প্রথমবারের মত রেমিট্যান্স প্রবাহে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি

প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ধারায় প্রথমবারের মত নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এর আগে প্রতি অর্থবছরেই আগের অর্থবছরের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০১৩-২০১৪ অর্থবছর প্রবাসীরা যে পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছেন আগের অর্থবছরের তুলনায় তা ২৩ কোটি ডলার বা এক দশমিক ৬১ শতাংশ কম। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্য পর্যালোচনায় এমনটি দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের তথ্যে দেখা গেছে, বিদায়ী অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় শেষদিকে এসে পরিস্থিতির খানিকটা উন্নতি হয়েছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশে জনশক্তি রফতানি কমার কারণে রেমিট্যান্স কমেছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ডলারের বিপরীতে টাকার মান একই রকম থাকায় ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বেড়ে রেমিট্যান্স কমেছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত অর্থবছর প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট এক হাজার ৪২৩ কোটি ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়েছেন। আগের অর্থবছরের একই সময়ে তারা পাঠিয়েছিলো এক হাজার ৪৪৬ কোটি ডলার। এ হিসাবে এক বছরে রেমিট্যান্স কমে এসেছে ২৩ কোটি ৩৬ লাখ ডলার যা এক দশমিক ৬১ শতাংশ। তার আগে ২০১১-১২ অর্থবছর রেমিট্যান্স এসেছিলো এক হাজার ২৮৪ কোটি ডলার, তার আগের অর্থবছর এসেছিলো এক হাজার ১৬৫ কোটি ডলার, তার আগে ২০০৯-১০ অর্থবছরে যা এক হাজার ৯৯ কোটি ডলার ছিলো। অর্থাত্ প্রতি অর্থবছরেই তার আগের তুলনায় রেমিট্যান্স বেশি ছিলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাসভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, গত অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইতে রেমিট্যান্স এসেছিলো ১২৩ কোটি ৮৪ লাখ ডলার। পরে আগস্টে রেমিট্যান্স এসেছে ১০০ কোটি ৫৭ লাখ, সেপ্টেম্বরে ১০২ কোটি ৫৬ লাখ ডলার, অক্টোবরে ১২৩ কোটি ৬ লাখ, নভেম্বরে ১০৬ কোটি ১৪ লাখ এবং ডিসেম্বরে ১২১ কোটি ২ লাখ ডলার এসেছে। এরপর জানুয়ারিতে ১২৬ কোটি ৬ লাখ, ফেব্রুয়ারিতে ১১৭ কোটি ৩১ লাখ, মার্চে ১২৮ কোটি ৮৬ লাখ, এপ্রিলে ১২৩ কোটি ৫ লাখ, মে মাসে ১২১ কোটি ৫৮ লাখ আর শেষ মাস জুনে এসেছে ১২৮ কোটি ৬৩ লাখ ডলার।