গুল ও জর্দার ওপর কর বৃদ্ধি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ
প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০১৪, ২১:৪৭
জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বিবেচনা করে বাজেটে গুল ও জর্দার ওপর সম্পূরক শুল্ক দ্বিগুণ (৩০ শতাংশের স্থলে ৬০ শতাংশ) করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তাছাড়া তামাকজনিত রোগ নিরাময়ের চিকিত্সা ও পুনর্বাসন খাতে অর্থের সংস্থান করতে উত্পাদিত পণ্যের ওপর মূল্যভিত্তিক ১ শতাংশ হারে ‘স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ’ আরোপের প্রস্তাব করায় আমরা অর্থমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। এভাবে কর বৃদ্ধি করে সরকার এবারের বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসের প্রতিপাদ্য ‘তামাকের উপর কর বাড়াও, রোগ মৃত্যুর হার কমাও’—এর প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে ১ কোটি ২৫ লাখ পুরুষ এবং ১ কোটি ৩৫ লাখ মহিলা চর্বনযোগ্য বা ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবন করে। গুল ও জর্দাকে চর্বনযোগ্য বা ধোঁয়াবিহীন তামাক নামে অভিহিত করা হয়। গ্লোবাল হেলথ প্রফেশনাল সার্ভে—২০০৪-এর হিসেবেও দেখা যায়, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে গুল ও জর্দা সেবন করে ১৬ ভাগ পুরুষ এবং ২১ শতাংশ মহিলা। ঐ সার্ভের আশঙ্কার বিষয় হলো, এ সংখ্যা ২০৩০ সাল নাগাদ দ্বিগুণ হবে। তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের একটি বিশ্ব স্বীকৃত উপায় হলো এর ওপর উচ্চ হারে করারোপ করে এটিকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যাওয়া। তবে এ ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত ফল লাভের জন্য ভ্যাট ফাঁকি যা ইতোমধ্যেই বিশেষ করে গুল কারখানায় মহোত্সবে পরিণত হয়েছে—সেটা রোধ করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। আমাদের প্রত্যাশা, সরকার ভবিষ্যতে আরো কর বৃদ্ধি এবং আদায়ের বিষয়টি মাথায় রেখে গুল ও জর্দার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে এনে দেশের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
মাহবুব আলী,
৪১ আবদুল হাদী লেন, ঢাকা ১১০০