একটি বেঞ্চ বাতাসা ও খইয়ের মতো জামিন বিতরণ করছে

গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যা মামলার অভিযুক্ত এক আসামির জামিনের আদেশে ক্ষোভ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বলেছে, হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ বাতাসা ও খই বিতরণের মত জামিনও বিতরণ করছেন। অনেকক্ষেত্রে সরকারি আইন কর্মকর্তারা এসব জামিনের বিরোধিতা করার সুযোগ পাচ্ছেন না। নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, এই মামলার অভিযুক্ত আসামির ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার কথা স্বীকার করার পরেও হাইকোর্টের ওই বেঞ্চ আসামিকে জামিন দিয়েছে। জামিন দেয়ার পূর্বে ওই বেঞ্চ অপরাধের উপাদান যথাযথভাবে পর্যালোচনা করছেন না। রাষ্ট্রপক্ষের করা স্থগিত আবেদনের ওপর শুনানিকালে আপিল বিভাগের বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী এ মন্তব্য করেন। গতকাল সোমবার প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের সভাপতিত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রাজীব হত্যা মামলায় গত ১ জুন হাইকোর্ট সাদমান ইয়াসির মাহমুদকে ছয় মাসের অন্তঃবর্তীকালীন জামিন দেয়। পরে ৫ জুন তিনি জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পান। হাইকোর্টের জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ গত ১১ জুন আপিল বিভাগে আবেদন জানায়। চেম্বার জজ আদালত হাইকোর্টের জামিন আদেশ স্থগিত করে দুই সপ্তাহের মধ্যে আসামিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। একইসঙ্গে বিষয়টির ওপর শুনানির জন্য পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়া হয়। গতকাল রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আপিল বিভাগ আসামির আত্মসমর্পণ বিষয়ক প্রতিবেদন এক সপ্তাহের মধ্যে দাখিল করার জন্য সরকার ও কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পল্লবীর পলাশনগরের নিজ বাড়ির কাছে ব্লগার রাজীব হায়দারকে (৩২) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাত ছাত্রসহ আটজনের বিরুদ্ধে ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে এ বছরের ২৮ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দাখিল করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।