সম্ভব ততবারই করতে হবে।
পরবর্তী অংশ আগামীকাল