রাজশাহীর বাজারে ফরমালিন মিশ্রিত মাছ বিক্রি হয় না
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৪, ২১:১৯
‘বাজারে অনেক অভিযান চালিয়ে মাছ ফরমালিন মুক্ত করা হয়েছে। এখন রাজশাহীর বাজারে কোন মাছে ফরমালিন মেশানো হয় না’ সাংবাদিকদের সামনে এই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন জেলা মত্স্য কর্মকর্তা সাহেদ আলী। গণমাধ্যমের সাথে ফরমালিনের অপব্যবহার রোধ ও জলাশয় সংরক্ষণে সচেতনতা বিষয়ে মতবিনিময় সভায় তিনি চ্যালেঞ্জ করেন।
সভায় জানানো হয়, ফরমালিন যুক্ত মাছে আশটে গন্ধ থাকে না। ফরমালিন যুক্ত মাছের গায়ে চাপ দিলে গর্ত হয়ে তা তাড়াতাড়ি পূরণ হয়ে যায়। এ ধরণের মাছের আশ ফোলা ফোলা থাকে এবং গায়ে পিচ্ছিল ভাব থাকে না। এছাড়া ফরমালিন যুক্ত মাছে মাছি বসে না। এগুলো দেখে চিনে নিতে হবে মাছে ফরমালিন আছে কী নেই। সভায় আরো জানানো হয়, শুধু মাছের গায়ে ফরমালিন আছে কিনা তা পরীক্ষা করলেই হবে না। কারণ অনেক ব্যবসায়ী মাছে ব্যবহূত পানি ও বরফের সাথেও ফরমালিন ব্যবহার করেন। তাই মাছে ব্যবহূত পানি ও বরফের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হচ্ছে। রাজশাহী জেলা ও পবা উপজেলা মত্স্য অধিদপ্তরের আয়োজনে রাজশাহী বিভাগীয় মত্স্য অধিদপ্তরের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে গত সোমবার আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা মত্স্য কর্মকর্তা গোলাম রাব্বানী।
সভায় জানানো হয়, দেশে বর্তমানে ৩৪.১০ মেট্রিক টন মাছ উত্পাদিত হচ্ছে এবং ১ কোটি ৭১ লাখ মানুষ এই সেক্টরের সাথে যুক্ত রয়েছে। দেশে মাথা পিছু মাছের চাহিদা ৫৬ মেট্রিক টন। সেখানে সরবরাহ করা হচ্ছে ৫২ মেট্রিক টন। দেশে মাথা পিছু ৪ মেট্রিক টন ঘাটতি থাকলেও রাজশাহীতে মাছ চাহিদার চেয়ে বেশি উত্পাদিত হচ্ছে। রাজশাহীর প্রায় ২৭ লাখ মানুষের মোট মাছের চাহিদা ৫৫ হাজার ১৮২ মেট্রিক টন। সেখানে উত্পাদিত হচ্ছে ৬১ হাজার ৭৬৬ মেট্রিক টন। উদ্বৃত্ত থাকছে ৬ হাজার ৫৮৪ মেট্রিক টন মাছ। উদ্বৃত্ত এই মাছ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে। সভায় ফরমালিন কোথা থেকে আসছে? কারা বিক্রি করছে? এগুলো বিক্রিতে কোন বিধি নিষেধ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।