গ্যালারিতে ছিলেন ৬০ হাজার নেইমার!
সোহেল সারোয়ার চঞ্চল বেলে হরিজোন্তে ব্রাজিল
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৪, ২১:৩৭
একশ বিশ গজের লড়াইয়ে বল পায়ে মাঠে নেইমার দৌড়াচ্ছেন না। তাকে বল আদান প্রদানেরও কোনো প্রয়াস নেই। তারপরও জার্মানির বিরুদ্ধে ব্রাজিলের ম্যাচে নেইমারের ছায়াটাই দেখলেন সবাই। নেইমার ব্রাজিলে সাধারণ মানুষের কাছে এতোটাই প্রিয় যে তারা নিজেরাই নিজেদের এক একজন নেইমার মনে করেন। কোলের শিশুটির গায়ে ১০ দশ নম্বর জার্সি। প্রবীণের গায়েও ১০ নম্বর জার্সি। যারা ফ্রেড, থিয়াগো সিলভার ভক্ত তারাও সেমিফাইনালের ম্যাচে নেইমারের পক্ষে চলে গেলেন। চোট পাওয়া এই ফুটবলার নিজেও জানতেন না তার জন্য এতো ভালোবাসা ব্রাজিলীয়নদের মনে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট দিলমা রৌসেফ, এই ভদ্র মহিলা নেইমারের প্রচণ্ড ভক্ত। এক মাত্র কন্যাকে নিয়ে নেইমারদের খেলা দেখতে মাঠে চলে আসতেন। নেইমার মাঠ থেকে ছিটকে যাওয়ায় ভীষণ মর্মাহত হয়েছেন। ব্রাজিলীয়ান স্ট্রাইকারকে সান্ত্বনা দিতে নিজে চিঠি লিখে পাঠিয়েছিলেন। এখনও তার খোঁজ-খবর রাখছেন। প্রতিনিধি পাঠিয়ে ডাক্তারের সাথে কথা বলছেন। এমন ঘটনা খুব কমই আছে। একজন ফুটবলারের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয় প্রার্থনালয়ে। নেইমার কতোটা জনপ্রিয় এবং কতোটা ভাগ্যবান তার আরেকটা প্রমাণ পেয়ে গেলেন মাঠ থেকে ছিটকে পড়ে। জার্মানির বিরুদ্ধে সেমিফাইনাল ম্যাচটা শুরু হওয়ার আগেই বেলে হরিজোন্তের স্টেডিয়ামের বাইরে ভরে গিয়েছিল। ৬২ হাজার দর্শকের স্টেডিয়ামের বাইরে তিন গুণ বেশি সমর্থক হাজির হয়েছেন। টিকিট নেই, তাতে কি। যে মাঠে খেলা সেই মাঠের বাইরে দাঁড়িয়ে থেকেও যে শান্তি। ফুটবল নিয়ে এসেছেন স্টেডিয়াম এলাকায়। নেইমারের জার্সি গায়ে খেলতে শুরু করে দিলেন সেখানেই। রাস্তায় রাস্তায় নেইমার হয়ে যাওয়া এই সব দর্শককে পাহারা দিতে হয়েছে নিরাপত্তার কারণে। স্টেডিয়ামের ভেতরে তখন নেইমার, নেইমার বলে উল্লাস চলছিল। জার্মানির সমর্থকরাও এসেছেন। কিন্তু তারা যেন ব্রাজিলীয়ানদের আবেগের কাছে দুর্বল হয়ে পড়লেন। ব্রাজিলীয়ান খেলোয়াড়রাও যেন একাট্টা হয়ে গেলেন। নেইমারের ছবি হয়ে তারা পায়ে পায়ে বল রেখে খেলতে চাইলেন। অস্কার, ফ্রেড, হাল্ক, মার্সেলোরা বুঝতে দিতে চাইছিলেন না ফুটবলের বড় তারকাটি সাথে নেই। কিন্তু দর্শকরা বলছিল আমরা আছি। ফ্রেডদের পেছনে আমরা ৬০ হাজার দর্শক। এ যুদ্ধে হারা যাবে না। ৬৪ বছর গেছে। সেই অপেক্ষা শেষ করার সময় হয়েছে।
জার্মানির বিরুদ্ধে ব্রাজিলের ম্যাচে মিনেরিও স্টেডিয়ামের সামনে একজন তন্ত্রমন্ত্র জানা লোকের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। তিনি নিজেকে আধ্যাত্মিক গুরু মনে করেন। সিলম্যান নামের কথিত এই আধ্যাত্মিক ব্রাজিলের ফুটবলারদের আদলে বানানো পুুতুলগুলোকে মোমের আলোর পাশে রেখে ধ্যান করছেন। আর সবাইকে বলছেন ব্রাজিল যে কোনো বিপদ থেকে উতরে যাবে। জার্মানির ফুটবলারদের পা চলবেই না। ওজিল, ক্লোসা, মুলার, খেদিরাকে বধ করে দেবেন তার তন্ত্রমন্ত্র দিয়ে। মাঠে অবস্থান করে জার্মানি সব খেলা নষ্ট দেয়ার নাকি দারুণ ক্ষমতা সিলম্যানের। তার এই সব কথা কোনো কোনো ব্রাজিলীয়রা বিশ্বাস করছেন। আবার কোনো কোনো ব্রাজিলীয়রা উড়িয়ে দিচ্ছেন। যারা বিশ্বাস করছেন না তারা বলছেন এতোই যদি ক্ষমতা থাকে তো নেইমার কেন এতো বড় দুর্ঘটনার শিকার হলো। একথা বলার সাথে সাথে স্বঘোষিত আধ্যাতিক সামনে থেকে সরে গেলেন। যাওয়ার সময় বললেন, আগের ম্যাচগুলো জিতলো কিভাবে।