রাজশাহীতে ভেজাল গুড় তৈরির হিড়িক
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০১৪, ২১:৪৫
রমজানে রোজাদারদের চাহিদাকে পুঁজি করে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহূত চিনিকলের উচ্ছিষ্ট (চিটাগুড়), ময়দা, ফিটকিরি, ডালডা ও চিনির মিশ্রণে ভেজাল গুড় তৈরির হিড়িক পড়েছে। একশ্রেণির মুনাফালোভী ব্যবসায়ী জনস্বার্থ বিরোধী অপকর্মে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। উক্ত ভেজাল গুড় স্থানীয় বিভিন্ন বাজার হয়ে ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে ভেজাল গুড় তৈরি ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসন মাঝে-মধ্যে অভিযান চালাচ্ছে। সম্প্রতি ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে ১১০ মণ ভেজাল গুড় ধ্বংস করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ চিনি। জড়িত থাকার অভিযোগে ২ নারীসহ পাঁচজনকে জেলজরিমানা করা হয়েছে। তারপরও থেমে নেই ভেজাল গুড় তৈরিতে জড়িত চক্রের সদস্যরা। তারা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ভেজাল গুড় তৈরি করে বাজারে সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চারঘাট উপজেলা জুড়ে একটি চক্র একদশক ধরে আখ মাড়াই করা ছাড়াই ভেজাল আখের গুড় তৈরি করে বাজারে বিক্রি করছে। চলতি রমজান ও ঈদকে টার্গেট করে অন্যান্য বছরের মতো এবারো মাঠে নেমেছে চক্রটি। তারা পশুখাদ্য হিসেবে পরিচিত চিনিকলের উচ্ছিষ্ট (চিটাগুড়), ময়দা, ফিটকিরি, ডালডা ও চিনির মিশ্রণে তৈরি করছে এসব গুড়। প্রকৃত গুড়ের রং আনতে মেশানো প্রচুর পরিমাণে বিষাক্ত কেমিক্যাল। পরে উক্ত গুড় আখ দিয়ে তৈরি বলে বাজারজাত করছে।
সূত্র জানায়, চারঘাট উপজেলার গোপালপুর, পারনপুর, মেরামতপুর, চাঁদপুর, তালবাড়িয়া, মিয়াপুর, পিরোজপুর, রাওথাসহ বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয় এসব ভেজাল গুড়। বাজারে চিনির চেয়ে গুড়ের দাম বেশি থাকায় এবং বেশি লাভের আশায় অসাধু ব্যবসায়ীরা ভেজাল গুড় তৈরিতে ঝুঁকছেন। তারা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে গুড় তৈরি ও বাজারজাত অব্যাহত রেখেছে। আগামী মৌসুমে আখ সংগ্রহ শুরুর আগ পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ায় ভেজাল গুড় তৈরি অব্যাহত থাকবে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।