ডাক্তাররাই ক্লিনিক মালিক!

কুমিল্লা জেলায় বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ৪৬৮টি চিকিত্সকের পদের মধ্যে ১১৬টি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। নার্সের সংখ্যাও সীমিত। এরপরও কর্মরত চিকিত্সকদের ৯০ ভাগই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলায় অনুমোদিত বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালের সংখ্যা ১১০টি এবং ডায়াগনস্টিকের সংখ্যা ১৫১টি। এর বাইরে অননুমোদিত হাসপাতাল-ক্লিনিক রয়েছে অসংখ্য। এসব ক্লিনিক-হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো চলে মূলত সরকারি চিকিত্সকদের নেতৃত্বে। সরকারি হাসপাতালের চিকিত্সকদের রোস্টার অনুযায়ী হাসপাতালে ডিউটি থাকলেও ওই সময় তারা দায়িত্ব পালন করেন এসব প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালে। এছাড়া সরকারি হাসপাতালের চিকিত্সকরাই শহরের অধিকাংশ প্রাইভেট ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক বলে জানা গেছে । প্রাচীনতম এ জেলায় ৫৭ লাখ লোকের চিকিত্সাসেবার জন্য একটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ১টি জেনারেল হাসপাতাল, ১৬টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ৪৮টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, ৪৪৮টি কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ১৩১টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু সরকারিভাবে এত সব চিকিত্সা সেবার সুযোগ হাতের কাছে থাকা সত্ত্বেও রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক হাসপাতালে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বা দীর্ঘদিন অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে থাকায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ও অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে গেছে। সরবরাহকৃত ওষুধ সামগ্রীর ৯৫ ভাগই বাইরে পাচার হয়ে যাচ্ছে। কেনাকাটা, মেরামত এবং খাবার সরবরাহের নামে লাখ লাখ টাকা লুটপাট হচ্ছে। সরবরাহকৃত খাবার এতটাই নিম্নমানের যে ৯৮ ভাগ রোগীই বাইরে থেকে এনে খাবার খান। সার্জন ও অজ্ঞানকারী চিকিত্সকের অভাবে অনেক উপজেলায় অপারেশন বন্ধ। এ জেলায় চিকিত্সকদের জন্য উপজেলায় উন্নত আবাসিক ব্যবস্থা থাকলেও সেই বাসস্থানে তারা থাকেন না। কুমেক হাসপাতালের ৪টি এক্স-রে মেশিনই অচল:কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের ৪টি এক্স-রে মেশিন দীর্ঘদিন ধরে বিকল অবস্থায় পড়ে আছে। শিশু বিভাগের ইনকিউবেটরগুলোও অচল। ফলে শিশু রোগীদের নিয়ে স্বজনরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এছাড়া এ হাসপাতালে চিকিত্সকের ১৬টি পদ, ২য় শ্রেণির ১২টি, ৩য় শ্রেণীর ৯টি ও ৪র্থ শ্রেণির ৩৬টিসহ মোট ৭৩টি পদ শূন্য রয়েছে। এ হাসপাতাল ঘিরে দালালচক্র বেশ সক্রিয়। দালালদের উত্পাতে রোগী ও তাদের স্বজনরা অতিষ্ঠ। দালালদের বেশিরভাগই স্থানীয় এবং ওষুধ ব্যবসায় জড়িত। অনেক কর্মচারীও এসব দালালদের সঙ্গে জড়িত থেকে অবৈধভাবে অর্থ রোজগার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক রোগী তাদের দ্বারা প্রতারিত হলেও ভয়ে কথা বলেন না। হাসপাতালের পরিচালক ডা. হাবিব আবদুল্লাহ সোহেল জানান, ৫শ’ শয্যার হলেও এ হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ৮শ’ রোগী ভর্তি হয়। এতে ৫শ’ রোগীর ওষুধসহ অন্যান্য বরাদ্দ দিয়ে অন্য রোগীদের সামাল দিতে হয়। দালালদের আনাগোনা বন্ধ করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। শিগগিরই একটি এক্স-রে মেশিন মেরামত ও শিশু বিভাগে ১০টি ইনকিউবেটর ইনস্টল করা হবে বলে তিনি জানান। বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারী ইউনিট: নানা সমস্যায় জর্জরিত কুমেক হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারী ইউনিট। চট্টগ্রাম ছাড়াও চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনীসহ বেশ কয়েকটি জেলার রোগীদের সেবা দিতে হয় এই ইউনিট থেকে। তবে সিট না পাওয়ায় অধিকাংশ রোগীকে বারান্দায় থেকে চিকিত্সা নিতে হয়। আদর্শ সদর উপজেলার নেই নিজস্ব হাসপাতাল : জেলার প্রাণকেন্দ্র আদর্শ সদর উপজেলার নিজস্ব কোন হাসপাতাল কমপ্লেক্স