অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৪, ২১:৩২
ঢাকায় খুন, হত্যা চেষ্টা, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির ঘটনায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর থেকেই কার্যত র্যাবের অভিযান অনেক কমে গেছে। র্যাবের অভিযান অনেকাংশে কমে যাওয়ায় সন্ত্রাসীরা এখন সহজেই আগ্নেয়াস্ত্র বহন করতে পারছে। গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা সাম্প্রতিক সময় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বাড়ার কথা স্বীকার করে বলেন, বেশ কিছু দিন বন্ধ থাকার পর সীমান্ত এলাকা থেকে আবারও বিভিন্ন পথে অস্ত্র আসছে। ফলে সহজেই সন্ত্রাসীদের কাছে অস্ত্র পৌঁছে যাচ্ছে।
ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি এনামুল হক শামীমকে তিনজন আগ্নেয়াস্ত্রধারী প্রকাশ্যে গুলি করে। গত এপ্রিলে ঢাকায় ১৮টি ছিনতাইয়ের ঘটনায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার হয়েছে। মে মাসে ২৪টি ছিনতাইয়ের ঘটনায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার হয়েছে বলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ গত জানুয়ারিতে উদ্ধার করে ১১টি পিস্তলসহ ৩১টি আগ্নেয়াস্ত্র। ফেব্রুয়ারিতে উদ্ধার হয় ৮টি পিস্তলসহ ৪০টি আগ্নেয়াস্ত্র। মার্চে ১৪টি পিস্তলসহ ২৬টি আগ্নেয়াস্ত্র। এপ্রিল মাসে উদ্ধার করা হয় ১১টি পিস্তলসহ ৩২টি আগ্নেয়াস্ত্র। মে মাসে উদ্ধার হয় ১০টি পিস্তলসহ ৩৭টি আগ্নেয়াস্ত্র।
ডিএমপি’র মিডিয়া এ্যান্ড পাবলিক রিলেশন শাখার উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, ছিনতাই ও গুলি করে হত্যার ঘটনাগুলো পুলিশ যথাযথভাবে তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিচ্ছে। অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ব্যাপারে ডিএমপির প্রতিটি থানাকে পৃথকভাবে নির্দেশনা দেয়া আছে। পুলিশ নির্দেশনা অনুযায়ী গত দুই মাসে বেশ কয়েকটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছে।
র্যাবের লিগ্যাল এ্যান্ড মিডিয়া শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এটিএম হাবিবুর রহমান বলেন, মেহেরপুর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া ও যশোর সীমান্ত এলাকার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট দিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র প্রবেশের ঘটনা ধরা পড়েছে। এছাড়া দেশের আরো কয়েকটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র প্রবেশের খবর রয়েছে।
পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা প্রায় আড়াই হাজার বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। পুলিশ সদর দফতরের তথ্য অনুযায়ী সারাদেশে গত জানুয়ারিতে ১৭২টি, ফেব্রুয়ারিতে ১৬০টি, মার্চে ১৭১টি, এপ্রিলে ১৮১টি ও মে মাসে ১৫২টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্রের কয়েকগুণ বেশি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র আসছে।