ত রু ণী ক থা ...........................................................................
ইসমাত আরা তানী
প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০১৪, ২০:০০
যখন থেকে বুঝতে শিখেছি তখন থেকেই আমার পারিপার্শ্বিকের ঘটনা আমাকে ভাবাত। নিজের অবচেতন মন যে কখন পরিস্থিতি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে যায় নিজেই বুঝতাম না। শৈশবে একবার বাবাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘বাবা, আমাদের দেশে কেন অন্য দেশের মত বিত্তশালী না? এইটা নেই কেন? ওইটা নেই কেন? পাতাল ট্রেন নেই কেন? রকেট নেই কেন আর কতকি!’ বাবা প্রত্তুতরে বলেছিল, ‘আছে তো, এই যে তোরা আছিস; এখন নেই তো কি হয়েছে, পরে হবে, আর যদি নাও হয় তবে তুমি করে নিও।’ বাবার কথাটা এখন আমার জীবনের মূলমন্ত্র। অন্যের আশায় না বসে থেকে নিজ থেকেই সমস্যা উত্তরণের চেষ্টা করা। বিওয়াইএলসি-এর বিবিএলটি লিডারশিপ প্রোগ্রাম আমার বাবার সেই শিক্ষাটা আরও একবার মনে করে দিয়েছে। প্রোগ্রামটি আমার লিডারশিপের গতানুগতিক ধারণা পরিবর্তন করে দিয়েছে। এই প্রোগ্রামে প্রভাবিত হয়ে পড়াশুনার পাশাপাশি একজন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ছোট-বড় বেশ কয়েকটা ইভেন্টে সমাজসেবামূলক কাজ করা শুরু করি। বস্তিতে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক প্রোজেক্ট, শীতবস্ত্র সংগ্রহ, ফ্রী লাইব্রেরি চালানোর মত কাজগুলো আমাকে মানবধর্ম পালনে ব্রত করে তুলে। বিশ্বের প্রতি দায়বদ্ধতা পূরণে ওয়ার্ল্ড মেরিট এর গ্লোবাল কমিউনিটি আমাকে অনেক সাহায্য আর অনুপ্রাণিত করেছে। ‘ইমপ্যাক্ট বিয়ন্ড বর্ডার’ প্রোজেক্ট-এর মাধ্যমে ব্রাজিল, জাম্বিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং নাইজেরিয়ার সদস্যদের সাথে একত্রে কাজ করার সুযোগ হয়েছে এই চট্টগ্রাম থেকেই। এই প্রোজেক্ট-এর মাধ্যমে বিশ্বের সকল উদ্দমী তরুণদের আমরা অনুপ্রাণিত করতে চাই সমাজের প্রতি তাদের নিজ দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হতে। সমাজসেবার প্রতি আমার আগ্রহ ও উদ্দীপনাকে স্বীকৃতি দিয়ে ওয়ার্ল্ড মেরিট আমাকে সুযোগ দিয়েছে তাদের সিগনেচার লিডারশিপ প্রোগ্রাম ‘মেরিট নেক্সট’-এ অংশ নিতে। জুলাই এর শেষ সপ্তাহে লন্ডনে শুধু আমি যাচ্ছি না, যাচ্ছে বাংলাদেশের কোটি স্বপ্নবাজ তরুণ বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে। তাই এই স্বীকৃতি সকল স্বপ্নগামী তরুণদের যারা স্বপ্ন দেখে আমাদের দেশকে নিয়ে। আমি একজন গর্বিত বাংলাদেশি, এটিই আমার পরিচয়।