খুলনায় জমছে ঈদ বাজার
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৪, ২১:১৯
খুলনায় ঈদ বাজার জমে উঠতে শুরু করেছে। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মহানগরীর মার্কেটগুলির বিপনী বিতানসমুহকে রকমারি পসরায় সাজানো হয়েছে। নগরীর শপিং সেন্টারগুলিতে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে নগরীর প্রতিটি শপিং সেন্টারে ক্রেতাদের ভিড় লেগে যায়।
খুলনা শপিং কমপ্লেক্স, নিউ মার্কেট, খানজাহান সুপার মার্কেট, জলিল টাওয়ার, রেলওয়ে মার্কেটগুলিতে দিন যতো যাচ্ছে ততোই ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। এবার ক্রেতাদের নজর বিদেশি পোশাকের পাশাপাশি দেশি কাপড়ের দিকে। বিভিন্ন সেলিব্রেটিদের নামে তৈরি নানান ধরণের পোষাক ক্রেতাদের নজর কাড়ছে। দাম তুলনামূলকভাবে বেশি বলে বিদেশি কাপড়ের ক্রেতার সংখ্যা অন্যবারের তুলনায় একটু কম বলে জানালেন দোকানীরা। সীমান্তে কড়া নজরদারীর কারণে খুলনার বিপণী বিতানগুলিতে এবছর ভারতীয় কাপড়-চোপড়ের সমাহার বেশ কম। আলাপকালে কয়েক জন ক্রেতা জানালেন, বিদেশি পোশাকের চেয়ে দেশি পোষাকের ডিজাইন এবং কোয়ালিটি যথেষ্ট ভাল। দামও বিদেশি কাপড়ের তুলনায় বেশ কম। এ কারণে তারা বিদেশি পোষাকের চেয়ে দেশি কাপড়-পোষাকের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
খুলনা শপিং কমপ্লেক্সে আলাপকালে শহিদুল হাসান নামে এক দম্পতি জানান, তারা ঠিক করেছেন, এবার তাদের পরিবারের সদস্য এবং আত্মীয় পরিজনের জন্য কেবল দেশি কাপড়-চোপড়ই কিনবেন। মংলা থেকে আসা নাসিমা ইসলাম নামে একজন স্কুল শিক্ষিকা অবশ্য হতাশার সাথে বললেন, খুলনায় এসেছিলাম কিছু ভারতীয় শাড়ি কিনতে। কিন্তু তিনটি মার্কেট ঘুরেও কোন শাড়ি পেলাম না। কারণ হিসাবে দোকানীরা তাকে জানিয়েছেন, আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঘনঘন অভিযানের কারণে তারা ভারতীয় শাড়ি-কাপড় দোকানে তুলতে সাহস পাচ্ছেন না। খানজাহান সুপার মার্কেটের রকমারী পোষাক হাউজের ম্যানেজার মাহমুদ হোসেন জানান, বর্তমানে ছোট ছেলে-মেয়েদের পোষাকই বেশি বিক্রি হচ্ছে। চাকরিজীবীরা বোনাস পাওয়ার পর পরিবারের বড়দের জন্য কেনা-কাটা শুরু করবেন বলে দোকানীরা মনে করছেন।
অবশ্য শপিংমল ও বিপনী বিতানগুলোর চেয়ে ফুটপাথের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেশি। সন্ধ্যার পর রাস্তার পাশে কাপড়ের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়ে যানবাহন চলাচল রীতিমত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়, ডাকবাংলার মোড়, ফেরিঘাটের মোড় এবং জলিল টাওয়ারের সামনে ফুটপাতের দোকানগুলোতে ঈদ বাজার জমে উঠেছে। এসব দোকানে বিভিন্ন কাপড়ের দাম তুলনামূলকভাবে যথেষ্ট কম বলে ক্রেতাদের ভিড়ও বেশি। একইভাবে ‘নিকসন মার্কেট’ হিসাবে পরিচিত নগরীর রেলওয়ে মার্কেটেও ক্রেতাদের প্রচন্ড ভিড়। এখানে ধনী-গরীব সবধরণের ক্রেতা আসেন বলে রোজার শুরু থেকেই এ মার্কেটে ক্রেতার সংখ্যা দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এদিকে দর্জির দোকানগুলিতে পোষাক তৈরির কাজ চলছে গভীর রাত পর্যন্ত। কারিগরদের দম ফেলার যেন সময় নেই। ১৫ রোজার পর থেকে পোষাক তৈরির অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দেয়ার নোটিশ টানিয়ে দিয়েছে প্রায় সব টেইলারিং শপগুলো।