সম্প্রতি বাংলাদেশ মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে নান্দীমুখের ১৪তম প্রযোজনা আমার আমি মঞ্চস্থ হয়েছে। নাটকটির পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের প্রধান অসীম দাশ। এটি একটি মনোড্রামা। এতে একক অভিনয় করেছেন দীপ্তা রক্ষিত।
আমার আমি ইতিহাস আশ্রিত একটি নাট্য। ইতিহাসের চরিত্রকে উপজীব্য করে নির্মিত হয়েছে এর নাট্যকাহিনি। বাংলা রঙ্গালয়ের প্রবাদপ্রতীম অভিনেত্রী বিনোদিনী দাসীর আত্মজীবনীই এই নাট্যের কাহিনি বিন্যাস। বিনোদিনী দাসীর জন্ম আনুমানিক ১৮৬৩ সালে কলকাতায়। মাত্র ১১/১২ বছর বয়সে ১৮৭৪ সালে তিনি প্রথম মঞ্চ প্রাদ-প্রদীপের আলোয় নিজেকে উদ্ভাসিত করেন গ্রেট ন্যাশানাল থিয়েটারে ‘শত্রুসংহার’ নাটকের মধ্য দিয়ে। ক্রমেই তাঁর অভিনয় দক্ষতা মুগ্ধ করে মানুষকে। মনীষীদের প্রশংসা এবং সেসময়ের খবরের কাগজের পাতায় পাতায় হেডলাইন করে ‘Flower of the native stage’, ‘Primadone of the Bengal stage’ and ‘Moon of the star company’। এরপরও খ্যাতি ও ক্ষমতার চরম সিদ্ধির লগ্নে ১৮৮৭ সালের ১ জানুয়ারি রঙ্গালয়ে তাঁর অভিনয়জীবনের ইতি টানেন।
কিন্তু প্রশ্ন হলো কেন তিনি অভিনয় ছেড়ে দিলেন? কী এমন ঘটনা ঘটেছিল? বিনোদিনী দাসী তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘আমার খাতা’, ‘আমার কথা’ ও ‘আমার অভিনেত্রী জীবন’-এ তাঁর হূদয়ে বোপণ করা যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেন। সেই যন্ত্রণারই এক প্রমাণ্যচিত্র ‘আমার আমি’।