বকশীগঞ্জে একটি ব্রিজের অভাবে ৫০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ
শাহীন আল আমীন, বকশীগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০১৪, ২১:১৬
একটি ব্রিজের অভাবে দু’যুগ যাবত্ ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছে বকশীগঞ্জের ৮ গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। বিভিন্ন সময়ে পারাপারের সময় পড়ে গিয়ে মারা গেছে ৩ জন। আহত হয়েছে কমপক্ষে অর্ধশত। জানা গেছে, ১৯৮৬ সালে উপজেলা সদর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে নিলাক্ষীয়া ইউনিয়নের পাগলাপাড়া সড়কের খালের উপর এলজিইডির নির্মিত সেতুটি ১৯৮৮ সালের বন্যায় সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়। ফলে উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে উপজেলার নিলাক্ষীয়া, মেরুরচর ইউনিয়ন ও ইসলামপুর উপজেলার ৮টি গ্রাম। উপজেলা সদরসহ আশপাশের এলাকার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় ওই এলাকার ৮ গ্রামের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ প্রায় একযুগ ধরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। নিজেদের উদ্যোগে তৈরি করা প্রায় একশ’ মিটার লম্বা নড়বড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোই শতশত স্কুল-কলেজগামী ছেলে-মেয়েসহ ৫০ হাজার লোকের একমাত্র অবলম্বন। বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপারের সময় পড়ে গিয়ে পাগলাপারা গ্রামের হায়দর আলীর ছেলে ছামিজল, আমল হকের ছেলে ছোরহাব আলী, আনার আলীর ছেলে ইব্রাহীম মারা যায়। আহত হয়েছে প্রায় অর্ধশত। গুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে না পারায় এলাকার হাজারো মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্য সুবিধাসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কৃষক তাদের উত্পাদিত ফসল হাট-বাজারে নিতে না পারায় ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ২৬ বছর যাবত্ চেয়ারম্যান, এমপি, মন্ত্রীর কাছে ঘুরেও তারা গুরুত্বপূর্ণ এ সেতু নির্মাণে কোন ব্যবস্থা করতে পারেননি। পাগলাপারা গ্রামের বাসিন্দা আনারকলি বলেন, এ বাঁশের সাঁকোর ওপর থেকে পড়ে আমার বড়ভাই সোরহাব আলীর মৃত্যু হয়। তিনি ভ্যানগাড়ি চালিয়ে তার দুই সন্তান ও স্ত্রীর ভরণ-পোষণ চালাতেন। এখন তার দুই সন্তান টাকার অভাবে লেখা-পড়া করতে পারছে না।
বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী এ,কে,এম হেদায়েতউল্য¬াহ বলেন, ওই খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে নির্মাণ কাজ শুরু হবে।