নীলফামারীর চাঁদমনি আশ্রম :সমাজসেবায় বিরল দৃষ্টান্ত
সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০১৪, ২২:২৯
সমাজ সেবায় এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে নীলফামারীর জলঢাকার চাঁদমনিঅনাথ আশ্রম। যারা এ আশ্রমের আশ্রিতা, তারা নিজেদের অনাথ ভাবেন না বললেই চলে। পিতা-মাতার আদর-ভালবাসা পান তারা আশ্রমে।
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা সদর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে চওড়াডাঙ্গী গ্রামে গড়ে ওঠেছে চাঁদমনি আশ্রমটি। এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক পিজিরুল আলম দুলাল সবার কাছে চাঁদমামা নামে পরিচিত। কর্মজীবনে তিনি উত্তরা ব্যাংকের এজিএম ছিলেন। অবসরের টাকাসহ সারাজীবনের তিল তিল শ্রমে সঞ্চিত অর্থটুকু ব্যয় করেছেন সমাজের অসহায় কন্যা শিশুদের জন্য। হরিজন পল্লীর মেয়েদেরও বুকে আগলে নিয়েছেন। সুশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন তাদের। পড়ালেখার পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তি, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, মঞ্চ নাটকসহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় আশ্রমে। এছাড়া দ্বি-বার্ষিক মেলার আয়োজন করা হয়। যা চাঁদমনি মেলা নামে পরিচিত। পিজিরুল আলম দুলাল নি:সন্তান। স্ত্রী মারা গেছেন। সত্তরোর্ধ্ব পিজিরুল আলমের যেন কোন অলসতা নেই। এখনো খোঁজ করে বেড়ান কার বাড়িতে খাবার নেই, কার মেয়ের যৌতুকের জন্য বিয়ে হচ্ছে না, বিনা চিকিত্সায় কে ভুগছেন। বাল্য বিবাহ রোধকল্পে প্রায়ই তিনি প্রশাসনের দরজায় কড়া নাড়েন। ১৯৯৯ সালে মাত্র ৫ জন অনাথ শিশুকে নিয়ে এ প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে অনাথের সংখ্যা ২০৭ জন। আশ্রমের ২৮টি মেয়ে এসএসসি, ১২ জন এইচএসসি পাস করেছে এবং ডিগ্রিতে অধ্যায়নরত রয়েছে ২ জন। বয়সের ভারে ন্যূব্জ পিজিরুল আলম দুলালের এখন একটাই চিন্তা তার অবর্তমানে কে হবেন প্রতিষ্ঠানটির কান্ডারী? কে করবে এর দেখভাল?