টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতা দুর্ভোগে নগরবাসী
মোহাম্মদ আবু তালেব ও সাইদুর রহমান
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০১৪, ২১:৫৬
টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে রাজধানীবাসী। শনিবার ভোর থেকেই থেমে থেমে আষাঢ়ের বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় রাজধানীর অনেক এলাকা। বিঘ্নিত হয় যানবাহন চলাচল। জলাবদ্ধতা আর যানজটে নগরবাসীর দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। নাগরিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যর্থতায় নগরীর বাসিন্দাদের ভোগান্তি দিন দিন ক্রমশ বাড়ছে। কিন্তু ভোগান্তি দূর করার কোনো উদ্যোগ নেই।
শনিবার সকাল থেকেই কখনো মুষলধারে আবার কখনো বা থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। এই বৃষ্টিতেই ডুবে গেছে নগরীর অধিকাংশ নিচু এলাকা। টানা বর্ষণে ঢাকার বেশ কিছু এলাকা হাঁটুপানিতে তলিয়ে যায়। বৃষ্টিতে রাজধানীর চানখাঁরপুল, নিউমার্কেট, ধানমণ্ডি, গ্রীনরোড, পান্থপথ, বসুন্ধরা মার্কেটের পেছনের রাস্তা, মোহাম্মদপুর, খিলগাঁও, আরামবাগ, মালিবাগ, মৌচাক, মিরপুর, কাজিপাড়া, শেওড়াপাড়া, কল্যাণপুর, পল্লবী, ভাষাণটেক, বাড্ডা, ভাটারা, রামপুরা, পূর্ব রামপুরা, ফার্মগেট, তেজগাঁও, যাত্রাবাড়ি, কদমতলী, পুরান ঢাকাসহ রাজধানীর অনেক এলাকার বিভিন্ন সড়কে পানি জমেছে। অনেক বাসা-বাড়িতেও পানি ঢুকে পড়েছে। নগরীর অনেক এলাকায় দোকানপাট আর মার্কেটে পানি ঢুকেছে। ডুবে গেছে ফুটপাত।
কল্যাণপুরের বাসিন্দা আবুল হোসেন ও শফিউল হাসান সুমন সকাল সকাল অফিসের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। কিন্তু রাস্তায় পানি-টানা বৃষ্টি আর যানজটের কারণে তাদের যাত্রায় বিঘ্ন ঘটে। তারা বলেন, ‘এমনিতেই রোজার মাস। অফিস সময় এগিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। আধা ঘণ্টা বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যায় রাস্তা-ঘাট। ড্রেনের পচা পানি আর ডাস্টবিনের ময়লা মিশে একাকার হয়ে গেছে সব কিছু। বৃষ্টিতে কোনো গাড়িও মেলে না।
সকাল ১১টায় গাবতলী থেকে বাসে চড়ে নিউমার্কেটে যাত্রা শুরু করেন ব্যবসায়ী হামিদুল ইসলাম। তিনি বেলা আড়াইটায় গন্তব্যস্থলে পৌঁছান। তিনি জানান, বৃষ্টির কারণে রাস্তায় ভয়াবহ যানজটের কবলে পড়েন তিনি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে পানির কারণে যান চলাচল ব্যাহত হতে দেখা গেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ। গাড়ি না পেয়ে বৃষ্টিতে ভিজে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে অনেককেই। রাজধানীর অফিসগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি অন্য দিনের তুলনায় কিছুটা কম। ফুটপাতের দোকানগুলোও খুলতে পারেনি। রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে গিয়েও অনেকে পড়েছেন বিপাকে।
নিউমার্কেটের ভেতরে বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়ায় ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। তারা দোকানপাট খুলতে পারেননি ঠিক সময়ে। বৃষ্টির কারণে ক্রেতাও নেই, আসার উপায় নেই। শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক এলাকায় রাস্তায় হাঁটুপানি জমায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। তেজতুরী বাজারেও রাস্তায় হাঁটুপানি জমে। পানি জমে যাত্রাবাড়ি নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের নিচের রাস্তায়ও। নারিন্দার অবস্থা আরো খারাপ। রাস্তায় অতিরিক্ত জলাবদ্ধতার কারণে চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে পথচারীর। জলাবদ্ধতার কারণে চানখাঁরপুলে সিএনজি চালিত দুইটি অটোরিকশার ইঞ্জিনে পানি ঢুকে পড়লে সিএনজিটি বিকল হয়ে যায়। ঐ রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফুটপাতে পানি জমে থাকার কারণে রিকশা বা সিএনজি নিয়ে মালিবাগ রেলগেট থেকে শান্তিনগর মোড়ে আসতে দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে বলে জানিয়েছেন চাকরিজীবী তোফাজ্জেল হোসেন তপু। তিনি বলেন, ‘বেলা দেড়টার দিকে মালিবাগ রেলগেট থেকে রিকশায় উঠে ৩টা ১০ মিনিটে এসে শান্তিনগর মোড়ে নেমেছি।’
মিরপুর, কাজিপাড়া, শেওড়াপাড়ার অধিকাংশ রাস্তা পানিতে ডুবে গেছে। বাসিন্দারা জানান, সকাল থেকে টানা বর্ষণে এসব এলাকায়ও দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। বৃষ্টির কারণে কেউ দোকান খুলতে পারেনি। রাস্তায় পানি জমে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন তারা।
এদিকে, শনিবার দুপুরে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শাহ আলম জানিয়েছেন, শনিবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত রাজধানীতে ৬৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। আজ রবিবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমে যাবে বলে মনে করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।