রকমারি ইফতারির রমরমা পসরা

রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড। দেখা গেল ইফতারির পসরা নিয়ে টেবিল পেতে বসার সেই পরিচিত দৃশ্য। দুপুর গড়িয়ে বিকাল হতেই দোকানিরা বসে পড়েন ইফতারির পসরা নিয়ে। ছোট্ট সামিয়ানা টানিয়ে ইফতারি বিক্রির আলাদা ব্যবস্থা করেছে হোটেলগুলো। অনেক হোটেল-রেস্তোরাঁর সামনে ক্রেতাদের ভিড় লেগেছিল ইফতারের আগ পর্যস্ত। এক কথায় দুপুরের পর থেকেই ইফতারকে ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছিল রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড। মাথায় টুপি লাগিয়ে ইফতার বিক্রেতারা পসরা সাজিয়ে বসেছেন। বিপরীত দিকে বেলা যতই গড়াচ্ছিল ততই বাড়ছিল ক্রেতা সমাগম। কী ফুটপাত, কী রেস্টুরেন্ট, গলিপথেও ইফতারির ছোট-বড় দোকান। কোথাও রাস্তার উপরই বসানো হয়েছে ইফতারির পসরা। বিভিন্ন রঙের সামিয়ানা, বাঁশ আর টেবিল বসিয়ে পুরো ফুটপাত দখলে নিয়েছে ব্যবসায়ীরা। সর্বত্রই ক্রেতাদের আকর্ষণে চলেছে বাহারি রঙ আর স্বাদের ইফতারি আইটেম বানানোর প্রতিযোগিতা। তবে এলিফ্যান্ট রোডের স্টার হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। ইফতারের ৩৬টি আইটেম বানিয়ে ক্রেতাদের মন জয় করেছে এই রেস্টুরেন্টটি। কথা হয় স্টার হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টের পরিচালক মীর আক্তার উদ্দীন দুলালের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমার বাবা মীর মমতাজ উদ্দীনের আবেগ আর ভালোবাসায় গড়া প্রতিষ্ঠান এটি। আমরা সবসময় সেবার মানসিকতা নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করি। অল্প খরচে ইফতারের ভালো আইটেম এখানে পাওয়া যায়। এছাড়া সেহরির ব্যবস্থাও আছে। তিনি আরো বলেন, রাজধানীতে আমাদের ৭টি শাখা আছে। সবগুলোতেই ইফতার এবং সেহরির সুব্যবস্থা আছে। এবছর হালিম, খাসির চাপ এবং লেগ রোস্টের চাহিদা সবচেয়ে বেশি বলে জানান তিনি। এলিফ্যান্ট রোডের হোটেল এবং রেস্টুরেন্ট ঘুরে মেন্যু হিসেবে দেখা গেছে, খাসির গ্রিল চাপ প্রতিকেজি ৫৪০ টাকা, খাসির লেগ কাবাব প্রতি পিস ২৬০ টাকা, খাসির লেগ রোস্ট প্রতি পিস ২৬০ টাকা, খাসির হালিম প্রতি পেয়ালা ৫০ টাকা, চিকেন ফুল রোস্ট মাঝারি প্রতি পিস ৩০০ টাকা, চিকেন ফুল রোস্ট ছোট প্রতি পিস ২০০ টাকা, চিকেন কেরাম রোস্ট প্রতি পিস ৮০ টাকা, চিকেন কাকলেট প্রতি পিস ৪০ টাকা, চিকেন ফ্রাই প্রতি পিস ৫০ টাকা, চিকেন উইংস প্রতি পিস ২০ টাকা, চিকেন সাসলিক প্রতি পিস ৪০ টাকা, চিকেন রোল প্রতি পিস ১৫ টাকা, চিকেন টোস্ট প্রতি পিস ১৫ টাকা, চিকেন অনথন প্রতি পিস ২০ টাকা, ভেজিটেবল রোল প্রতি পিস ১৫ টাকা, স্প্রিং রোল প্রতি পিস ১৫ টাকা, চাইনিজ রোল প্রতি পিস ১৫ টাকা, চিকেন নাগেট প্রতি পিস ২৫ টাকা, দই বড়া প্রতি পিস ২০ টাকা, নার্গিস কাবাব প্রতি পিস ৪০ টাকা, সামি বা জালি কাবাব প্রতি পিস ১৫ টাকা, জিলাপি প্রতি কেজি ১৪০ টাকা, ছোলা প্রতি কেজি ১২০ টাকা, ডাবলী প্রতি কেজি ৮০ টাকা, নিমক পড়া প্রতি কেজি ৮০ টাকা, ডিম চপ প্রতি পিস ১৫ টাকা, পিঁয়াজু প্রতি পিস ৫ টাকা, বেগুনী প্রতি পিস ৫ টাকা, আলুর চব প্রতি পিস ৫ টাকা, কচুরী প্রতি পিস ৫ টাকা, ফুলরী প্রতি পিস ৫ টাকা, সিঙ্গারা প্রতি পিস ৫ টাকা, চিকেন সমুচা প্রতি পিস ৫ টাকা, পনির সমুচা প্রতি পিস ২০ টাকা এবং মাটন সমুচা প্রতি পিস ১০ টাকা করে বিক্রি করা হচ্ছে।