টাকা দিলে মুক্তি মেলে নইলে ফের গ্রেফতার

আদালত জামিনের আদেশ দিয়েছে। স্বজনরা অধীর আগ্রহে জেলগেটে অপেক্ষা করছেন। দীর্ঘ সময় ধরে প্রতীক্ষার পর কারাগার থেকে বের হলেন কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিটি; কিন্তু কারাগারের গেট থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ওই ব্যক্তিকে আবার ঘিরে ধরলো পুলিশ। বলা হলো, থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। সেই মামলায় তাকে পুনরায় গ্রেফতার করা হলো। মামলায় জামিন পেয়েও রক্ষা নেই তার। স্ত্রী, সন্তানদের কাকুতি-মিনতি উপেক্ষা করে পুলিশের পিক-আপ ভ্যানে তুলে নেয়া হলো দীর্ঘদিন জেলে কাটিয়ে আসা ব্যক্তিটিকে। চট্টগ্রাম কেন্দ ীয় কারাগারের সামনে এই দৃশ্য এখন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। এক মামলায় জামিন পাওয়া আসামিকে আরেক মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে জেলগেট থেকে পুনরায় গ্রেফতার করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম কারাগারে এমন বন্দিও রয়েছেন যাকে গত এক বছরে জেলগেট থেকে ৫ বার শ্যোন অ্যারেস্ট করা হয়েছে। চট্টগ্রাম কারাগারে সাম্প্রতিক সময়ে তিন-চারবার জেলগেটে গ্রেফতার হওয়া হাজতির সংখ্যা শত শত বলে জানা গেছে। এক মামলায় জামিন পেয়ে আরেক মামলায় আবার গ্রেফতার হয়ে কারাগারের অন্ধকার জীবনে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন তারা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্বাচনের আগে সরকার বিরোধী আন্দোলনের সময় ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, পুলিশের কাজে বাধাদানসহ নাশকতার অভিযোগে চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন থানায় শত শত মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় আসামি করা হয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের। আসামি করা হয় অসংখ্য অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও। এসব মামলার আসামিদেরকেই জেলগেট থেকে বারবার গ্রেফতার করা হচ্ছে বলে পুলিশ দাবি করেছে। তবে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা বলেন ভিন্ন কথা। তাদের অভিযোগ, এসব মামলায় অসংখ্য অজ্ঞাত পরিচয় আসামি থাকার সুযোগ নিচ্ছে পুলিশ। মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে অন্য মামলায় জামিন পাওয়া হাজতিকে অযথা হয়রানি করছে। নাশকতার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জেলগেট থেকে আটক করে থানায় নিয়ে টাকা দাবি করা হচ্ছে। টাকার পরিমাণ ৫ হাজার থেকে শুরু করে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। টাকা দিলে মুক্তি মেলে। নয়তো আবার গ্রেফতার করে আদালতে চালান দেয়া হয়। অভিযোগ পাওয়া গেছে, বিভিন্ন উপজেলায় নাশকতার ঘটনায় এমন ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে যিনি কখনোই ওই এলাকায় যাননি। শুধু পুলিশকে টাকা না দেয়ার কারণে তাকে আসামি করা হয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন। নাশকতার মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে শুধু যে রাজনীতিবিদরাই রয়েছেন তা নয়। ছাত্র, চাকরিজীবী এমনকি নিরীহ দিনমজুর শ্রেণির লোকদেরও হয়রানি করা হচ্ছে। জানা গেছে, এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে আদালত জামিন দিলেও তাকে অন্য মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়। ফলে ওই পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়। এ বিষয়ে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার ইত্তেফাককে বলেন, যাদের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলা রয়েছে শুধু তাদেরই পুনরায় গ্রেফতার করা হচ্ছে। এখন নাশকতার ঘটনা ঘটছে না। তাই জেলগেটে গ্রেফতারের ঘটনা ক্রমান্বয়ে কমে যাবে। পুলিশের টাকা নেয়ার বিষয়টি অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দেখবেন বলে জানান।