তারকার ঈদ ভাবনা

 

বছরের দুই ঈদের মধ্যে রোজার ঈদেই সবার আনন্দটা থাকে একটু বেশি। যাঁর যাঁর মতো করে আনন্দ যাপনে ব্যস্ত থাকেন সবাই। ঈদ এলে তারকাদেরও আনন্দের সীমা থাকে না। ঈদের আগে সব কাজ শেষ করে ঈদের আনন্দে মেতে ওঠেন তাঁরাও। সবার মনেই বইতে থাকে আনন্দের জোয়ার। শোবিজ তারকাদের ঈদ ভাবনা ও ঈদ আনন্দ নিয়ে লিখেছেন ইমরুল নূর

ইমরান মাহমুদুল

ঈদ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় একটি উত্সব। আর ঈদকে ঘিরেই এসময় সবার মনে আনন্দ বিরাজ করে। ধনী-গরিব সবাই এই দিনটাতে এক হয়ে যায়। এই আনন্দটাকে সবাই একযোগে উপভোগ করে। এসময় সবাই সবার পরিবারের সঙ্গে সময় কাটায়। এই আনন্দটাই অন্যরকম। আমার কাছেও ঠিক তেমনি। ঈদ মানে আনন্দ। আর আমার ঈদ তো গানে গানেই কেটে যায়। আমরা যাঁরা গান করি, তাঁদের ঈদ তো মূলত শো কিংবা বিভিন্ন প্রোগ্রাম করে কাটিয়ে দিতে হয়। আর যদি প্রোগ্রাম না থাকে, তাহলে বাসায় টেলিভিশন দেখে দিন পার করি। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাই। সন্ধ্যার পর বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিই, ঘুরতে বের হই। অনেক মজা করি। এবার ঈদেও বেশকিছু গান আসছে আমার। সবকিছু নিয়েই এবারের ঈদটা বেশ ভালোই কেটে যাবে। আর আমার কাছে ঠিক বন্ধুর মতো ছিলেন বাবা। তাঁকে হারিয়ে ফেলেছি দুই বছর হয়ে গেল। এই সময়টাতে বাবাকে খুব বেশি মিস করি। আসলে সবসময় মিস করি। কিন্তু ঈদের সময় বাবার সঙ্গে ঈদগাহে নামাজ পড়তে যাওয়াটা খুব বেশি মিস করি। ছোটবেলায় ঈদে অনেক মজা করতাম, যেটা এখন আর পারি না। তখন ঈদের আগে কেনাকাটা করতাম, কিন্তু সেগুলো কাউকে দেখাতাম না।

 

ইমন

ঈদ মানেই আনন্দ। ছোটবেলা থেকে এখন পর্যন্ত আমি সবসময়ই ঈদকে খুব স্পেশালভাবে দেখি। ঈদের আগে কাজের চাপটাও এখন খুব এনজয় করি। ঈদের দিন পাঞ্জাবি পরে নামাজ পড়তে যাই। বাসায় এসে প্রথমে আব্বু-আম্মুকে সালাম করি। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, ঘুরাঘুরি করা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া—আমার কাছে ঈদ মানেই এটা। এবারের ঈদটা আমার জন্য আরো একটু স্পেশাল। ঈদে আমার ছবি মুক্তি পাচ্ছে। তাই আনন্দটা অনেক গুণ বেড়ে গিয়েছে। হলে হলে গিয়ে দর্শকদের সঙ্গে সিনেমা দেখব। আমি সবসময় ঢাকাতেই ঈদ করি, তবে ছুটি কাটাতে ঈদের পরে দেশের বাইরে যাই সবসময়। কিন্তু এবার যাব না। এবার সিনেমার সঙ্গেই থাকব। এক সপ্তাহ পর এবার আমেরিকা যেতে পারি। বিভিন্ন শো করার কারণে দেশের বাইরেও ঈদের অভিজ্ঞতা রয়েছে। কারণ তখন শোতে আরো অনেকেই থাকত, তাঁরা সেমাই রান্না করতেন, আমরা সবাই খেতাম। তবে মজা হতো অনেক। 

 

