মেডিকেল শিক্ষার্থী হবার প্রস্তুতিমূলক পরামর্শ
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৪, ১৮:৪৬
ডা. মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন
চেয়ারম্যান, ঈস্টওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটাল, আপডেট ডেন্টাল কলেজ, ঈস্টওয়েস্ট নার্সিং ইনস্টিটিউট ও আইচি জেনারেল হসপিটাল, ঢাকা
গত সোমবারের পর
এই মূহূর্তে যে বিষয়গুলো জরুরী পরিহারযোগ্য
ভর্তি পরীক্ষার আগে ব্লগিং, আড্ডা, এ জাতীয় বিষয়গুলোকে পরীক্ষার আগের তিন-চার মাসের জন্য বাদ দিয়ে দিতে হবে।
কোন কোচিং সেন্টারে ভর্তি না হলে শান্তি পাওয়া যায়না। বন্ধু- বান্ধবরা সব ভর্তি হয়েছে, আর আমি হবোনা, তা- কেমন করে হয় ! কিন্তু আমার মতে কোচিং সেন্টারে ভর্তি হওয়া মানে টাকার শ্রাধ্য, যাতায়াত কষ্ট, সময় নষ্ট ব্যতিত আর কিছুই না। এগুলো না করে সেই শ্রম এবং সময়টা বাসায় কাজে লাগানো জরুরী। অনেকে হয়তো বলবে যে, কোচিং সেন্টারগুলোতে ভর্তি হলে পড়া ঠিক মতো হয়, পড়ার চাপ থাকে, পরীক্ষাগুলো দেয়া হয়, আইডিয়া বাড়ে ইত্যাদি কথা। কিন্তু আমার সাজেশন হলো, কোচিং সেন্টার যে যায়গায় মূলত ভূমিকা রাখে সেটি হল মডেল টেস্ট নেয়। এই মডেল টেস্টগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ভর্তি পরীক্ষার আগ পর্যন্তচলা বিভিন্ন কোচিং এর এসব মডেল টেস্টগুলোর প্রশ্নপত্র টাকা দিলেই কিনে নেওয়া যায় বিভিন্ন লাইব্রেরি ও সেলারদের কাছ থেকে বা কোচিং সেন্টার থেকেও। তবে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে তা ড্রয়ারে রেখে দিলে চলবে না বরং সংগ্রহের পর ফটোকপি করে বাসায় বসে ও .এম.আর শিটের মধ্যে ঘড়ি ধরে পরীক্ষাগুলো নিয়মিত দেয়াটা জরুরী। এক অর্থে নিজের পরীক্ষা নিজে নেয়া যাকে বলে। পারলে এটি বারবার করতে হবে। বিশেষকরে বেশিবেশি নিজেই নিজের এম.সি.কিউ পরীক্ষা নিয়ে নিজেই নিজের পরীক্ষক হয়ে খাতা দেখার কাজ সম্পন্ন করা অর্থাত ফিডব্যাক নেয়া এবং সঠিক উত্তরটি বই থেকে দেখে নেয়াটা জরুরী।
ফাইনাল পরীক্ষার আগের দিন কি করনীয়
পরীক্ষার কমপক্ষে ২ দিন আগে প্রিপারেশন শেষ করা জরম্নরী। ফাইনাল পরীক্ষার ঠিক আগের দিনটিতে পড়ালেখা করার কোন দরকার নেই। রিল্যাক্র মুডে থাকো। নিজের সিট কোথায় পড়লো, সেটা একবার দেখে আসাটা বুদ্ধিমানের কাজ। এতে টেনশন মুক্ত থাকা যায়।
ফাইনাল পরীক্ষার দিন করণীয়
যেখানে তোমার সিট পড়েছে, সেই হল খুলে দেয়ার সাথে সাথেই ঢুকে পড়ো এবং ধীরস্থির হয়ে বসে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যেমন বল পয়েন্ট কলম, পেন্সিল, ইরেজার, প্রবেশপত্র, ক্যালকুলেটর (যদি নিতে দেয়) শেষ বারের মত আর এক বার চেক করে নাও। এর পর প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর সাবধানে নির্ধারিত ঘরগুলো পূরণ করো। কোন আবস্থাতেই যেন ও. এম.আর ফরমের নির্ধারিত ঘরগুলো পূরণে ভুল না হয়।
প্রথম ৩০ মিনিটে ৫৮-৬০ টি এম.সি.কিউ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ফেলতে হবে। পরের ২০ মিনিটে বাকী ৪০ টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।
শেষ ৮-১০ মিনিট রিভিশন এবং উত্তর না দেয়া প্রশ্নগুলো সমাধান করার চেষ্টা করতে হবে।
কোন একটি প্রশ্ন না পারলে সেটির পিছনে অযথা সময় নষ্ট করা যাবেনা।
শেষের কথা:
গ্রীক মিথোলজীতে আছে একিলিসের জন্মের পর একিলিসের মা থোটিস তার ছেলের অমরত্বের জন্য তাকে styx নদীতে ডুবাতে থাকে, শুধুমাত্র পায়ের হীল (গোড়ালি) ছাড়া, যে অংশটুকু হাত দিয়ে থেটিস তাকে ডুবাচ্ছিল। যে কারণে একিলিসের হীল ছিল তার শরীরের একমাত্র দুর্বল জায়গা। এবং সেই হীলেই তীরবিদ্ধ হয়ে বীর একিলিস মারা যায়। সে থেকে মানুষের দুর্বলতার স্থানকে সেটা মানসিক হোক বা শারীরিক, বলা হয়, ’একিলিস হীল’। তাহলে সুপ্রিয় শিক্ষার্থীরা তোমাদের মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কোন প্রকার একিলিস হীলের স্থান থাকবে না ।
মতামত জনাতে
ফোন-০১৭১৪৭০৫৭২৭