শিশু জিহাদ বাবার ব্যবসায়ের সহযোগী

বাইসাইকেলের দুই হাতলে ব্যাগভর্তি পুটিং। পেছনে আট বছরের শিশু জিহাদ। জিহাদের হাতে হাতমাইক। বাবা নওশা মিয়া হেঁটে হেঁটে সাইকেল চালান। পিছনে শিশুটি মাইকে বলে- টিনের ঘরের ফুটা বন্ধ করেন, পানি পড়া বন্ধ করেন, দশটাকা দিয়ে পুটিং কিনেন, ঘরের পানি পড়বে না। এভাবে সকাল থেকে রাতঅবধি গাইবান্ধা শহরের বিভিন্ন সড়কে পুটিং বিক্রি করেন নওশা মিয়া। জিহাদ জানায়, বাবা একাই বিক্রি করতে পারে না। তাই আমাকে নিয়ে আসে। আমি মাইকে বলি, বাবা বিক্রি করে টাকা নেন। ষাটোর্ধ্ব নওশা মিয়ার বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলা ইউনিয়নের পূর্ব দুর্গাপুর গ্রামে। তিনি একজন অ্যাজমা রোগী। পাঁচবছর ধরে তিনি এই পুটিং বিক্রি করেন। নওশা মিয়ার ছয় মেয়ে এক ছেলে। চার মেয়ের বিয়ে হয়েছে। দুই মেয়ে সেলিনা খাতুন নবম ও ছোট মেয়ে লাকী খাতুন তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। জিহাদের লেখাপড়ার সুযোগ হয়নি। ছেলের সহযোগিতা নিয়ে পুটিং বিক্রি করে পাঁচ সদস্যের সংসার কোনমতে চলে।