গাড়ি রিক্যুইজিশনে চলে স্বেচ্ছাচার
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০১৪, ২২:৫৮
গাড়ি রিক্যুইজিশনের নামে চলছে স্বেচ্ছাচার । কোন গাড়ি কখন কিভাবে রিক্যুইজিশন করতে হবে তার কিছু আইন-কানুন আছে। কিন্তু রিক্যুইজিশনের সময় এসব আইন-কানুনের কোন তোয়াক্কাই করা হচ্ছে না। এমনকি স্কুলের শিক্ষার্থীদের নামিয়ে মাইক্রোবাস রিক্যুইজিশন করা হচ্ছে। সংবাদপত্র ও হাসপাতালের গাড়িও রিক্যুইজিশন থেকে বাদ যাচ্ছে না। আইনে না থাকলেও প্রথা আছে কোন পরিবারের একটি মাইক্রোবাস থাকলে এবং সেটি পরিবারের সদস্যরা ব্যবহার করলে ওই গাড়িটি রিক্যুইজিশন করা যাবে না। এক্ষেত্রে তাও মানা হচ্ছে না। আর বাস মালিকরা রিক্যুইজিশনের জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে নিজেরাই পালা করে বাস দিয়ে দিচ্ছেন।
গাড়ি রিক্যুইজিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ হিসেবে পুলিশই এই কাজ করছে। পুলিশের পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে— তাদের চেয়ে অন্য সরকারি বিভাগগুলোর চাহিদা বেশি থাকায় তারা নিরুপায় হয়ে গণহারে গাড়ি রিক্যুইজিশন করতে বাধ্য হচ্ছে। আইন অনুযায়ী জেলা প্রশাসনসহ সরকারি বিভিন্ন দফতরে থাকা গাড়ির অতিরিক্ত গাড়ি লাগলে পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অবহিত করবে। পুলিশ রিক্যুইজিশন করার পর গাড়ি ওই দফতরে পাঠিয়ে দেবে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান সরকারের আমলে প্রচুর গাড়ি কেনা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের টহলসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের জন্য অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান গাড়ি অনুদান হিসেবে দিয়েছে। তাই আগের মতো খুব একটা বেশি গাড়ি লাগে না পুলিশের। অন্য দফতরগুলোর চাহিদা অনুযায়ী রিক্যুইজিশন হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, রিক্যুইজিশন করা গাড়ি অনেক সরকারি কর্মকর্তা পরিবারের কাজে ব্যবহার করেন। এর জন্য তেল খরচ, ড্রাইভারের থাকা-খাওয়া ও হাত খরচ দেয়ার নিয়ম থাকলেও অনেকেই তার কিছুই দেন না। রিক্যুইজিশন গাড়িরও একটা বিল পাওয়ার কথা। বিল তো পাওয়া যায়ই না উল্টো ৭ দিনের জন্য রিক্যুইজিশন করে খাটানো হয় দ্বিগুণেরও বেশি সময়। রিক্যুইজিশন করা গাড়ির ক্ষেত্রে পুলিশের বেশি নজর থাকে মাইক্রোবাসের দিকে। যেসব মালিক ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে ভাড়ায় চালানোর জন্য মাইক্রোবাস কিনেছেন, রিক্যুইজিশনের কারণে তাদের বেশি বিপাকে পড়তে হয়। পুলিশ নতুন গাড়ি দেখলেই রিক্যুইজিশন করে এবং দীর্ঘ সময় রেখে দেয়। ফলে এসব গাড়ির মালিককে মাসশেষে ব্যাংকের টাকা দিতে হিমশিম খেতে হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন) মাসুদুর রহমান ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, সরকারি চাহিদা অনুযায়ী পুলিশ গাড়ি রিক্যুইজিশন করে সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠিয়ে দেয়। পুলিশ এখন নিজেদের প্রয়োজনে খুব একটা গাড়ি রিক্যুইজিশন করে না। রিক্যুইজিশন করা গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, নিয়ম-নীতির মধ্যে থেকেই গাড়ি রিক্যুইজিশন করা হয় এবং মালিককে ফেরত দেয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আইনে কোন ধরনের গাড়ি রিক্যুইজিশন করা যাবে তার কোন ব্যাখ্যা নেই। অর্থাত্ রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে যে কোন গাড়ি রিক্যুইজিশন করা যাবে কিন্তু আইনে না থাকলেও একটা প্রথা আছে— স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, সংবাদপত্র ও পারিবারিক কাজে ব্যবহার করা গাড়ি রিক্যুইজিশন করা যাবে না। এখন সেসব গাড়িও রিক্যুইজিশন হচ্ছে। কোন গাড়ি থামিয়ে কিছু না শুনেই রিক্যুইজিশন করে রাজারবাগ পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। ফলে হুট করে রিক্যুইজিশন করায় গাড়ি মালিককে বিপাকে পড়তে হয়। এমনকি রাতের বেলায় সংবাদপত্রবাহী গাড়িও রিক্যুইজিশন করা হচ্ছে। গত বুধবার রাতে উত্তরায় একটি জাতীয় দৈনিকের পিক-আপ ভ্যানকে এভাবেই রিক্যুইজিশন করা হয়। ‘সংবাদপত্র’ বলার পরও কোন কর্ণপাতই করেননি ট্রাফিক সার্জন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের (উত্তর) উপ-কমিশনার আবিদ হোসেন কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে পুলিশের মহা-পরিদর্শকের হস্তক্ষেপে ওই পিক-আপ ভ্যান গভীর রাতে ছেড়ে দেয় পুলিশ। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, উত্তরা এলাকা থেকেই এখন সবচেয়ে বেশি গাড়ি রিক্যুইজিশন করা হচ্ছে। অন্য এলাকাগুলোর চিত্র একটু ভিন্ন। গত বৃহস্পতিবার মিরপুরে একটি গাড়ি রিক্যুইজিশন করা হয়। ড্রাইভারকে রিক্যুইজিশনের স্লিপ দিয়ে তিনদিন পর রাজারবাগে রিপোর্ট করতে বলা হয়। ওই গাড়ির মালিক বলেন, এভাবে সময় দিয়ে রিক্যুইজিশন করলেও তো হয়। কিন্তু হুট করে রিক্যুইজিশন করলে বিপাকে পড়তে হয়।