ক্ষমা চাইলেন স্কোলারি

ব্রাজিল কোচ লুই ফিলিপ স্কোলারি জার্মানির কাছে তার দলের ৭-১ গোলে হারের দায় নিজের কাঁধে নিয়েছেন। নিজেদের মাঠে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের হারটিকে নিজের জীবনের সবচেয়ে বাজেতম দিন হিসেবেও উল্লেখ করেন ৬৫ বছর বয়সী এ কোচ। অমন বাজে খেলার জন্য তিনি ক্ষমাও চেয়েছেন ব্রাজিলিয়ানদের কাছে। বেলো হরাইজোন্তেতে গত মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত খেলাটিতে স্বাগতিকরা প্রথমার্ধেই ৫-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে। অপরদিকে জার্মানরা দাপটে খেলে পৌঁছে যায় ফাইনালে। দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুইটি গোল দিয়ে জয়ের পাল্লা আরও ভারি করে কোচ জোয়াকিম লোর দল। ব্রাজিলকে ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জেতানো স্কোলারি বলেন,‘কোচ হিসেবে আমি ৭-১ গোলের জন্যই স্মরণে থাকবো। কিন্তু দায়িত্বটা নেয়ার সময়ই আমি এ ঝুঁকির কথা জানতাম। যে ব্যক্তি দলের এই লাইন-আপ, ট্যাকটিসের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সেটা আমিই। এটা ছিল আমারই বেছে নেয়া।’ এর আগে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় পরাজয়টা ছিল ৩-০ ব্যবধানের, ফ্রান্সের বিপক্ষে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে। এবারের সেমিফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে হারটি অতীতকেও ছাড়িয়ে গেছে। স্কোলারি এই ফলটিকে বর্ণনা করেছেন ‘সর্বনাশা’ হিসেবে। নিজেদের মাঠে বিশ্বকাপে লক্ষ্য পূর্ণ না হওয়ায় ব্রাজিলিয়ানদের কাছে ক্ষমাও চাইলেন এই কোচ, ‘ব্রাজিলিয়ান জনগণের কাছে আমার বার্তা হল এই পারফরম্যান্সের জন্য তারা যেন দয়া করে আমাদের ক্ষমা করে। ফাইনালে পৌঁছাতে না পারায় আমরা দুঃখিত। তবে আমরা তৃতীয়স্থান নির্ধারণী ম্যাচটা জয়ের চেষ্টা করবো। এখনো আমাদের খেলার মতো কিছু লক্ষ্য আছে।’ ব্রাজিলই হলো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে সাত গোল হজম করা প্রথম দল। তারা এখন তৃতীয়স্থান নির্ধারণী ম্যাচে বুধবার দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ম্যাচে পরাজয়ী দলের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। স্কোলারি এর আগেও এরকম একটা বাজে হারের কবলে পড়েছিলেন। সেটি ছিল পর্তুগালের হয়ে দায়িত্ব পালনের সময়। সেবার ইউরো-২০০৪ আসরের ফাইনালে অপ্রত্যাশিতভাবে নিজেদের মাঠে গ্রীসের কাছে হেরেছিল স্কোলারির পর্তুগাল। ব্রাজিল ফাইনাল নিশ্চিত করার ওই লড়াইয়ে জার্মানির মুখোমুখি হওয়ার আগে ১৪টি খেলায় অপরাজিত ছিল। শুধু তাই নয় কলম্বিয়ার বিরদ্ধে মেরুদণ্ডের হাড়ে চিড় ধরা তারকা স্ট্রাইকার নেইমারের অনুপস্থিতিকেও তিনি বড় করে দেখেননি। তিনি বলেন,‘নেইমারের জন্য কোন অজুহাত দেখানোর চেষ্টা করা ঠিক হবে না।’ ব্রাজিল এ খেলাটিতে ২৯ মিনিটেই পাঁচ গোল হজম করে। জার্মানরা ১১ মিনিটে ১-০, ২৩ মিনিটে ২-০, ২৪ মিনিটে ৩-০, ২৬ মিনিটে ৪-০ এবং ২৯ মিনিটে ৫-০ ব্যবধান গড়ে নিয়েছিল। সেটি ছিল এক অবর্ণনীয় দশা। গোলের পর গোল। মুড়িমুড়কির মতো বল ঢুকছিল ব্রাজিলের জালে। এমনকি ৩৬ বছর বয়সী মিরোস্লাভ ক্লোসাও বিশ্বকাপে সবচাইতে বেশি ১৬ গোলের রেকর্ডটি গড়ে নেন এই রাতে। স্কোলারি অবশ্য এরপরও দাবি করেন,‘আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমরা দুর্দান্ত একটা জার্মান দলের কবলে পড়ে যাই। পিছিয়ে পড়ার পর আমরা জবাব দিতে পারিনি। এমনকি জার্মানরাও আপনাকে বলতে পারবে না কিভাবে এমনটি ঘটলো। তবে এটা হলো তাদের দক্ষতা। আপনাকে এটা মানতেই হবে।’ পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এর আগে কখনোই বিশ্বকাপের খেলায় পাঁচ গোলের বেশি হজম করেনি। গোল হজমের আগের নজিরটি ছিল ১৯৩৮ সালের যেবার তারা পোলান্ডের বিরুদ্ধে ৬-৫ গোলে জিতেছিল। শুধু তাই নয় সব ধরনের খেলা মিলিয়েও ব্রাজিলের বাজে হারের যে রেকর্ড তাকেও ছাড়িয়ে গেল জার্মানদের কাছে মঙ্গলবার রাতের বিধ্বস্ত হবার ঘটনায়। কেননা আগের রেকর্ডটি হলো ১৯২০ সালে উরুগুয়ের কাছে ৬-০ গোলের হারের।