সরকারের অবহেলায় দক্ষিণ তালপট্টি হারাতে হয়েছে

বাংলাদেশ-ভারত বিরোধপূর্ণ সমুদ্রসীমার রায় প্রসঙ্গে বিএনপি বলেছে, সরকারের ইচ্ছাকৃত অবহেলার কারণেই বঙ্গোপসাগরে দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ হারাতে হয়েছে। ফলে এই এলাকাটি এখন ভারতের অধীনে চলে গেল। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, জিয়াউর রহমানের আমল থেকে দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপটি বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে আমরা দাবি করে আসছি। অথচ রায়ে দ্বীপটি আমাদের সমুদ্র সীমানার মধ্যে পড়েনি। এটা আমাদের পরাজয়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, রায় সম্পর্কে যতটুকু জেনেছি তাতে আমাদের দাবি অনুযায়ী লাভবান হতে পারিনি। বহুল আলোচিত হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মোহনার অদূরে বাংলাদেশের সমুদ্র্রসীমায় দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ আমাদের হারাতে হয়েছে। এ দ্বীপের ন্যায্যত দাবিদার এবং অধিকার আমাদেরই ছিল। তিনি বলেন, সরকার যথাযথ ভূমিকা পালন করলে এই অবস্থা হতে পারতো না। সাবেক পানি সম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এই রায়ে বাংলাদেশ একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চলে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার স্বীকৃতি পায়নি। অন্যদিকে রায়ে ভারতের সমুদ্রসীমানায় মহীসোপান ও একচ্ছত্র ইকনোমিক জোনে তাদের কর্তৃত্ব নির্ধারণ করেছে। এটা অসঙ্গতিপূর্ণ। হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সালিশ আদালতের রায়ে কিছু অসঙ্গতি আছে। সমুদ্রের এক্সক্লুসিভ ইকনোমিক জোনে বাংলাদেশের নিরঙ্কুশ প্রতিষ্ঠা পায়নি। বাংলাদেশের দাবি ছিল- বঙ্গোপসাগর ও ভূমির মূলবিন্দু থেকে সমুদ্রের দিকে ১৮০ ডিগ্রি সোজা রেখা যাবে। ন্যায্যতার ভিত্তিতে সমুদ্র্রসীমানা নির্ধারণ চেয়েছিল বাংলাদেশ। অন্যদিকে ভারতের দাবি ছিল- সমুদ্রতট বিবেচনায় এ রেখা হবে ১৬২ ডিগ্রি থেকে অর্থাত্ সমদূরত্বের ভিত্তিতে। আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের রায়ে বাংলাদেশের প্রাপ্তি এসেছে ১৭৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি। আমাদের প্রাপ্য দাবি ১৮০ ডিগ্রি পেলে আমরা ন্যায় বিচার পেতাম।