উ দ্ভা ব ন

পাটের কনটেইনার!

পাট দিয়ে পণ্যবাহী কনটেইনার তৈরি করতে চায় ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির ৫ শিক্ষার্থী। এসব কনটেইনার হবে পরিবেশবান্ধব। বহন করা যাবে ইচ্ছেমতো। তৈরিতে খরচও হবে অনেক কম। গতানুগতিক কনটেইনারের মতো এখানে কাঠ ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না। গত ২ জুলাই সোশ্যাল বিজনেস প্ল্যান প্রতিযোগিতায় এই আইডিয়াটি জমা দিয়ে রানার আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন তারা। ঢাকার ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি তাদের নিজস্ব ক্যাম্পাসে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এতে সারাদেশের ২০ ইউনিভার্সিটির ৩০টি দল অংশ নেয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূস। তিনি তার বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের এমন উদ্ভাবনের প্রশংসা করেন। প্রতিযোগিতায় মেধাবীরা ‘ইকো কনটেইনারস’ বিষয়ে ধারণা দেন। তাদের শ্লোগান ছিলো: ‘বিশ্বে পাটের নতুন ভুবন’। ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির বিজয়ী দলের সদস্য ছিলেন ৫ জন। তারা হলেন-তাসনিয়া জাহির, নাজিহা ইফ্রাত, ফাহিমা হারুন, ফাতিমা মুনির ও জায়েদা করিম। ২০১৩ সালেও সারাদেশে ইউনুস সেন্টার আয়োজিত সোশ্যাল বিজনেস প্ল্যান কমপিটিশনে চ্যাম্পিয়ন হন এই ইউনিভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রীরা। বিজয়ী দলের সদস্যরা জানান, বাংলাদেশে সচরাচর যেসব কনটেইনার দেখা যায় তার সব ক’টি স্টিলের তৈরি। বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম কিংবা যশোর-বেনাপোলসহ সব বন্দরের আমদানি-রপ্তানির কাজে কনটেইনারের বিশাল একটি অংশ ব্যবহূত হচ্ছে। অধিক সংখ্যক মালামাল রাখার জন্যও তা প্রয়োজন হয়। নতুন তৈরি কনটেইনারের অবয়ব নির্মাণ করা হবে পাট দিয়ে। তবে বডির কিছু অংশ ধরে রাখার জন্য অল্প সংখ্যক স্টিল থাকবে। পাটাতন থেকে শুরু করে যেখানে কাঠের ব্যবহার হতো তার পরিবর্তে ব্যবহার হবে শুধুই পাট। এতে জিনিসটি ওজনে হালকা হবে। আনা-নেয়ার ক্ষেত্রে পাওয়া যাবে সুবিধা। পাশাপাশি বৃষ্টির পানি শুষে নেয়ার ক্ষমতা থাকায় বর্ষাকালে তা বহন করতে সহজ হবে। একইসঙ্গে কনটেইনারটি কখনো নষ্ট হয়ে গেলে তা মাটিতে মিশে ফেলা যাবে। শিক্ষার্থীদের এমন সাফল্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ইস্ট ডেল্টার ভাইস চেয়ারম্যান সাঈদ আল নোমানের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘সোশ্যাল বিজনেস প্ল্যান কমপিটিশন এমন এক ধরনের প্রতিযোগিতা, যেখানে শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ ঘটে। কারণ এখানে সব ছাত্র-ছাত্রী নিজেদের তৈরি বিভিন্ন উদ্ভাবন, প্রযুক্তি কিংবা আইডিয়াগুলো সবার সামনে উপস্থাপন করে। এতে ভবিষ্যতে ড. ইউনূসের মতো নোবেল বিজয়ীদের হয়তো আমরা তাদের মাঝে খুঁজে পাবো।’