ঈদ ঘিরে ব্লক ও বুটিক কারিগরদের ব্যস্ততা
প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০১৪, ২১:৫১
ঈদকে ঘিরে ব্লক ও বুটিক হাউজের কারিগরদের ব্যস্ততা বাড়লেও এই শিল্পের মালিকদের রয়েছে দারুণ ক্ষোভ। মার্কেটগুলোতে ভারতীয় আর পাকিস্তানি কাপড়ে সয়লাব হয়ে যাওয়ায় দেশীয় এসব শিল্পে নেমেছে ধস। দিনের পর দিন লোকসান গুনতে হচ্ছে দোকানিদের। অনেকে দোকান গুটিয়ে ব্যবসা বদলাতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ করলেন ব্লক-বুটিক দোকানের ব্যবসায়ীরা। রবিবার নিউমার্কেট, লালমাটিয়ার ব্লক-বুটিকের দোকান ঘুরে এমন তথ্যই পাওয়া যায়।
নিউমার্কেটের দোতলার একটি কর্নার জুড়ে বয়েছে বেশকিছু ব্লক-বুটিক ও এমব্রয়ডারির দোকান। ঈদকে ঘিরে দোকানিরা ভালো বেচাকেনার আশায় দিনরাত কাজ করালেও আশানুরূপ বেচাকেনা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা।
১৮ বছর ধরে ব্যবসা করছেন মো. আবু হানিফ। তিনি বলেন, দেশে কোন নিয়ম-নীতি নেই। আমাদের দেশের মার্কেটে পাকিস্তানি আর ভারতীয় শাড়ি অবাধে আসছে এবং বিক্রি হচ্ছে। এসবের কারণে আমাদের দেশীয় শিল্প যে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তা যেন দেখার কেউ নেই। তিনি বলেন, আগে সারা দেশে আমাদের এসব থ্রি-পিস আর শাড়ি যেত; কিন্তু এখন আর পাইকাররা আসেন না এসব থ্রি-পিস কিনতে। কাপড় ব্যবসায়ীদের সবার এক অভিযোগ বলে জানান তিনি।
দোকানে সাজানো রয়েছে থরে থরে রঙ-বেরঙের থ্রি-পিস, শাড়ি, বিছানার চাদর, পাঞ্জাবি, ফতুয়া। অনেকে কাপড় কিনে ব্লক-বুটিক করে নিচ্ছেন। দাম কম ও দেখতে সুন্দর এসব ব্লক ও বুটিক থ্রি-পিস সব বয়সী নারীর পছন্দের মধ্যে রয়েছে। অনেক দোকানে রাত-দিন একাকার করে কাজ করছেন কারিগররা। তবে রমজানের এই সময়টাতে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা থাকায় কারিগরদের রাত জাগতে ভালই লাগছে বলে জানান মীম ব্লক-বুটিক হাউজের কারিগর সোলায়মান।
নিউমার্কেটে সানসিটি বুটিক হাউজের মাকসুদা আক্তার বলেন, আমরা এখনে ব্লক-বুটিক, টাই-ডাই, মোম-বাটিক, স্কিন-প্রিন্ট, ব্লক-প্রিন্ট, দেবদাস চুনড়ি, ব্লকের ওপর এমব্রয়ডারি করে থাকি। তিনি বলেন, আমরা অর্ডার নিয়েও কাজ করে দিই। একটা থ্রি-পিস কিংবা শাড়ি ব্লক করাতে দাম বেশি পড়ে।
থ্রি-পীস কিনতে এসেছেন শারমিন নাহার ও আরিফা। তারা বলেন, ঈদে ঘরে পড়ার জন্যও কিছু পোশাক লাগে। সেটা আমরা এখান থেকেই কিনি এবং এই ব্লক-বুটিকের সুতি কাপড়ের থ্রি-পিস গুলোই বেশি আরামদায়ক হয়। তারা বলেন, দামে সস্তা এসব থ্রি-পিস।
জোসনা ব্লকের কাজ করেন পায়েল। তিনি বলেন, এখানে থ্রি-পিসের দাম পড়বে ৪৫০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকায়। এক রঙ দিয়ে থ্রি-পিসে ব্লক করাতে খরচ পড়ে ২৫০ টাকা। তবে রং কয়েকটা দিয়ে ব্লক করাতে দাম বেশি পড়ে। সে ক্ষেত্রে আমাদের তৈরি থ্রি-পিসগুলো কেনাই ভালো বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, আমাদের এখানে পাইকারি বিক্রি হয়। তবে এই মাকের্টে খুচরা বিক্রি হয় বেশি কলেজের ছাত্রীদের কাছে। তিনি বলেন, ইউনিভার্সিটির মেয়েরা এখানে বেশি আসেন। তারা একসঙ্গে ৩/৪টা করে থ্রি-পিস কিনে নিয়ে যান। দামে সস্তা এসব থ্রি-পিস রঙ না উঠার নিশ্চয়তাও আমরা দিয়ে থাকি।
এসব দোকান বিভিন্ন উত্সবকে কেন্দ্র করে পোশাক তৈরি করে থাকে। এ বছর গরমে ঈদ হওয়ার কারণে পাতলা সুতি কাপড়ে হাল্কা প্রিন্টের ছাপ দেয়া হচ্ছে এবং হালকা ছাপের ব্লক এমব্রয়ডারি কাজে প্রাধান্য দিয়েছেন বেশি। ডিজাইনের পাশাপাশি পোশাকে ব্যবহার করা উজ্জ্বল রঙ ও উজ্জ্বল রঙের এমব্রয়ডারি। চুড়িদার পায়জামা ও সালোয়ার— দুটোই সমানভাবে চলছে।
কামিজের নিচে চওড়া ছাপ প্রিন্ট দিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে। এবার স্টাইল হচ্ছে লং এবং সেমি লং কমিজ। এসব কামিজে গলায় লম্বা ব্লক আর এমব্রয়ডারি ভরাট কাজ হচ্ছে। হাতে প্রিন্ট করা, ব্লক ও বুটিক করা ডিজাইন রয়েছে। কামিজে পরিচ্ছন্ন সামঞ্জস্যপূর্ণ এমব্রয়ডারি কামিজগুলোকে আরো রুচিশীল করেছে। এবারের ঈদে সালোয়ার-কামিজের কালেকশনে রঙ, ডিজাইন, কাটিং প্রতিটি ক্ষেত্রে রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। ব্লক-প্রিন্টের দোকানগুলো প্রত্যেকেই বিভিন্ন ডাইসের সমন্বয়ে তৈরি করছেন তাদের নিজস্ব ডিজাইন।