পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বিবিএ পড়াশোনা

সবুজ ঘাসে ভরা মাঠে বসে চুটিয়ে আড্ডা দিচ্ছিলো শাহীন, রাসেল, মাহমুদ, তূর্য, রাবিব ও রেজাউল। তারা দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিস অনুষদের (বিএস) বিবিএ লেভেল-২-এর শিক্ষার্থী। শৈশবে ওদের কেউ স্বপ্ন দেখতেন মেডিক্যালে পড়ার, কেউ বা আবার বুয়েটে, কেউবা পাইলট হবেন, কেউবা ব্র্যান্ড ম্যানেজার হওয়ার ইত্যাদি ইত্যাদি; কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতি, যুগের চাহিদা আর বিশ্বমানের একাডেমিক পরিবেশ ওদের নিয়ে এসেছে এখানে। তাই সবার স্বপ্ন এখন বিবিএকে ঘিরে। সবেমাত্র শেষ হয়ে গেল উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু এবং ক্যারিয়ার গড়ার সুকঠিন সময় এখনই। এই সময়ে নিতে হয় ক্যারিয়ার গড়ার সিদ্ধান্ত, যা আপনাকে পরবর্তী জীবনে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করতে সাহায্য করবে। এইচএসসি পাস করে অনেকে বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশুনা করে ডিগ্রি অর্জন করে; কিন্তু চাকরির বাজারে গিয়ে হিমশিম খায়। তাই শিক্ষার্থীদের সময়োপযোগী বিষয় নির্বাচন করা উচিত। বর্তমান সময়ের সবচেয়ে উপযোগী এবং চাকরির বাজারে এগিয়ে আছে বিবিএ। দেশের চাকরির বাজারে এখন ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক (বিবিএ) ডিগ্রিধারীদের চাহিদা ব্যাপক। একই ব্যাংকে হয়তো দু’জন চাকরি করছেন, যাদের মধ্যে একজন বিবিএ, অন্যজন সাধারণ বিষয়ে পড়াশোনা করে এসেছেন। তাদের দু’জনের মধ্যে একটু লক্ষ্য করলেই বোঝা যায়, যিনি বিবিএ করে এসেছেন, তার উপস্থাপন কৌশল, গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ, কর্মক্ষেত্রে সমস্যা সমাধানে যিনি সাধারণ বিষয়ে পড়ে এসেছেন, তার থেকে এক ধাপ এগিয়ে থাকেন। তাই ব্যবসায় প্রশাসনে পড়াশুনা করার ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ আগ্রহ। যারা ব্যবসায় প্রশাসনে পড়তে চান, নিচে তাদের জন্য সহায়ক কিছু তথ্য দেয়া হলো। এরই মধ্যে মেধাবী শিক্ষার্থীরা শুরু করে দিয়েছেন জীবনের মোড় ঘুরানোর মতো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যাত্রার পথে সফল হবার জন্য। প্রতিযোগিতাপূর্ণ এই বিশ্বে বসে থাকার যেন সময় নেই। তাই সদ্য সমাপ্ত হওয়া উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা আরম্ভ করে দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কোচিং। তাই এখন চলছে ভর্তি পরীক্ষায় সফল হওয়ার যুদ্ধ বা আগাম প্রস্তুতি। যেহেতু এই জায়গাতে প্রতিযোগিতাটা অন্যখানের চেয়ে একটু কঠিন। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে আমাকে একটি সিট দখল করতে হবে। বিষয় ভবিষ্যত্-স্বপ্ন, পড়াশোনা আর ক্যারিয়ার। আড্ডার এক ফাঁকে কাছ থেকে জানা গেল ব্যবসায় প্রশাসনের প্রেক্ষাপট। তাই বিবিএ পড়াকে ক্যারিয়ার গঠনের জন্য অপরিহার্য বলে মনে হলো। একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর মতে, নিজের পড়াশোনাটা যদি কাজের ক্ষেত্রের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হয়, তাহলে যে কেউ অনায়াসে এক ধাপ এগিয়ে যাবে। কোনো সন্দেহই নেই। খরচপাতি: সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ার খরচ স্বভাবত একটু কম। তবে ইভিনিং প্রোগ্রামে এমবিএর খরচ অনেকটা বেশি। দুই বছরে দুই লাখ ১০ হাজার টাকা খরচ হবে এতে। তবে খরচের এই হিসাব বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য। যেকোনো সময় এটি পরিবর্তন হতে পারে। জাহাঙ্গীরনগর ও রাজশাহী বিশ্বিবিদ্যালয়ে পড়ার খরচ অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলেই নির্ধারিত। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনস্টিটিউটের ক্ষেত্রে এই খরচ বিভিন্ন রকম। এখানে অল্প খরচে পড়ার সুযোগ যেমন আছে, তেমনি অনেক প্রতিষ্ঠানের টিউশন ফি আকাশছোঁয়া। কর্মক্ষেত্রে সুযোগ: বর্তমানে চাকরির বাজারে এমবিএ কিংবা বিবিএ পাস শিক্ষার্থীদের চাহিদা বাড়ছে। কারণ কর্মক্ষেত্রে বিগত দিনের গ্র্যাজুয়েটরা তাদের যোগ্যতার প্রমাণ রাখতে পেরেছেন। আইবিএ থেকে বিবিএ পাস করেই অনেকে ভালো চাকরি পেয়েছেন। সত্যি বলতে কি আইবিএর একজন গ্র্যাজুয়েটের জন্য একাধিক চাকরি অপেক্ষা করে থাকে। প্রতিনিয়ত চাকরির বাজারে ব্যবসায় প্রশাসন-এর গ্র্যাজুয়েটরা ভালো করছেন। বিশেষ করে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোতে তারা অগ্রাধিকার পাচ্ছেন। ব্যাংক, বীমা, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি, এনজিও, লিজিং ফার্মসহ নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও টেলিকমিউনিকেশন সেক্টরেও একচেটিয়া প্রাধান্য তাদের। যে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হয়: প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে নিজস্ব ওয়েবসাইট। যেখান থেকে শিক্ষার্থীরা ভর্তি সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। দেশের অন্যতম প্রধান প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকেও জানা যাবে ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য। সেগুলো হলো— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি ওয়েবসাইটের ঠিকানা থেকে ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য জানা যাবে। আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ তো থাকছেই। তবে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পূর্বে ভালোভাবে ক্রেডিট সংখ্যা, ক্রেডিট ফি, ভর্তি ফি, সেশন ফিসহ আনুষঙ্গিক ফি ভালোভাবে জেনে নেবেন। মডেল:তিশা, আকিব, রাইনা ও সোহান ছবি: রেজা চৌধুরী