ধনী-গরীব সবাই এক কাতারে
প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০১৪, ২১:৫০
ধনী-গরীব, এতিম-মিসকিন সবাই এক কাতারে। এ এক অভাবনীয় দৃশ্য। বায়তুল মোকাররম মসজিদের পূর্ব পাশের চত্বরে সারি সারি লাইনে হাজারো মুসল্লি ইফতার করতে বসে পড়েন। মসজিদে নামাজ পড়তে আসা রোজাদারই শুধু নন, পল্টন-গুলিস্তান এলাকায় কেনাকাটা করতে আসা মানুষ এবং এতিম-মিসকিন থেকে শুরু করে সব স্তরের মানুষ যেন মিলেমিশে একাকার। এক স্বর্গীয় আবহ হূদয়কে আলোড়িত করে তোলে।
রবিবার ইফতারের আগে বায়তুল মোকাররমে গিয়ে এ দৃশ্য দেখা যায়। গত প্রায় ১৫ বছরের ব্যবধানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এ আয়োজন এক বিশাল রূপ নিয়েছে। এখন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পাশাপাশি অনেকেই এখানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ইফতারের আয়োজন করে থাকেন। ঈদের চাঁদ দেখার আগ পর্যন্ত এই আয়োজন চলবে।
শরবত, কলা, মুড়ি, পেঁয়াজু, বেগুনিসহ বিভিন্ন পদ দিয়ে ইফতারের এ আয়োজন করা হয়। ইফতারির আগে ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মসজিদের ইমাম ও খাদেমরা ইফতারি বিলি-বন্টন করেন।
কর্তৃপক্ষ জানায়, বায়তুল মোকাররমের এই ইফতার সবার জন্য উন্মুুক্ত। যে কেউ এখানকার ইফতারে অংশ নিতে পারেন। তবে সাধারণত গরীব, দুস্থরাই বেশি অংশ নিয়ে থাকেন। এছাড়া পথচলতি মানুষ, আশেপাশের মার্কেটের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও ইফতারে অংশ নেন। আবার বেশি ছওয়াবের আশায় হাজারো মানুষের সাথে ইফতার করতে আশেপাশে এলাকার অনেক বাসিন্দাও বায়তুল মোকাররমের এই ইফতারে অংশ নেন।
বায়তুল মোকাররম মসজিদে ইফতারে অংশ নেয়া নেয়ামুল হাকিম বলেন, হাজারো মানুষের সাথে ইফতার করতে পারাটা একটা সৌভাগ্যের ব্যাপার। তিনি এই এলাকার একটি মার্কেটের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলে জানান।
জানা যায়, আসরের নামাজের পর থেকেই ইফতারে অংশ নিতে অনেকেই আসতে শুরু করেন। অনেকেই আসরের নামাজ শেষে আর মসজিদ থেকে বের হন না। তারা নামাজের কাতার থেকে ঘুরে ইফতারের সারিতে বসে পড়েন। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে এই কাতার বাড়তে থাকে। সেই সাথে প্রতি বছরই বাড়ছে ইফতারে অংশ নেয়া রোজাদারের সংখ্যা।
তবে অল্প বাজেটে এত বিপুলসংখ্যক রোজাদারকে ইফতার করাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এ বছর ইফতারির জন্য ফাউন্ডেশনের বরাদ্দ সাড়ে ১০ লাখ টাকা। গত বছর ছিল সাড়ে নয় লাখ টাকা। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মো: মহীউদ্দিন মজুমদার বলেন, প্রতি বছর এখানে ইফতার করতে আসা রোজাদারের সংখ্যা বাড়ছে। এ বছর প্রতিদিনই হাজারেরও বেশি মুসল্লি এখানে রোজা খুলছেন বলে তিনি জানান।