বা ভবন নেই। জেলার ১০০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ভবনের দ্বিতীয় তলায় কোনমতে চলে আদর্শ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম। তাই দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা জেনারেল হাসপাতালকেই তাদের ভরসা মনে করেন। চৌদ্দগ্রাম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স:৫ লক্ষাধিক জনসংখ্যার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবার চলছে বেহাল অবস্থা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি যেন দালাল নির্ভর হয়ে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এখানে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক, চিকিত্সা সরঞ্জামাদি ও অপারেশন থিয়েটার (ওটি) থাকলেও চিকিত্সকরা স্থানীয় প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিকে প্র্যাকটিসে ব্যস্ত থাকায় অপারেশন তেমন হয় না। এছাড়া মহাসড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আসা রোগীদের দায়সারা সেবা দিয়ে কুমিল্লায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুজিবুল হক থাকেন কুমিল্লা শহরে। তিনি চৌদ্দগ্রামে নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছেন প্রাইভেট চেম্বার ও ক্লিনিক। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে পরে যোগাযোগ করার কথা বলেছেন ডা. মুজিবুল হক। নাঙ্গলকোট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স:৩৮ জনের মধ্যে মাত্র ১৫ জন চিকিত্সক দিয়ে চলছে উপজেলাবাসীর চিকিত্সা কার্যক্রম। এই হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনটি ২ বছর ধরে অকেজো। ইসিজি মেশিন ও মেডিক্যাল টেকনোলিস্ট নেই। পুরান অ্যাম্বুলেন্স জোড়াতালি দিয়ে কোনমতে চলছে। নার্সের সংকট বহুদিন ধরে। এছাড়া কাগজে-কলমে ১৫ জন চিকিত্সকের মধ্যে কর্মদিবসে গড়ে পাওয়া যায় ৫-৬ জনকে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. লিয়াকত আলী নিজেই থাকেন কর্মস্থলের প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে কুমিল্লা শহরে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের একাধিক কর্মচারী জানান, ‘স্যার (স্বাস্থ্য কর্মকর্তা) কুমিল্লা মেডিক্যাল সেন্টারের পরিচালক। তিনি কুমিল্লা শহরে থাকেন, রোগী দেখেন। তার মতো অনেকেই থাকেন শহরে।’ শহরে বসবাসের বিষয়টি স্বীকার করলেও ডা. লিয়াকত আলী জানান, ‘আমি মেডিক্যাল সেন্টারে রোগী দেখি না, নিয়মিত কর্মস্থলে যাই।’ চান্দিনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স:প্রায় ৪ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত চান্দিনায় ৩০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও উপজেলার মহিচাইলে ২০ শয্যার একটি হাসপাতাল নানা সমস্যায় জর্জরিত। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বারান্দায় দালাল ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে বাকিবতন্ডা চলছে। একপর্যায়ে রোগীর প্রেসক্রিপশন দালাল নিয়ে যায় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। জানা গেছে, হাসপাতালে কফ, রক্ত, প্রস্রাব-পায়খানাসহ বিভিন্ন পরীক্ষার সুযোগ থাকলেও রোগীদের ওই সকল পরীক্ষার স্লিপ হাতে দিতেই রোগীদের কাছ থেকে তা কেড়ে নিচ্ছে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালরা। এক্স-রে মেশিনটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল। দালালদের উত্পাতের বিষয়টি স্বীকার করে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, মেশিন না থাকায় বাইরে থেকে এক্স-রে করে থাকেন রোগীরা। এ হাসপাতালের কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান। হোমনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স:এ হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিত্সক পোস্টিং দেয়া থাকলেও অধিকাংশ চিকিত্সক নিয়মিত হাসপাতালে থাকেন না। গত বুধবার ৫০ শয্যার এ হাসপাতালটিতে মাত্র ২ জন চিকিত্সক পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের একাধিক কর্মচারী জানান, হাসপাতালে অনেক ভালমানের চিকিত্সক পোস্টিং দেয়া আছে। তারা অনেকে হাসপাতাল কোয়ার্টারে থাকলেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে অন্যত্র ক্লিনিক-প্রাইভেট হাসপাতালে চলে যান। আবার অনেকে ঢাকা ও কুমিল্লা থেকে সপ্তাহে এক/দুইবার আসেন। যদিও এ উপজেলায় চিকিত্সা সেবার মান ভালো দাবি করে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. হারুন-অর-রশিদ বলেন, অফিস সময়ে বাইরের ক্লিনিকে রোগী দেখতে চিকিত্সকদের নিষেধ করা হয়েছে। ব্রাহ্মণপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স:জেলা সদর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরে অবস্থিত এ সরকারি হাসপাতালে বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকসহ ১০ জন চিকিত্সক কর্মরত থাকলেও পর্যায়ক্রমে প্রতিদিন ৪-৫ জন ডাক্তার চিকিত্সাসেবা দিয়ে থাকেন। নার্সসহ এ হাসপাতালে নেই পর্যাপ্ত জনবল ও চিকিত্সা সরঞ্জামাদি। নাইট গার্ডের ২টি পদই শূন্য। ২টির মধ্যে ১টি অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘদিন নষ্ট অবস্থায় পড়ে আছে। শূন্য স্টোর কিপারের পদটি চালানো হচ্ছে একজন মেডিক্যাল অ্যাসিস্টেন্ট দিয়ে। এক্স-রে মেশিনটিও নষ্ট গত ২-৩ বছর যাবত্। কয়েক বছর ধরে ফার্মাসিস্টের ২টি পদই শূন্য। ফার্মাসিস্টের কাজ করেন যক্ষ্মা ও কুষ্ঠ রোগ নিয়ন্ত্রণ সহকারী নূরুল ইসলাম। সকাল ১০টার আগে এবং সাড়ে ১২টা বা ১টার পরে এ হাসপাতালে ডাক্তার পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা থাকেন জেলা শহরে, অন্যদেরও একই অবস্থা। সত্যতা স্বীকার করে এসব বিষয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফরিদুল আলম জানান, আমি শহরে থাকি, ডাক্তারদের অনেকেই শহরে বসবাস করেন। কিন্তু যাদের ডিউটি রাতে পড়ে তারা ওই রাতে হাসপাতালে থাকেন। মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স :এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সকের ১৯টি পদ শূন্য। বর্তমানে কর্মরত আছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ ৫ জন। আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন নেই, ইসিজি মেশিনটিও অচল। এক্স-রে মেশিনটি দীর্ঘদিন পর গত সপ্তাহে সচল করা হয়েছে। আয়েশা আক্তার (৩৫), আবদুল বারেকসহ (৪০) কয়েকজন রোগী জানান, বেশিরভাগ ওষুধই তাদের বাইরের ফার্মেসী থেকে কিনতে হয়। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে আছে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে। বাথরুমগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবদুল মতিন জানান, প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাদের অনেক কিছুই আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সরকারি নির্দেশ মতো দায়িত্ব পালন করার জন্য তাদের তাগাদা দেয়া হয়। ভুয়া ডাক্তারের দৌরাত্ম্য:জেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভুয়া ডাক্তার রয়েছে। তারা চিকিত্সা ও অস্ত্রোপচারের নামে রোগীদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে গত ৬ মাসে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কমপক্ষে ২০ জন ভুয়া ডাক্তার শনাক্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সিভিল সার্জনের বক্তব্য: জেলার স্বাস্থ্য সেবার এই চিত্র প্রসঙ্গে কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, সার্জারি ডাক্তার ও এনেসথেসিয়া ডাক্তার সংকটের কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকে। জেলার বেশিরভাগ ডাক্তার প্রত্যন্ত এলাকায় থাকতে চান না। তবে ডাক্তার সংকটের মধ্যেও নিয়মিত তদারকির কারণে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবার মান অনেকগুণ বেড়েছে। ওষুধ না পাওয়াসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ পাইনি, হাসপাতালের কর্মচারীরা কোন ধরনের অনিয়ম করলে অভিযোগ পাওয়া মাত্র কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। চিকিত্সকসহ প্রকট জনবল সংকট থাকায় চিকিত্সাসেবায় কিছুটা বিঘ্ন হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডাক্তার-কর্মচারী ও মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টদের শূন্য পদে নিয়োগ দেয়া গেলে এবং এক্স-রেসহ চিকিত্সা সরঞ্জামাদি সরবরাহ করা গেলে এসব সমস্যা কেটে যাবে।