কাগজে-কলমে হাসপাতাল চালু থাকলেও কার্যক্রম নেই
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৪, ২২:২০
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার মান্দারবাড়িয়া গ্রামের সরকারি মা ও শিশু হাসপাতালের অপমৃত্যু হয়েছে। সরকারি নথিপত্রে এটি এখনও চালু আছে। লোকও নিয়োগ আছে। কিন্তু কার্যক্রম বলতে কিছুই নেই। ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ রবিউল ইসলাম জানান, ১৯৬৪ সালে সরকার প্রত্যন্ত এ গ্রামে হাসপাতালটি স্থাপন করে। হাসপাতালটিতে এমবিএস ডাক্তারসহ নার্স, কম্পাউন্ডার ও অন্যান্য স্টাফ সবই ছিল। ১০টি বেড ছিল। দূর-দূরান্ত থেকে চিকিত্সা পেতে মা ও শিশুরা এখানে আসত। ৭১-এ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ডাক্তার নার্সসহ অন্য স্টাফ পালিয়ে যান। স্বাধীনতার পর ফের নতুন করে এ হাসপাতাল চালু হয়। ৯০’র দশক পর্যন্ত ভালই চলে। ডাক্তার অন্যত্র বদলির পর গ্রামে আর নতুন ডাক্তার আসেনি। তখন থেকে হাসপাতালটি ধ্বংসের দিকে এগুতে থাকে। এক সময়ে এ হাসপাতালে কর্মরত আলপনা পাঠক জানান, ১৯৯৩ সালে তিনি এখানে বদলি হয়ে আসেন। ’৯৪ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। এরপরও হাসপাতাল চালু ছিল। সেসময় একজন মেডিক্যাল এ্যাসিস্ট্যান্ট ও একজন ফার্মাসিস্ট ছিলেন। তারপর এটি দ্রুত ধ্বংস হয়। বর্তমানে হাসপাতালটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। দোতলা হাসপাতালের দরজা-জানালা দুর্বৃত্তরা ভেঙ্গে-চুরে নিয়ে গেছে। বেড ও অন্য আসবাবপত্রও কিছু লুট হয়ে গেছে। কিছু দুটি রুমের মধ্যে তালাবদ্ধ অবস্থায় আছে।
হাসপাতালের পাশে ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। কর্মচারীদের অন্যত্র বদলী করা হয়। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের নার্স আয়া পদে দু’জন ও নাইট গার্ড পদে একজন এখনও নিযুক্ত আছে। তাদের ডেপুটেশনে অন্যত্র পাঠানো হয়েছে। কিছুদিন আগেও এ হাসপাতালের নামে টাকা বরাদ্দ আসত। কোনো কার্যক্রম না থাকায় সে টাকা ফেরত পাঠানো হয়।
জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক ডাঃ জাহিদুল আহমেদ জানান, হাসপাতাল ভবন সংস্কার করে ফের চালুর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো সাড়া মেলেনি।