টিএসসিতে প্রাণবন্ত
ইফতার
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৪, ১৮:৩৬
সন্ধ্যা ৬টা, টিএসসি প্রাঙ্গণ। ছাত্র-ছাত্রীদের ভীড় ক্রমশ বাড়ছে। প্রত্যেকের হাতে খাবারের প্যাকেট, পানির বোতল এবং বসার জন্য খবরের কাগজ। যে যার মতো ঘাসের সবুজ চত্বরে জায়গা নিয়ে বৃত্তাকার হয়ে বসছে। উপলক্ষ ইফতার। প্যাকেট খুলে মাঝখানে সাজানো হচ্ছে নানা রকম ইফতারি। ছোলা, মুড়ি, চপ, খেজুর, জিলাপি, বেগুনি, পিঁয়াজু, বুন্দিয়াসহ নানা পদ। সারাদিনের তৃষ্ণা মেটানোর জন্য আছে লেবুর শরবত কিংবা আমের জুস। আরো আছে আপেল, কলাসহ নানা ফল। ইফতার সাজিয়ে আযানের জন্য অপেক্ষা। সময় যেন কাটে না। বন্ধুদের সঙ্গে কথার ফাঁকে চোখ চলে যায় ঘড়ির কাঁটায়। ততক্ষণে গোটা টিএসসি মুখর ছাত্র-শিক্ষকদের পদচারণায়। তিল ধারণের ঠাঁই নেই। প্রতিদিনের ইফতারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র যেন পরিণত হয় অঘোষিত মিলনমেলায়। লোক প্রশাসনের শিক্ষার্থী অনিক জানালেন, ইফতারে তার অভিজ্ঞতার কথা। বলেন, এখানে ইফতার না করলে মন ভরে না। তাই সব বন্ধুরা মিলে একসাথে ইফতার করি,আড্ডা দিই। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী ছাড়াও সাবেক শিক্ষার্থীরা ইফতার করতে টিএসসিতে আসেন। এ ব্যাপারে ইসলামের ইতিহাস বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আরফান রহমান জানান, প্রতিবারই রোজার সময়ে একদিন হলেও টিএসসিতে ইফতার করা চাই-ই। বন্ধুদের সাথে টিএসসিতে ইফতারের মজাই আলাদা। খুব ভালো লাগছে বন্ধুদের সাথে একসাথে ইফতার করছি।
টিএসসির ইফতারের আরেকটি দিক হলো এখানে খাবার পায় পথশিশু এবং ছিন্নমূল মানুষেরা। হাতে বাটি অথবা পলিথিন ব্যাগে তারা খাবার সংগ্রহ করে। দেখা গেলও তাই। সজীব ও রিমা নামে দুই পথশিশু ইফতারি সংগ্রহ করে সানন্দে খেলো মাঠের এক কোণে বসে। ইফতার পাবার আনন্দ ওদের যেন একটু বেশিই। রমজান মাস জুড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক বিভিন্ন সংগঠনগুলোও টিএসসিতে ইফতারের আয়োজন করে। সবার স্বতঃস্ফুর্ত উপস্থিতি এটিকে করে তুলে আরো প্রাণবন্ত।