এবার সেমির বৃত্ত ভাঙ্গতে চান লো

কোয়ার্টার ফাইনালে ফরাসি বাঁধা টপকানোর পর, এবার সেমিফাইনালের গেড়ো খুলতে চান জার্মান কোচ জোয়াকিম লো। টুর্নামেন্টের গত দুটি আসরেই শেষ চারে বিদায় নেয়া জার্মানরা আট জুন বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে খেলবে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে। লো’র বিশ্বাস, গত শুক্রবার রাতের মতোই বেলো হরিজোন্তোয় ফাইনালে যাওয়ার সেই লড়াইয়ে শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেবেন ফিলিপ লাম-বাস্তিয়ান শোয়েনস্টেইগাররা। এদিকে, শেষ আটের পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়া সতীর্থদের পাশে দাঁড়িয়েছেন অধিনায়ক লাম। সমালোচকদের বক্তব্যকে উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন ফ্রান্সের মতো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জয়ের ব্যবধান নয়, জয়টাই ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচের ১২ মিনিটে দেয়া ম্যাট হামেলসের একমাত্র গোলে ফ্রান্সকে বিদায়ের টিকেট ধরিয়ে দেয় জার্মানি। পাশাপাশি টানা চতুর্থবারের মতো পা রাখে সেমিফাইনালে। তিনবারের বিশ্বকাপ ও ইউরোজয়ী দলটি অবশ্য তাদের ধারাবাহিকতার জন্য সবসময়ই বিখ্যাত। চলতি আসরসহ বিশ্বকাপে নিজেদের অষ্টাদশ সফরে এ নিয়ে ত্রয়োদশবারের মতো সেমিফাইনাল খেলছে দলটি! আর একবার বাদে প্রতিবারই কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে তারা! তবে ২০০২ বিশ্বকাপ থেকে সেমিফাইনাল খেলে আসা দলটি এবার শেষ চারের এই বাঁধা টপকাতে বদ্ধপরিকর। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই এই সেমির গেড়োর নিয়ে বেশ কয়েকবারই গণমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়া লাম বলেছিলেন, যে কোন মূল্যে এবার ফাইনালে পৌঁছাতে চায় তার দল। গত মঙ্গলবার ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়কের কথার পুনরাবৃত্তি করলেন গত বিশ্বকাপেও দলের দায়িত্বে থাকা লো, ‘গত চারটি বিশ্বকাপেরই সেমিফাইনাল খেলেছি আমরা। কোন সন্দেহ নেই দারুণ একটা অর্জন এটা। তবে এখানেই থেমে থাকার সুযোগ নেই। আমাদের লক্ষ্য এবার পরবর্তী বাঁধা ডিঙ্গানোর।’ তবে শক্তিশালী ব্রাজিলের বিরুদ্ধে সেটা মোটেই সহজ হবে না, লো বুঝতে পারছেন সেটাও। যদিও, নেইমার এবং অধিনায়ক থিয়াগো সিলভাকে পাচ্ছে না পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে লোর বিশ্বাস, কেবল স্বাগতিক হওয়ার বিষয়টাই অনেকটা সুবিধা দেবে ব্রাজিলকে, ‘লাতিন দেশগুলো এই বিশ্বকাপে জীবন বাজি রেখে লড়ছে। আর, স্বাগতিক দর্শকদের সমর্থন থাকায় ব্রাজিল ভয়ঙ্কর এক প্রতিপক্ষ।’ এদিকে মারাকানায় ফ্রান্সের বিরুদ্ধে খেলায় জার্মানি তাদের সেরা ফর্ম থেকে অনেকটা দূরে ছিল বলে অভিযোগ আসে জার্মান এবং বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমে। তাদের এই দাবীকে উড়িয়ে দিয়ে লো বলেন, কোয়ার্টার ফাইনালের চাপ এবং মেজাজই এই ম্যাচের গতিপথ অনেকটা ঠিক করে দিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় দু’দলই কিছুটা রক্ষণাত্মক খেলতে বাধ্য হয়েছে। গোল করার খুব বেশি সুযোগ ছিল না। আমাদের পরিকল্পনাটা ছিল এমনই। ফ্রান্সের তারকাখচিত আক্রমণভাগের কথা চিন্তা করে আমরা চাইছিলাম, তাদের পরিষ্কার কোন আক্রমণের সুযোগ না দিতে। আমরা সেটা খুব ভালভাবেই করতে পেরেছি এবং জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছি।’ অধিনায়কের মুখেও শোনা গেল কোচের কথারই পুনরাবৃত্তি, ‘এটা মোটেই সহজ ম্যাচ ছিল না, বিশেষ করে দিনের বেলায়। আমরা চেয়েছি একটা দল হিসাবে খেলতে এবং সেটা পেরেছি। আমরা হয়তো পাল্টা আক্রমণ থেকে একটা গোলের সুযোগ পেয়েছিলাম। তবে সেটা হলেও শেষ পর্যন্ত একটা শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচই হতো সেটা। যার যা ইচ্ছা বলুক, আসল কথা হচ্ছে আমরা জয় নিয়ে সেমিফাইনালে পা রেখেছি।’ সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন একটা দলের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের শেষ আটের লড়াইয়ে জয়ের ব্যবধান কিংবা ধরন নিয়ে চিন্তা করাটা অমূলক জানিয়ে এই বায়ার্ন মিউনিখ অধিনায়ক আরো বলেন, ‘আপনাকে মনে রাখতে হবে এটা একটা বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ। আপনি এখানে এমন কোন দলকে পাবেন না যাদের সুযোগ করার ক্ষমতা নেই। এই ম্যাচগুলো সব সময়ই দারুণ ভারসাম্যপূর্ণ হয়। ফিফটি-ফিফটি সুযোগ থাকে দু’দলেরই। তবে আমরা প্রথম গোল করতে পেরেছি। ফলে ফ্রান্স আক্রমণে আসতে বাধ্য হয়েছে।’ ওয়েবসাইট