পাঞ্জাবি ও প্যান্টের দোকানে ভিড়

ঈদের কেনাকাটা ঈদের নামাজ আর নতুন পাঞ্জাবি আমাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। মানুষ যতই আধুনিক হোক কিংবা পাশ্চাত্যের ফ্যাশনে নিজেকে সাজাক, ঈদ এলেই দেখা যায় সেই ঐতিহ্যে প্রত্যাবর্তন। তাই আমাদের পাঞ্জাবি বিক্রির হার বেশি, এমনটাই বলেন এলিফ্যান্ট রোডস্থ জহির এসি মার্কেটের জ্যান্টল পার্ক ব্যবস্থাপক তানভির রানা। তিনি জানান, তারা এবছর সূতি স্ট্রাইপ পাঞ্জাবীকে গুরুত্ব দিয়েছেন। এই পাঞ্জাবির চাহিদাও বেশি। এখনও তেমন করে ঈদ কেনাকাটা শুরু না হলেও তারা প্রতিদিন গড়ে ৫/৬টি পাঞ্জাবি বিক্রি করছেন। পাশাপশি পায়জামাসহ পাঞ্জাবির সেট, জিন্স প্যান্ট , টি-শার্ট, শার্ট বিক্রি হচ্ছে। গতকাল নগরীর এলিফ্যান্ট রোড , ধানমন্ডি, রাপা-প্লাজা, বসুন্ধরা সিটি শপিংমল ও পলওয়েল সুপার মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে ঢিলেঢালাভাবে ছেলেরা তাদের পছন্দের পোশাক কিনতে নেমেছেন। সবার আগে তারা ঈদের নামাজের জন্য পাঞ্জাবিকে বেছে নিচ্ছেন। চাহিদার পরের স্তরেই আছে টি-শার্ট জিন্স এবং শার্ট। ক্রেতারা বলছেন ডিজাইনে সামান্য একটু নতুনত্ব আসলেও গতবারে ডিজাইনের সাথে তেমন কোন পার্থক্য নেই। ডিজেন, বিফর এস প্রভৃতি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের প্যান্টের চাহিদা বেশি। মাকতুম মাহাদী ওয়ার্ল্ড ইউনির্ভাসিটির ছাত্র। সে জ্যান্টল পার্ক থেকে পিঙ্ক আকাশী স্ট্রাইপের একটি পাঞ্জাবি কিনলেন ১১৫০টাকায়। মাকতুম বলেন, দামের মধ্যে তার পাঞ্জাবিটি ভাল হয়েছে। তবে এবার জিন্সের প্যান্টের দাম একটু বেশি। গতবারের মতো আবারও স্কাইব্লু, কালো, এ্যাস প্রভৃতি কালারের জিন্সের প্যান্টের চাহিদা বেশি বলে জানান পলওয়েল মার্কেটের নিপ্রীতা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী এ বি এম সালাউদ্দিন বাসার। বাসার বলেন, সবে মার্কেট জমতে শুরু করেছে। পনের রোজার পরে আশা করেন পুরোদস্তুর বেচাকেনা শুরু হবে। পাইকারী ও খুচরা ব্যবসায়ী হওয়ায় তারা দুই বাজারে অবস্থাই নজর রাখেন। সব বিবেচনায় এখনও হতাশ হওয়ার কোন কারণ নেই বলে জানান বাসার। তবে তার সাথে একমত প্রকাশ করতে পারেননি তানভির। কারণ গতবার দশ রোজায় অবধি তাদের গড়ে এক থেকে দেড় লাখ টাকা বিক্রি হলেও এখন হয়ে ষাট থেকে সত্তর হাজার টাকা। এলিফ্যন্ট রোড ও বসুন্ধরা সিটির শপিংমল ক্যাটস্ আই ঘুরে জানা গেল দশ রোজায় তাদের ক্রেতা সমাগম মোটামুটি ভাল। ব্যবস্থাপক বেলাল হোসেন জানান, তারা তাদের ক্রেতাদের চাহিদাকে মূল্য দিয়ে পণ্যের দাম নির্ধারণ করেন। তাই অন্য ব্র্যান্ডের চেয়ে তাদের পণ্যের দাম কম। আর ঈদকে সামনে রেখে পণ্যের দাম সেভাবে বাড়ানও হয় না। কারণ তারা লক্ষ্য করেন সামান্য মূল্য বৃদ্ধিতে ক্রেতার উপর এর প্রভাব পড়ে। এলিফ্যন্ট রোডের প্লাস পয়েন্ট শোরুমের ব্যবস্থাপক সাহাদাত্ হোসেন বলেন, তাদের প্যান্টের গ্রাহক বেশি। মিরপুর নিবাসী তিন বন্ধুর মতে, গতবারে যে প্যান্টের দাম ছিল বাইশশ’, এবছর তা বেড়ে হয়েছে ২৭শ’ থেকে তিন হাজার টাকা। তবে তাদের অভিযোগ ঠিক নয় বলে জানায় এসকল এলাকার বিক্রেতারা। তারা বলেন তাদের সব চেয়ে বেশি বেচা কেনা হয় রমজানের ঈদে।