না’গঞ্জের সাত খুনে জড়িতরা চিহ্নিত!

নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় জড়িতদের ‘চিহ্নিত’ করেছে সরকারি তদন্ত কমিটি। এ বিষয়ে দেয়া তাদের অগ্রগতি প্রতিবেদনে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তবে জড়িতদের নাম প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। গতকাল মঙ্গলবার এটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে এ প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। আজ বুধবার বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের ডিভিশন বেঞ্চে এটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম এ অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন বলে জানা গেছে । সরকারি তদন্ত কমিটির সদস্য আইন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মিজানুর রহমান খান সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত সেটা জানতে পেরেছি। কি কারণে তারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, এখন সে বিষয়ে তদন্ত করছি। জড়িতদের সম্পর্কে অধিকতর তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহেরও কাজ চলছে। তবে কমিটি যাদেরকে খুনের সঙ্গে জড়িত বলে চিহ্নিত করেছে তাদের নাম অগ্রগতি প্রতিবেদনে যুক্ত করা হয়নি। যখন চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে তখন খুনের সঙ্গে জড়িতদের নাম যুক্ত করা হবে। মিজানুর রহমান আরো জানান, তদন্ত কমিটি বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে তথ্য চেয়েছে। সব তথ্য হাতে পেলেই তদন্ত সম্পন্ন হবে। এজন্য আমরা আরো চার সপ্তাহ সময় চেয়েছি। এদিকে সরকারের অনুমতি পেলে সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ভারত যেতে চায় সরকারি তদন্ত কমিটি। এ জন্য কমিটি আজ বৈঠকে বসছে। সেখানে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটি প্রধান ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান আলী মোল্লা। গতকাল নিজ দফতরে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। কমিটি প্রধান বলেন, নূর হোসেনকে তো চাইলেই জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারছি না। তবে সরকার অনুমতি দিলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে কমিটি ভারত যাবে। তিনি বলেন, এ খুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মোট ৩৩৫ জনকে জিজ্ঞসাবাদ করা হয়েছে। আরো অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। কমিটির অপর এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সাক্ষীদের জবানবন্দিতে আরো অনেক লোকের নাম এসেছে। তাদের এখনো জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। তাদেরসহ আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছু লোককে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই মূলত সময় চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও সাবেক তিন র্যাব কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদেও অনেক তথ্য উঠে এসেছে। অন্যদিকে সরকারি তদন্ত কমিটি ছাড়াও পুলিশের আইজি, র্যাব ও সিআইডির পক্ষ থেকেও পৃথক প্রতিবেদন এটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। সিআইডির প্রতিবেদন অসঙ্গতিপূর্ণ হওয়ায় তা এটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে ফেরত দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। যথাযথভাবে প্রতিবেদন তৈরি করে আজ জমা দিতে সিআইডি প্রধানকে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, সাত খুনের ঘটনায় বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কিছু অন্তর্বর্তী আদেশ দেয়। আদেশে ওই খুনের ঘটনায় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোন সদস্য জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন, বিভাগীয় তদন্তে র্যাবের কমিটি গঠনের পাশাপাশি হত্যা মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা প্রদানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইজিপিকে নির্দেশ দেয় আদালত। এই নির্দেশ মোতাবেক কমিটি গঠন ও তাদের কার্যক্রম নিয়ে গত ১৫ মে আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করেন বিবাদীরা। প্রতিবেদন দাখিলের পর সাত সদস্যের সরকারি তদন্ত কমিটি দুই ভাগে চার সপ্তাহ করে সময় চান। আদালত সময় মঞ্জুর করে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন ৮ জুলাই আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেয়। ওই নির্দেশ মোতাবেক গতকাল দুপুরে ডেপুটি এটর্নি জেনারেল এএসএম নাজমুল হকের কাছে সরকারি তদন্ত কমিটির অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়।