খোশ আমদেদ মাহে রমজান

আজ ৯ রমজান। জানা যায়, এই তারিখে বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাস-উদ রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু ৩৩ হিজরী মোতাবেক ৬৫৩ খৃস্টাব্দে মদীনা মনওয়ারায় ইন্তেকাল করেন। তখন তার বয়স ৬১ বছর। যতদূর জানা যায়, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাস-উদ রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী ৬ষ্ঠ জন। স্বভাবতই ইসলামে দাখিল হওয়া মানুষের সংখ্যা খুবই অল্প ছিল। মক্কা নগরে উচ্চৈঃস্বরে কুরআন তিলাওয়াত করার মতো সাহস কারো ছিলো না। তিনি কাফির-মুশরিকদের পরামর্শ সভার নিকটে যেয়ে দরাজ কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াত করলেন। কাফির-মুশরিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে ধরে ভীষণ মারধর করলো। তার মুখমণ্ডল ফুলে যায়। তার স্পষ্টবাদিতা ঈমানের দৃঢ়তা এবং অকুতোভয়তা নিয়ে শত্রুদের মোকাবিলা করেন। তিনি দুই দুই বার প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নির্দেশে আবিসিনিয়া হিজরত করেন। পরে তিনি স্থায়ীভাবে বসবাসের খেয়ালে তদানীন্তন ইয়াছরিবে হিজরত করেন। ইতোমধ্যে ইয়াছরিবের নাম পাল্টিয়ে মদিনাতুন্ নবী নাম হয়ে যায়। মদীনায় হিজরত করে এসে তিনি হযরত মু‘আজ ইবনে জাবাল রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহুর মেহমান হন। পরে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম মসজিদুল নববী সংলগ্ন জমিতে ঘর তুলে তাঁর আম্মাসহ বসবাস করেন। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের ঘর থেকে তাঁর ঘর এতই নিকটে ছিলো যে, অনেকে মনে করতো তিনি নবী পরিবারেরই লোক। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাস-উদ রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু অধিকাংশ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। তার বীরত্ব ও রণকৌশল সবার প্রশংসা কুড়িয়েছে। তিনি প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের অন্যতম সচিবও ছিলেন। ৬৪০ খৃস্টাব্দে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু তাঁকে কুফার কাজি নিযুক্ত করেন। একই সঙ্গে তার ওপর ন্যস্ত হয় কোষাগার, শিক্ষা, প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। তিনি অত্যন্ত সততা, ন্যায় নিষ্ঠা ও কর্মদক্ষতা দ্বারা সব দায়িত্ব পালন করেন। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা আবদুল্লাহ ইবনে মাস-উদের কাছ থেকে নসিহত গ্রহণ করবে। খলিফা হযরত উসমান রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহুর খিলাফত আমলের শেষের দিকে গোলযোগ চলাকালে তিনি মক্কা মুকাররমার উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে তিনি রাবাখা নামক স্থানে এসে দেখলেন তার বন্ধু হযরত আবু জর গিফারি রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহুর পবিত্র লাশ জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাস-উদ রাদিআল্লাহু তা’আলা ৭০-এর অধিক সূরা সরাসরি প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে শিখেছিলেন। কুরআনের বিশুদ্ধ পাঠে তিনি ছিলেন অতুলনীয়, ক্বারি হিসেবে, কুরআনের ব্যাখ্যাকারী হিসেবে তিনি ছিলেন অপূর্ব পাণ্ডিত্যের অধিকারী। তাঁর থেকে বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা ৮৪৮। মদীনা মনওয়ারায় তার জানাজায় প্রচুর জনসমাগম হয়েছিলো। তার জানাজায় ইমামতি করেন খলিফা হযরত উসমান রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহু। তাঁকে দাফন করা হয় জান্নাতুল বাকিতে।