কর্ণিয়া

ঈদ মানেই খুশি। পরিবার, বন্ধু-বান্ধবসহ সবার সাথে আনন্দটা ভাগ করে পালন করা। সবাইকে নিয়ে হাসিখুশি থাকা। আর দুঃসহ ও গরিবদের মাঝে ঈদে যে যাকাত দেওয়ার ব্যবস্থাটা রয়েছে সেটা আমার খুব ভালো লাগে। ঈদে খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে মাকে কাজে সাহায্য করি। ঈদের দিনটাই একমাত্র সময় যেদিন সব কাজ রেখে পরিবারকে সময় দেওয়া যায়। সারাদিন পরিবারের সাথেই থাকি। কোন প্রোগ্রাম থাকলে অনেক সময় সেটাও হয় না।

এবারের ঈদ গানের মধ্য দিয়েই কেটে যাবে। ঈদের আগে থেকে বেশ কিছু গানের অনুষ্ঠান রয়েছে সেগুলো করব। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে কিছু শো আছে। এবার ঈদটা শ্রোতাদর্শকদের সাথেই আনন্দে কেটে যাবে।

ঈদে সালামির বিষয়টা আমি খুব উপভোগ করি। ছোটবেলা থেকেই চকচকে নোটের প্রতি আমার একটা দুর্বলতা কাজ করে। বাবা-চাচারা নামাজ পড়ে আসলে আমরা কাজিনরা মিলে তাদের কাছ থেকে চকচকে নতুন নোট নেওয়ার জন্য বায়না ধরি। তখন দুই টাকা পাঁচ টাকা করে দিত।

 

সিয়াম আহমেদ

ঈদ সবসময় খুব আনন্দের। এবার ঈদ নিয়ে অনেক পরিকল্পনা ছিল। আমার স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির মানুষজনের সঙ্গে আমার প্রথম ঈদ এটা। এখন যেহেতু শান সিনেমার শুটিং নিয়ে ব্যস্ত রয়েছি, তাই পরিকল্পনামতো কিছুই করতে পারছি না। কারণ ছুটি পাচ্ছি না। তবে দুইদিনের একটা ছুটি পাব, সেটা শুধু আমার পরিবারকে নিয়ে কাটাতে চাই। দুই পরিবারকে নিয়ে যেন একটা সুন্দর সময় কাটাতে পারি, এখন এটাই পরিকল্পনা। আর কিছুই চাওয়ার নেই। যদি শৈশবের দিকে ফিরে যাই, তাহলে বলব, শৈশবের ঈদটাই হলো পরিপূর্ণ ঈদ, কোনো কারণ ছাড়া খুশি হওয়ার ঈদ। আর এখনকার ঈদ হলো অনেক ক্যালকুলেটিভ ঈদ। মাথায় অনেক হিসাবনিকাশ। কয়দিন ছুটি পাচ্ছি, ঈদের জন্য কত টাকা হাতে আছে, কত টাকা খরচ করব, সবাইকে গিফট দিতে পারব না কি, সালামি দিতে পারব না কি বা সবার মন খুশি করতে পারব না কি—এগুলা নিয়েই হিসাবনিকাশ করতে করতে সময় চলে যায়। তাই এটা একটা প্রেসারের ঈদ এখন। তবে ছোটবেলার ঈদগুলো ছিল একদম নিশ্চিন্ত।

 

হিমি

আমি তো এখনো অনেক ছোটই। আমার কাছে ঈদ মানে আনন্দ আর মজা করা। পরিবার, কাজিনদের সঙ্গে সময় কাটানোই হচ্ছে আমার ঈদ। আগে যখন খুব ছোট ছিলাম, তখন খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে আশপাশে সবার বাড়িতে যেতাম সেমাই আর পায়েস খেতে। এখন আত্মীয়স্বজনদের বাসায় ছাড়া কোথাও যাওয়া হয় না। একটা বিষয় খুব মজা করতাম আমরা যখন পুরান ঢাকায় ছিলাম, তখন ঈদের দিন সন্ধ্যায় আমরা সবাই কাজিনরা মিলে পুরান ঢাকার একটি দোকানে চটপটি খেতাম। এটা কখনো মিস হতো না। এখনও সবাই একসঙ্গে হলে আমরা সেখানে গিয়ে চটপটি খাই।  আর ঈদের সময় আমাদের বাসায় সবসময় খিচুরি আর গরুর মাংস রান্না করা হয় সেই ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি। এটা কখনো মিস হয় না। ঈদি পেলে তখন অনেক খুশি হতাম। সবার কাছ থেকে সালামি নিতাম। এখনো নিই আমি, কিন্তু নেওয়ার পাশাপাশি দিতে হয়।