কমে গেছে বট-দেবদারুসহ বড় বড় প্রাচীন গাছ
নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০১৪, ২২:০২
বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জে বড় বড় প্রাচীন বৃক্ষরাজিতে বসতি গড়তো শকুনসহ বিভিন্ন ধরনের পাখি। কিন্তু কালের বিবর্তনে বর্তমানে শকুনসহ বড় বড় পাখির বাসা তৈরি ও বিশ্রাম নেয়ার মতো বড় গাছের সংখ্যা খুব কম। সরকারি বনসহ বিভিন্ন বনাঞ্চলেও বড় গাছের পরিমাণ কমে গেছে। শিমুল, ছাতিম, দেবদারুর মত প্রাচীন বৃহদাকার গাছ এখন সহজে চোখে পড়ে না। ফলে গত ৩ যুগে আশংকাজনক হারে কমে গেছে পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় পাখি শকুন। গ্রামগঞ্জে এক সময়ে গবাদি পশুর মৃতদেহ যেখানে নিয়ে ফেলা হতো সেখানে দলে দলে হাজির হতো শকুন। দ্রুতগতিতে তারা মৃত গবাদি পশুর মাংস খেয়ে সাবাড় করে দিত। মৃত পশুর রোগ জীবাণু শকুনের পেটে দ্রুত ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে এই শকুনই প্রকৃতি হতে মৃতদেহ অপসারণের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু বর্তমানে বিপন্ন প্রজাতির প্রাণীদের তালিকায় স্থান পেয়েছে পরিবেশ রক্ষাকারী পাখি শকুন।
বিজ্ঞানীরা বলেছেন, শকুন না থাকার কারণে বাংলাদেশে অ্যানথ্রাক্স, যক্ষ্মা, ক্ষুরা রোগ ইত্যাদি মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার এবং জলাতঙ্ক রোগ বেড়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। শকুন না থাকায় গবাদি পশুর মৃতদেহ এখন শিয়াল, কুকুর, ইঁদুর, কাক, চিলসহ অন্যান্য প্রাণী খাচ্ছে। এদের পেটে রোগ জীবাণু নষ্ট না হওয়ায় জঙ্গল ও জনপদে ছড়াচ্ছে মারাত্মক সব ব্যাধি।
শতবর্ষী বট, রেইনট্রি (শিরিষ), দেশীয় কড়ই, কদমসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করছে, অন্যদিকে প্রকৃতির শোভাবর্ধন করে চলেছে। কিন্তু এগুলো রক্ষায় তেমন কোন উদ্যোগ নেই। কিছু সংখ্যক সুবিধাভোগী মানুষের আত্মবিনাসী কার্যক্রমে পুরনো এই গাছগুলো সাবাড় হচ্ছে, রোগাক্রান্ত হয়েও মরে যাচ্ছে অনেক গাছ। কিছু কিছু গাছের ফল আবার পাখির খাবারের অন্যতম উত্স। গাছ কমে যাওয়ায় পাখিরও খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জসহ বিভিন্ন অঞ্চলে এখনও মাঝে মধ্যে চোখে পড়ে শতবর্ষী বটগাছ, যদিও সংখ্যায় তা নিতান্তই কম। ক্লান্ত পথিক এসব বটগাছের শীতল ছায়ায় গা জুড়িয়ে নেয়। এই গাছের পাতা, ফল ও বীজ পশুপাখির খাবারের প্রয়োজন মেটায়। শুকনো ডালপালা জ্বালানি হিসাবে ব্যবহূত হয়। সর্বোপরি বিশাল এই গাছটি জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেনের এক বিশাল আধার।
সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (বন্যপ্রাণী) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, বনের মধ্যে বট গাছ না থাকলেও লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে কিছু জারুল, কদম, রেইনট্রি গাছ রয়েছে। তবে প্রকৃতি রক্ষায় এ গাছগুলোকে টিকিয়ে রাখা প্রয়োজন। কমলগঞ্জের রাজকান্দি বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রাচীনতম এসব গাছ প্রকৃতি সুরক্ষায় খুবই প্রয়োজনীয় হলেও এগুলোর অনেকগুলোই ব্যক্তি মালিকানাধীন, কতগুলো আবার রাস্তার পাশে থাকায় সেসব দেখভালের দায়িত্ব সরকারি ভিন্ন সংস্থার। ইচ্ছা থাকলেও তারা কোন পদক্ষেপ নিতে পারছেন না। অনেক সময় সড়ক সংস্কার, মেরামত ও প্রতিষ্ঠান স্থাপনের কারণে সেগুলো কেটে ফেলা হচ্ছে।