কী করে এলো
পানিই সেরা
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০১৪, ২০:৪২
গরমের ক্লান্তিই হোক কিংবা সারাদিনের রোজা শেষে ইফতারের সময়, হাজারও রকমের খাদ্যের ভিড়ে আমরা সবার আগে যেটা পান করতে চাই সেটা হলো ঠান্ডা এক গ্লাস পানীয়। এটা হতে পারে স্রেফ বিশুদ্ধ এক গ্লাস পানি, আবার হতে পারে লেবুর শরবত, ফলের রস, লাচ্ছি কিংবা কৃত্রিম কোনো জ্যুস। স্বাদ আর তৃপ্তির কথা মাথায় রেখে এভাবে একেকজন মানুষ হয়তো একেকটি পানীয় বেছে নেন; তবে নানা ধরনের পানীয় এবং মানবশরীরে এদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে যারা কাজ করছেন সেসব বিজ্ঞানীদের মধ্যে সবকিছুর মধ্যে সেরা হলো বিশুদ্ধ পানি। শুধু তাই নয়, ক্লান্তি বা ঘুম ঘুম ভাব পরিহার করতে নানা সময়ে মানুষ যে চা বা কফি পান করে সেগুলোর চাইতেও পানি অনেক বেশি নিরাপদ। পানির সাথে অন্যান্য পানীয়র তুলনা করতে যেয়ে হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথের গবেষণা প্রবন্ধে বলা হয়েছে, বাজারে যেসব প্রক্রিয়াজাত ফলের রস পাওয়া যায় সেগুলো উচ্চ ক্যালরি ও চিনিযুক্ত হওয়ায় তা পক্ষান্তরে ওজন বৃদ্ধি, ডায়বেটিস বা হূদরোগের মতো নানা রোগের ঝুঁকি তৈরি করে। এ ছাড়া এসব পানীয় যদি অতিমাত্রায় শীতল অবস্থায় গ্রহণ করা হয় তাহলে পানীয় দেহের ভেতর প্রবেশ করার পর এর তাপমাত্রা দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রার অনুরূপ করতে শরীরকে অতিরিক্ত ক্যালরি খরচ করতে হয়। অন্যদিকে সব ধরনের পানীয়র মধ্যে পানিই আমাদের শরীরে সৃষ্টি হওয়া পিপাসার অনুভূতিকে সবচেয়ে বেশি তৃপ্ত করতে পারে এবং এটি নিঃসন্দেহে সুগার ও ক্যালরি ফ্রি। তাছাড়া পানি আমাদের দেহে খুব তাড়াতাড়ি শোষিত হয় এবং দেহের তরলের সাথে ভারাসাম্যপূর্ণভাবে মিশে যায় বলে এটিকে প্রক্রিয়াজাত করতে আমাদের শরীরযন্ত্রের বাড়তি বেগ পেতে হয় না। আবার নানা সময়ে যেসব মানুষ তাদের ক্লান্তি বা ঘুম ঘুম ভাব দূর করতে চা, কফি বা এনার্জি ড্রিঙ্কের মতো পানীয় পান করেন তাদের দেহে এসব পানীয় কখনো কখনো পানিশূণ্যতাও তৈরি করতে পারে। তাছাড়া এসব পানীয়তে থাকা চিনি বা ক্যাফেইন জাতীয় উপাদান রক্তে শর্করার পরিমাণ ও রক্তচাপ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। কাজেই এসব কিছু বিবেচনা করেই সুস্থ শরীরের জন্য এসব পানীয় যথাসম্ভব এড়িয়ে চলার পরামর্শই দিয়েছেন গবেষকরা।