ঈদে ট্রেনের টিকিট ২০ জুলাই থেকে
প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০১৪, ২২:৫৬
ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে আগামী ২০ জুলাই ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে। ২৪ জুলাই পর্যন্ত টিকিট দেয়া হবে। ২৭ জুলাই থেকে পাওয়া যাবে ফিরতি টিকিট। সকাল নয়টা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত টিকিট বিক্রি চলবে।
গতকাল রবিবার রাজধানীর ‘রেল ভবনে’র যমুনা সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান রেলমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক। তিনি জানান, ২০ জুলাই পাওয়া যাবে ২৪ জুলাইয়ের টিকিট, ২১ জুলাই ২৫ জুলাইয়ের, ২২ জুলাই ২৬ জুলাইয়ের, ২৩ জুলাই ২৭ জুলাইয়ের এবং ২৪ তারিখে ২৮ জুলাইয়ের টিকিট দেয়া হবে। আগামী ১৪ জুলাই থেকে পাওয়া যাবে সব রুটের বাসের অগ্রিম টিকিট।
ট্রেনের টিকিটের বিষয়ে রেলমন্ত্রী জানান, প্রতিবারের মতো এবারো কালোবাজারি প্রতিরোধে একজন যাত্রীকে সর্বোচ্চ চারটি টিকিট দেয়া হবে। ঈদে যাত্রী চলাচলেও যাতে কোনো ধরনের অসুবিধা না হয় সে জন্য রেলওয়ে স্টেশন ও স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। চলন্ত ট্রেনে, স্টেশনে বা রেল লাইনের কোথাও যাতে কোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড না ঘটে সে বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা কর্মীদের নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানান মন্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঈদ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল অব্যাহত রাখাসহ যাত্রীদের চাহিদা ও রেল রুটের গুরুত্ব বিবেচনায় ১০টি বিশেষ ট্রেন চালু করা হবে। এদের মধ্যে ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ এক জোড়া, চট্টগ্রাম-চাঁদপুর দুই জোড়া, ঢাকা-খুলনা একজোড়া ও ঢাকা-পার্বতীপুর একজোড়া ট্রেন চলাচল করবে। ঈদের আগেই সর্বোচ্চ সংখ্যক যাত্রী পরিবহনের জন্য ট্রেনগুলোতে নতুন ১৬৬টি বগি সংযোজন করা হয়েছে। রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ভিআইপিদের জন্য ৫ শতাংশ টিকিট সংরক্ষিত থাকবে। প্রতিদিন প্রায় ১৮ হাজার টিকিট বিক্রি করা হবে। ঈদে স্বাভাবিক ও বিশেষ ট্রেন কোনো কারণে দুর্ঘটনার কবলে পড়লে তা উদ্ধারের জন্য রিলিফ ট্রেন সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হবে। সুষ্ঠু ট্রেন পরিচালনা ও সময়সূচি রক্ষার্থে চলন্ত ট্রেনে চেকিং করা হবে। ট্রেনে যাতে অতিরিক্ত যাত্রী এবং ছাদে যাতে যাত্রীরা ভ্রমণ করতে না পারেন সে বিষয়ে নজর রাখবে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ২৭ জুলাই থেকে পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে বিক্রি হবে ফিরতি টিকিট। এদিন বিক্রি হবে ৩১ জুলাইয়ের টিকিট, ২৮ জুলাই ১ আগস্টের, ২৯ জুলাই ২ আগস্টের, ৩০ জুলাই ৩ আগস্টের এবং ৩১ জুলাই ৪ আগস্টের ফিরতি অগ্রিম টিকিট বিক্রি হবে।
ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে ট্রেনের শিডিউল ঠিক রাখা হবে। এছাড়া ঢাকায় সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুম ছাড়াও চারটি ডিআরএম অফিসে কন্ট্রোল রুম বসানো হবে। সেখানে ভিজিল্যান্স টিম থাকবে। ঈদ উপলক্ষে রেলের গুরুত্বপূর্ণ সকল কর্মকর্তার ছুটি বাতিল করা হয়েছে। প্রয়োজনে বিশেষ কিছু কর্মচারীর ছুটি বাতিল করে দায়িত্ব পালন করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা স্টেশনের মত ঢাকা বিমানবন্দর, জয়দেবপুর, সিলেট, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর ও দিনাজপুরসহ অন্যান্য বড় বড় স্টেশনে র্যাব-মেট্রোপলিটন পুলিশের টহল, রেলওয়ে পুলিশ ও আরএনবি দিয়ে সার্বক্ষণিক প্রহরার ব্যবস্থা করা হবে। সম্ভাব্য ক্ষেত্রে সিসি ক্যামেরাও ব্যবহার করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রেল সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ, মহাপরিচালক (ডিজি) তাফাজ্জল হোসেনসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
১৪ জুলাই (১৫ রমজান) থেকে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গে বাসের টিকিট বিক্রি শুরু হবে। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের গাবতলী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী সদস্য মো. সালাউদ্দিন এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সকাল ১১টায় উত্তরবঙ্গের বাস মালিক ও ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দক্ষিণবঙ্গের ব্যবস্থাপকদের নিয়ে বৈঠক হয়। এই বৈঠকেই ১৫ রমজান থেকে বাসের অগ্রিম টিকেট বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে যাত্রীদের কাছ থেকে যেন বাড়তি ভাড়া আদায় করা না হয় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরকার নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী ভাড়া নেয়ার জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বৈঠকে।
সাধারণত প্রতিবছর ঈদের আগে ঘরে ফেরা মানুষের জন্য বাড়তি চাপ সামলাতে নির্ধারিত ট্রিপের চাইতে অতিরিক্ত বাসের ব্যবস্থা করা হয়। এবারও তাই করা হচ্ছে। তবে যাত্রীদের সুবিধার্থে ঈদের জন্য ৭ দিনের অগ্রিম টিকেট বিক্রি করা হবে।