নেইমার অভাব ঘোচাতে প্রস্তুত উইলিয়ান-বার্নার্ড
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০১৪, ২২:০৪
ব্রাজিল তো বটেই পুরো ফুটবল বিশ্বজুড়েই এখন সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন এটা। কে জার্মানির বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে নেইমারের জায়গা নিচ্ছেন? দলের কোচ এবং টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের ইঙ্গিত সেই খেলোয়াড়টি হতে যাচ্ছেন উইলিয়ান অথবা বার্নার্ড। তবে দুইজনেই জানালেন, আগামীকাল রাত ২টায় ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নেইমারের অভাব ঘোচাতে পরিপূর্ণ আত্মবিশ্বাসী তারা।
নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষের পথে। রেফারির শেষ বাঁশি শোনার অপেক্ষায় সবাই। ঠিক সেই সময়েই ঘটলো ঘটনাটি। কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার হুয়ান ক্যামিলো জুনিগা পেছন থেকে আঘাত করলেন নেইমারকে। আঘাতের তীব্রতায় ভূপাতিত হলেন ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় তারকাটি। একই সঙ্গে বড় আঘাত পেল ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নও। টুর্নামেন্টে দলের সবচেয়ে সফল এবং ধারাবাহিক তারকাটিকে হারানোর শোকে এখনও স্তব্ধ ব্রাজিল। তবে উইলিয়ান জানালেন এই শোককেই শক্তিতে পরিণত করবে ব্রাজিল। লুই ফেলিপে স্কলারির পছন্দের এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার বলেন, ‘আমাদের শক্তিমত্তা সম্পর্কে আমরা সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল। তাকে হারিয়ে আমরা ব্যথিত, তবে একই সঙ্গে আমরা জানি এটা আমাদের মানসিকভাবে আরো শক্তিশালী করে তুলেছে। স্বপ্ন পূরণের জন্য এখন আমরা অনেক বেশী বদ্ধপরিকর।’
তবে নেইমারের অভাব পূরণ করাটা যে মোটেই সহজ হবে না, এই চেলসি তারকা স্বীকার করলেন সেটাও, ‘নেইমার আসলে আমাদের জন্য একটা মানদণ্ড ঠিক করে দিয়েছে। তার ক্ষমতা আছে যে কোন ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের। তাকে ছাড়া খেলাটা সবসময়ই কঠিন।’
পাশাপাশি সমর্থকদের মনে করিয়ে দিলেন, নেইমারের বিকল্প হিসাবে যদি নামেনও তবু নেইমারের ভূমিকায় খেলানো হবে না তাকে। আর মানের দিক থেকেও নিজেকে এই বার্সেলোনা তারকার সমকক্ষ ভাবতে নারাজ তিনি, ‘আপনি কাউকেই নেইমারের সাথে তুলনা করতে পারেন না। মানের দিক থেকে সে অবিশ্বাস্য। তাছাড়া আমাদের খেলার স্টাইলও ভিন্ন। সে খেলে অনেকটা স্ট্রাইকারের ভূমিকায়। আর আমার ভূমিকাটা একজন মিডফিল্ডারের সাথে তুলনীয়। গোল করা নয় বরং সুযোগ সৃষ্টি করাই যার প্রধান কাজ। তবে একই সাথে কিছু মিলও আছে আমাদের মধ্যে। যেমন, আমরা দুইজনেই অনেক জোরে ছুটতে পারি।’
টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তিনটি ম্যাচে বদলী হিসাবে মাঠে নামা উইলিয়ানও অবশ্য মৃদু চোটে আক্রান্ত। অনুশীলনে হার্নানেসের সঙ্গে সংঘর্ষে পায়ে আঘাত পেয়েছেন তিনি। তবে ঝাকড়া চুলের এই খেলোয়াড় নিজেই জানালেন, সামান্য এই চোট তার খেলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।
যদি চোট বড় আকার ধারণ করেও সেক্ষেত্রে বার্নার্ড হতে পারেন স্কলারির দ্বিতীয় পছন্দ। যদিও টুর্নামেন্টে খুব বেশী সময় নিজেকে প্রমাণের সুযোগ পাননি এই শাখতার দোনেস্ক উইঙ্গার। তবে সুযোগ পেলে সেটাকে কাজে লাগানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেল তার কাছ থেকে। একই সঙ্গে নেইমারের জন্য সমবেদনাও জানালেন, ‘বিশাল বড় একটা ক্ষতি এটা। কারণ, সে শুধু খেলোয়াড় হিসাবে নয় মানুষ হিসাবেও অসাধারণ ছিল। সে সারাক্ষণই সবাইকে হাসাতো এবং উজ্জীবিত করার চেষ্টা করতো। আসলে একটা বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল সব সময়ই বিশেষ কিছু। তবে আমি যদি সুযোগ নাও পাই তবুও কোচের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে। তবে সম্ভাবনা আছে বার্নার্ড-উইলিয়ান কারো না খেলারও। আগের ম্যাচে লুইস গুস্তাভোর বদলে সুযোগ পাওয়া পলিনহো এই ম্যাচেও টিকে যেতে পারেন। তাহলে, প্রথার বাইরে গিয়ে তিনজন সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার নিয়ে খেলবে ব্রাজিল। বার্নার্ড জানালেন আবহাওয়া, অভিজ্ঞতা এবং প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা ভেবেই সিদ্ধান্ত নেবেন স্কলারি-কার্লোস আলবার্তো পাহেইরারা, ‘এখানে যারা এসেছে তাদের সবারই সামর্থ্য আছে সেরা একাদশে জায়গা করে নেয়ার। এ ধরনের একটা পরিস্থিতি (নেইমারকে হারানো) হয়তো কেউ আশা করেনি। তবে আমাদের হাতে সময় আছে। পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিয়ে সম্ভাব্য সবচেয়ে সুন্দর সিদ্ধান্তটাই নেয়া হবে।’
২০১০ সালের পর এ পর্যন্ত নেইমারের অনুপস্থিতিতে ছয়টি ম্যাচ খেলেছে ব্রাজিল। একমাত্র ফ্রান্সের বিরুদ্ধে তাদের মাঠে একটি ম্যাচ বাদে বাকি পাঁচটি ম্যাচেই জিতেছে ব্রাজিল। যদিও, শক্তিমত্তা বিচারে অনেকটা দুর্বল ছিল সেই দলগুলো। কাল জার্মানির বিরুদ্ধেও নিশ্চিতভাবে এই রেকর্ডটাকে আরো সমৃদ্ধ করে নিতে চাইবে সেলেসাওরা।