গোয়ালন্দে পদ্মায় বিলীন হচ্ছে চর বনায়ন
আব্দুল আউয়াল, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০১৪, ২১:৫৪
গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের দেবগ্রাম মৌজায় অবস্থিত চর বনায়ন পদ্মার ভাঙ্গনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাগানের উপকারভোগী সদস্যরা দ্রুত বাগানের গাছ বিক্রির দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু বন বিভাগ বলছে চুক্তিপত্র অনুযায়ী সময় না হওয়ায় কোন গাছ বিক্রি করা বা কাটা যাচ্ছে না।
উপজেলা বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পদ্মার পাড়ে দেবগ্রাম মৌজায় ২০০৪/০৫ সালে ৬৭ হেক্টর বা ২০০ বিঘা ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির উপর বন বিভাগ আকাশমনি, রেন্ট্রি, বাবলা ও অর্জুন প্রজাতির প্রায় দুই লাখ গাছের চারা রোপণ করে। কিন্তু বনায়নের দুই বছর পর থেকেই নদী ভাঙ্গন দেখা দেয়। এ পর্যন্ত প্রায় ৪২ হেক্টর বা ১২৬ বিঘা বনায়নকৃত জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ভূমি মালিক, উপকারভোগী ৪১ জন সদস্য ছাড়াও সরকার। চুক্তিপত্রের নিয়ম অনুযায়ী একটি বনায়ন প্রকল্পের বয়স ন্যূনতম ১০ বছর না হলে কোন গাছের দরপত্র আহবান করা বা গাছ কাটা যায় না। কিন্তু নিয়মের ফাঁদে পড়ে প্রতিবছর নদী ভাঙ্গনে বনায়ন ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। ভাঙ্গনের কবলে বনায়নের অবশিষ্ট গাছগুলো নদীতে বিলীন হওয়ার আগেই দ্রুত বিক্রি বা কাটার দাবি জানিয়েছেন উপকারভোগী সদস্যরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙ্গনে বাগানের অনেক এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। চোখের সামনে গাছগুলো নদীতে বিলীন হতে দেখে উপকারভোগীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।
বনায়নের উপকারভোগী সদস্য হোসেন মৃধা, ফৈজদ্দিন মোল্যা, পিয়ার আলী মৃধাসহ অনেকেই জানান, গত বছরও শত শত গাছসহ বাগানের অনেক জমি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। বার বার কর্তৃপক্ষকে বললেও নিয়মের কথা বলে কোন ব্যবস্থা নেননি তারা। এবারও নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত অবশিষ্ট গাছ বিক্রির ব্যবস্থা করে তাতে কিছুটা হলেও সদস্যরা উপকার পাবেন।
চর বনায়ন কমিটির সভাপতি আব্দুল আহাদ মৃধা বলেন, সাধারণ দরিদ্র মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন চোখের সামনে নদীগর্ভে শেষ হয়ে যাচ্ছে। অথচ কর্তৃপক্ষ নিয়মের কথা বলে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। উপজেলা বন কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, সরকার বা চুক্তিপত্রের নিয়ম অনুযায়ী বনায়নের মালিক উপকারভোগী সদস্য/দখলদার ৪৫ ভাগ, সরকার ৩৫ ভাগ ও ভূমির মালিক ২০ ভাগ। ন্যূনতম ১০ বছরের আগে বাগানের গাছ কাটা বা বিক্রি নিষেধ। এ কারণে প্রতি বছর নদী ভাঙ্গনে বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আমরা কিছুই করতে পারছি না। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে ব্যবস্থা নেয়া যাবে।