সংগঠন করতে পারবেন ইপিজেড শ্রমিকরা
প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০১৪, ২২:৩৭
রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) শ্রমিকদের সংগঠন করার অধিকার এবং ইপিজেড শ্রম আদালত গঠনের বিধান রেখে ‘বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন-২০১৪’র খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ইপিজেড শ্রমিকরা তাদের নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে যৌথ দর-কষাকষির জন্য ‘শ্রমিক কল্যাণ সমিতি’ নামক শ্রমিক সংগঠন করার স্বাধীনতা পাবেন। এ আইন প্রচলিত শ্রম আইনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিন্তু অভিন্ন নয়। তিনি বলেন, এ সমিতি করতে চাইলে কোন প্রতিষ্ঠানের ৩০ ভাগ শ্রমিককে ইপিজেড কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করতে হবে। পরে আবেদনের প্রেক্ষিতে ইপিজেড কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ভোটের আয়োজন করবে। আবেদনকারীদের মধ্যে ৫০ ভাগ সমিতি করার পক্ষে ভোট দিলে সমিতি অনুমোদন পাবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ইপিজেড শ্রমিকরা ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬’র আওতা বহির্ভূত এবং তারা আলাদা দুটি নির্দেশিকা, ইপিজেড শ্রমিক কল্যাণ সমিতি ও শিল্প সম্পর্ক আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়। তিনি বলেন, ইপিজেড শ্রমিকদের স্বার্থ নিশ্চিত ও কল্যাণে স্বয়ংসম্পূর্ণ আইন করার প্রয়োজন থেকেই নতুন এ আইনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ (যা ২০১৩ পর্যন্ত সংশোধন করা হয়েছে) এবং ইপিজেড শ্রমিক কল্যাণ সমিতি শিল্প সম্পর্কিত আইন দু’টি পর্যালোচনা করার পাশাপাশি অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন এ আইনের খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। এ আইনে ১৬টি অধ্যায়, ২০৪টি ধারা ও পাঁচটি অনুচ্ছেদ রয়েছে। ইপিজেড শ্রমিকদের চাকরির নিয়োগ শর্ত, প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা ও স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কল্যাণ মূলক ব্যবস্থা, কাজের পরিবেশ, কর্মঘণ্টা, ইপিজেড মজুরি বোর্ড, সংগঠনের স্বাধীনতা, যৌথ, পরিদর্শন, ছুটি, মজুরি ও পরিশোধ ইত্যাদি বিষয় খসড়া এ আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ইপিজেডে শ্রমিক সংগঠন করার কারণে মালিক পক্ষের সঙ্গে বা বিদেশি বিনিয়োগে সমস্যা দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে কিনা একজন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মালিকপক্ষের সাথে আলোচনা করেই এ আইনের খসড়া করা হয়েছে এবং তাদের কাছে এটি গ্রহণযোগ্য। ইপিজেড শ্রমিকরা সাধারণত বেশি বেতন, অর্জিত ছুটি নগদায়নের সুবিধা, দুটি বোনাস, খাদ্যভাতা, বিনামূল্যে চিকিত্সা ইত্যাদি বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকেন। নতুন এ আইন প্রণীত হলে তাদের ভাবমূর্তি আরো বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার তো দাতাদের চাপে চলে না, সরকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণের জন্য কাজ করে।
এছাড়া মন্ত্রিসভায় ‘রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো আইন-২০১৪’ এবং ‘বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন-২০১৪’র খসড়া অনুমোদন লাভ করেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো আইন প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সামরিক শাসনামলে জারি করা অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করা হচ্ছে। অধ্যাদেশের বিধানগুলোর মধ্যে মাত্র ২টি পরিবর্তন আনা হয়েছে। পরিবর্তনগুলো হচ্ছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর বোর্ডের সদস্য সংখ্যা আরো ২ জন বৃদ্ধি এবং প্রতি মাসে বোর্ডের একটি সভার পরিবর্তে বছরে ৪টি সভা করার বিধান রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, বোর্ডে আগে কৃষি ও বন মন্ত্রণালয়ের ১ জন করে প্রতিনিধি থাকতো। নতুন আইনে কৃষির পাশাপাশি পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় থেকে আরো একজন এবং তথ্য ও যোগাযোগ এবং তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি বোর্ডে থাকবেন। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ আইন সম্পর্কে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, খসড়া এ আইনে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগের ক্ষেত্রটি সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। এ পদে নিয়োগের উপযোগী ব্যক্তির সুনির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি পরমাণু শক্তি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
গত ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত গণহত্যা নিরোধ সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অংশগ্রহণ ও এর সাফল্য এবং গত ২৮ মে থেকে ১২ জুন পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের অংশগ্রহণ ও এর সাফল্য মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়।