কাঁদলেন যুবরাজ, কাঁদলো কলম্বিয়া!

নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই করেছিলেন তিনি। পেনাল্টি থেকে গোল করেছেন। অ্যাসিস্ট করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু একা তো আর সেমিফাইনালে দলকে নিয়ে যাওয়া যায় না। আর সামনে যে প্রতাপশালী ব্রাজিল। তাই লাতিনদের প্রিয় হামেস রড্রিগেজ তাই পরাজিত দলে। কান্না নিয়ে বিদায় নিলেন তিনি, তার সাথে কাঁদলো গোটা কলম্বিয়াও। ২-১ গোলের হার নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ছিটকে পড়লো কলম্বিয়া। ম্যাচ শেষ হতে না হতেই আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না ২২ বছর বয়সী রড্রিগেজ। সতীর্থরা এগিয়ে গেলেন। কিন্তু অশ্রু যে বাধনহারা, যেন হারিয়ে গেছে কোন নিকটাত্মীয়। এগিয়ে গেলেন প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রা। ডেভিড লুইজ, মার্সেলো, ড্যানি অ্যালভেজরা সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করলেন। হয়তো বলতে চাইলেন, ‘ম্যাচটা হয়তো আমরাই জিতেছি। কিন্তু সবার মন জয় করে নিয়েছো তুমি।’ শেষ হয়ে গেল কলম্বিয়ার স্বপ্নের দৌড়। সেমিফাইনালে জার্মানির মুখোমুখি হবে লুই ফিলিপ স্কোলারির দল। কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের হয়ে গোল করেন থিয়াগো সিলভা এবং ডেভিড লুইজ। কলম্বিয়ার গোলদাতা সেই চিরচেনা জেমস রড্রিগেজ। এই নিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে ষষ্ঠ গোল করলেন। পাঁচ ম্যাচে ছয় গোল। বিশ্বকাপে আর কোন খেলোয়াড়ই যে এতো দিনের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত টানা পাঁচ ম্যাচে গোল পাননি। ভাবা যায়! বিশ্বকাপটা নিজের করে রাখতে আর কি দরকার! কিন্তু, রড্রিগেজ যে বিশ্বকাপটা নিজের করে রাখতে চাননি। চেয়েছিলেন, তাকে নয় বিশ্ব মনে রাখুক কলম্বিয়াকে। ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচেও সেই লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন মোনাকোর এই ফরোয়ার্ড। কিন্তু তার ভাবনাটা সত্য হল না। ফেবারিটদের দিকে তাকিয়েই হাসলো ফুটবল বিধাতা। যেমন আশা ছিল, ঠিক তাই হল। ঠিক সময় জ্বলে উঠলেন পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শেষ আটের টানটান উত্তেজনার ম্যাচে কলম্বিয়াকে ২-১ গোলে হারাল ব্রাজিল। এই ম্যাচে ফেভারিট হিসাবে নামলেও বেশ চাপে ছিলেন সেলেচাওরা। গত ম্যাচে চিলির বিরুদ্ধে জিততে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল ব্রাজিলকে। অন্যদিকে বিশ্বকাপে দুরন্ত ফর্মে ছিল কলম্বিয়া। শুক্রবার ম্যাচের প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে খেলা শুরু করেছিলেন নেইমাররা। যার সুফল ম্যাচের সাত মিনিটেই পেল ব্রাজিল। নেইমারের কর্নার থেকে গোল করে যান অধিনায়ক থিয়াগো সিলভা। গত বিশ বছরে বিশ্বকাপে এই প্রথম কোনও ব্রাজিল অধিনায়ক গোল পেলেন। দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ঝাঁপায় কলম্বিয়া। সাতষট্টি মিনিটে মারিও ইয়েপসের গোল অফসাইডের জন্য বাতিল হয়ে যায়। তার দুমিনিট পরই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে ফোর্টালেজা স্টেডিয়াম। চোখ ধাঁধানো ফ্রিক কিক থেকে গোল করে ব্যবধান বvড়ান ডেভিড লুইজ। ম্যাচের শেষ লগ্নে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমান বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতা হামেস রড্রিগেজ। এই জয়ের ফলে সেমিফাইনালে জার্মানির মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। তবে, এই যাত্রায় বেঁচে গেলেও সামনের লড়াইটা সহজ হবে না ব্রাজিলের জন্য। দুটি হলুদ কার্ড নিয়ে সেমিফাইনালে খেলা হবে না অধিনায়ক থিয়াগো সিলভা। আর ইনজুরির কারণে তো বিশ্বকাপটাই শেষ হয়ে গেল নেইমারের। কিন্তু ম্যাচের শেষে এসে ব্রাজিলিয়ানরা আগামী ম্যাচ নিয়ে না ভেবে ভাবলেন রড্রিগেজকে নিয়ে। তার পাশে দাঁড়িয়ে শান্ত করার চেষ্টা করলেন এই ক্ষুদে তারকাকে। কিংবদন্তীদের জন্ম হয়তো এভাবেই হয়! সর্বোচ্চ গোলদাতা ৬ জেমস রড্রিগেজ (কলম্বিয়া) ৪ লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা) নেইমার (ব্রাজিল) টমাস মুলার (জার্মানি)