দেনায় দেনায় জর্জরিত কর্ণফুলী পেপার মিল

ভয়াবহ আর্থিক সংকটে পড়ে চন্দ্রঘোনায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত কাগজকল কর্ণফুলী পেপার মিল লিঃ (কেপিএম) বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বর্তমানে মিলটি দেনায় জর্জরিত। মিলে কাগজ উত্পাদনের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল (বাঁশ, পাল্পউড) এবং রাসায়নিক সামগ্রী ক্রয় করতে পারছে না কারখানা কর্তৃপক্ষ। পারছে না কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শ্রমিকদের বেতন-ভাতা সময়মত পরিশোধ করতে। বকেয়া আদায়ে ব্যর্থতায় নতুনভাবে কাঁচামাল সরবরাহে আগ্রহ হারাচ্ছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো। কাঁচামাল সরবরাহের জন্য মিলের আহূত টেন্ডারে তারা নিয়মিত অংশগ্রহণ করছে না। এতে মিলে কাঁচামালের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ রসায়ন শিল্প সংস্থার (বিসিআইসি) বৃহত্ কাগজ উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী পেপার মিল। কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনায় অবস্থিত এই কারখানার ৩টি ইউনিটে দৈনিক কাগজ উত্পাদন ক্ষমতা রয়েছে ১১০ থেকে ১৩০ মেট্রিক টন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা আর দুর্নীতির কারণে কারখানাটি এখন চরম অর্থ সংকটে পতিত হয়েছে। কেপিএমের কাছে বিভিন্ন ঠিকাদার, সংস্থা, রাজস্ব বিভাগ, গ্যাস সরবরাহকারী কোম্পানিসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কমপক্ষে ৬০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। কারখানা থেকে অবসরে যাওয়া শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা রয়েছে কোটি টাকার বেশি। বর্তমানে ফান্ডে কোন অর্থ না থাকায় মিলের স্বাভাবিক পরিমাণ কাগজ উত্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল কিনতে পারছে না কেপিএম। কারখানার উত্পাদন বিভাগ থেকে গত শনিবার প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, মিলে দৈনিক কাগজ উত্পাদন হচ্ছে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মেট্রিক টন। এতে মিলে দৈনিক প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে। মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মোছাব্বিরুল ইসলাম বলেন, কর্ণফুলি পেপার মিলস (কেপিএম) লিঃ ১৯৫৩ সালে দেশের প্রথম পেপার মিল হিসেবে স্থাপিত হয়। কালের আবর্তে মিলের অনেক যন্ত্রপাতি কলকব্জা স্বাভাবিকভাবেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। ভৌত অবকাঠামোও হয়েছে জরাজীর্ণ। অনেক ইউনিট ও যন্ত্রপাতির আয়ু্ষ্কালও শেষ হয়ে গেছে। ফলে মিলে স্বাভাবিক উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। কারখানার হারানো উত্পাদন ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের জন্য বেশ কিছু প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির প্রতিস্থাপন, সংস্কার ও মেরামত জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে ২০/২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কষ্টিক রিকোভারি এবং এস আর বয়লারসহ বিভিন্ন স্বল্প মেয়াদি সংস্কার পরিকল্পনার কাজ চলছে। বিসিআইসির অর্থায়নে আগামী ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাস নাগাদ এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে মিলের উত্পাদন পরিস্থিতি উন্নয়নের কার্যক্রম চলছে। তিনি বলেন, দুর্নীতি অনিয়মসহ পুঞ্জিভূত সমস্যা দূরীকরণে প্রশাসন তত্পর রয়েছে । বর্তমানে মিলের সার্বিক অবস্থা উন্নতির দিকে। তবে মিলের কয়েকজন পদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মিলে চরম অর্থ সংকট রয়েছে। এই অর্থ সংকটের নেপথ্যে রয়েছে অনিয়ম, দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনা। চরম অর্থাভাব আর কাঁচামাল সংকটে কারখানাটি যে কোন মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মিলের শ্রমিক-কর্মচারীরা।