নাইকো দুর্নীতি মামলা

মোশাররফের বিরুদ্ধে ঢাকায় সাক্ষ্য দেবে কানাডিয়ান পুলিশ

নাইকো দুর্নীতি মামলায় ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে স্বাক্ষ্য দেবেন রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের দুই কর্মকর্তা। এরা হলেন লয়েড স্কপ এবং গ্রোগারি প্রাউস। এ দুজনই কানাডায় চলমান নাইকো দুর্নীতির তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন। এ দু’জনের স্বাক্ষ্য নেয়ার বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি নেই বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে। উল্লেখ্য, নাইকো দুর্নীতির ঘটনায় শেখ হাসিনার মামলাটি নিষ্পত্তি এবং খালেদা জিয়ার মামলা উচ্চ আদালতে স্থগিতাদেশ থাকলেও মোশাররফের মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৯-এ বিচারধীন রয়েছে। এ দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশ ৭৫০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়। দুদক সূত্র জানায়, মামলার বিচারে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য ইতিমধ্যে কানাডিয়ান এ দুজন কানাডার ডিপার্টম্যান্ট অব জাস্টিসের মাধ্যমে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে আবেদন করেছেন। এ আবেদনটি বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনে রয়েছে। আবেদনে মোশাররফ ছাড়াও নাইকো রিসোর্সেস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের সাবেক প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফের বিরুদ্ধেও সাক্ষ্য দেয়ার ব্যাপারে তারা আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দুদক সূত্র জানায়, কানাডার কোম্পানি নাইকো রিসোর্সেস লিমিটেডের কাছ থেকে বিলাসবহুল টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার গাড়ি ও ভ্রমণ বাবদ ৫ লাখ ডলার ঘুষ নেয়ার অভিযোগে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করে দুদক। একই মামলার আসামি করা হয়েছে নাইকোর ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফকে। তাকে আসামি করা হয়েছে ঘুষ দেয়ার অভিযোগে। এ দু’জনের বিরুদ্ধে ওই বছরের আগস্টে আদালতে চার্জশিট দাখিল হয়। দুদকের মামলার তদন্তে বলা হয়, সাবেক প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন ফেনী গ্যাস ক্ষেত্র থেকে উত্তোলিত গ্যাসের ক্রয়চুক্তি (জিপিএসএ) সম্পাদনের প্রাক্কালে নাইকোকে সুবিধা প্রধানের অসত্ উদ্দেশ্যে নাইকো রিসোর্সেস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের তত্কালীন প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফের কাছ থেকে ৯৫ লাখ ৫৮ হাজার টাকা মূল্যের একটি ল্যান্ড ক্রুজার জিপ ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করেন। পরে রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) ও বাংলাদেশের পেট্রোবাংলা পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। দুটি তদন্ত কমিটি প্রতিমন্ত্রীর ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে।